ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ ছয় টুকরা করেছিলেন স্ত্রী

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • 36
blank

রাজধানীর মহাখালী এলাকায় স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ ছয় টুকরা করার ঘটনায় স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মরদেহ গুমের অভিযোগে তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার ১৬তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নিপু এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) খন্দকার শফি নেওয়াজ নাসির রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাহিমুল করিম আকন্দ জানান, রায় ঘোষণার সময় কারাগার থেকে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩০ মে রাতে মহাখালীর আমতলী এলাকায় একটি ড্রামের ভেতর থেকে এক ব্যক্তির মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে বনানী থানা পুলিশ। একই রাতে মহাখালী বাস টার্মিনালের এনা কাউন্টারের সামনে একটি ব্যাগ থেকে উরু থেকে বিচ্ছিন্ন দুই পা এবং কাঁধ থেকে বিচ্ছিন্ন দুই হাত উদ্ধার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ। পরবর্তী সময়ে মরদেহের অন্যান্য অংশও উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগ তদন্ত শুরু করে। অভিযানের ১২ ঘণ্টার মধ্যে ফাতেমা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তে পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহ, অর্থসংক্রান্ত বিরোধ এবং একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে স্বামী ময়না মিয়া ওরফে শাকিলের সঙ্গে ফাতেমার বিরোধ তৈরি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি পরিকল্পিতভাবে স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করার পর হত্যা করেন এবং পরে মরদেহ কয়েকটি অংশে বিভক্ত করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন।

ঘটনার পর ১ জুন নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর ফাতেমা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর মামলার তদন্ত শেষে ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের পরিদর্শক কাজী শরীফুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ২০২৩ সালের ১২ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।

মামলার বিচার চলাকালে ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আত্মপক্ষ সমর্থনে আসামি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন।

জনপ্রিয় খবর

স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ ছয় টুকরা করেছিলেন স্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
blank

রাজধানীর মহাখালী এলাকায় স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ ছয় টুকরা করার ঘটনায় স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মরদেহ গুমের অভিযোগে তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার ১৬তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নিপু এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) খন্দকার শফি নেওয়াজ নাসির রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাহিমুল করিম আকন্দ জানান, রায় ঘোষণার সময় কারাগার থেকে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩০ মে রাতে মহাখালীর আমতলী এলাকায় একটি ড্রামের ভেতর থেকে এক ব্যক্তির মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে বনানী থানা পুলিশ। একই রাতে মহাখালী বাস টার্মিনালের এনা কাউন্টারের সামনে একটি ব্যাগ থেকে উরু থেকে বিচ্ছিন্ন দুই পা এবং কাঁধ থেকে বিচ্ছিন্ন দুই হাত উদ্ধার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ। পরবর্তী সময়ে মরদেহের অন্যান্য অংশও উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগ তদন্ত শুরু করে। অভিযানের ১২ ঘণ্টার মধ্যে ফাতেমা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তে পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহ, অর্থসংক্রান্ত বিরোধ এবং একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে স্বামী ময়না মিয়া ওরফে শাকিলের সঙ্গে ফাতেমার বিরোধ তৈরি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি পরিকল্পিতভাবে স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করার পর হত্যা করেন এবং পরে মরদেহ কয়েকটি অংশে বিভক্ত করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন।

ঘটনার পর ১ জুন নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর ফাতেমা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর মামলার তদন্ত শেষে ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের পরিদর্শক কাজী শরীফুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ২০২৩ সালের ১২ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।

মামলার বিচার চলাকালে ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আত্মপক্ষ সমর্থনে আসামি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন।