পেঁয়াজ উৎপাদনের অন্যতম জেলা পাবনায় হঠাৎ করেই কমে গেছে পেঁয়াজের দাম। এক মাসের ব্যবধানে প্রতি মণ পেঁয়াজের দাম প্রায় ৪০০ টাকা কমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাটে পাইকারি বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায়, যা মাসখানেক আগে ছিল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা।
বুধবার পাবনা বড় বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী মমিন হোসেন জানান, বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগেও এর দাম ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।
ব্যবসায়ীদের মতে, চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। পাশাপাশি অধিকাংশ কৃষকের পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় তারা দ্রুত পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম কমে গেছে।
চাটমোহর উপজেলার ভাদড়া গ্রামের কৃষক হাসু প্রামানিক জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন। মাসখানেক আগে প্রতি মণ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি করলেও এখন একই পেঁয়াজ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ উঠবে কি না, তা নিয়ে তিনি শঙ্কায় রয়েছেন।
সাঁথিয়া উপজেলার কোনাবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ বলেন, গত সোমবার বোয়াইলমারী হাটে তিনি প্রতি মণ পেঁয়াজ ৯০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। এ দামে বিক্রি করে লোকসান গুনতে হচ্ছে। সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) রাফিউল ইসলাম বলেন, এ বছর জেলায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে অধিকাংশ কৃষকের আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় সবাই প্রায় একই সময়ে বাজারে পেঁয়াজ নিয়ে আসছেন। এতে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমেছে।
তিনি জানান, জেলায় প্রায় এক লাখ পেঁয়াজচাষী থাকলেও মাত্র আড়াই হাজার কৃষক আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধার আওতায় রয়েছেন। বাকি কৃষকরা নিজস্ব পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেন। পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে তারা দ্রুত বাজারে বিক্রি করতে বাধ্য হন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর পাবনায় ৫৩ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ৫৪ হাজার ৩৩৫ হেক্টরে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৪৭৩ মেট্রিক টন, তবে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৯৫ হাজার ৩৬৭ মেট্রিক টন, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

অনলাইন ডেস্ক 



















