ঢাকা বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপপুরের ‘গ্রিন সিটি’ প্রকল্পে কেনাকাটায় কোটি কোটি টাকার অনিয়ম

blank

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবাসন প্রকল্পে আলোচিত ‘বালিশ–কাণ্ড’-এর পর এবার বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের সরঞ্জাম ও জেনারেটর কেনায় বড় ধরনের অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) কার্যালয়ের নিরীক্ষায় দেখা গেছে, সরকারি দরের তুলনায় প্রায় আট গুণ বেশি দামে এসব সরঞ্জাম কেনা হয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রূপপুর প্রকল্পের আবাসন এলাকা ‘গ্রিন সিটি’র ১১টি ভবনের বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের সরঞ্জাম ও জেনারেটর কেনায় সরকারি হিসাবে প্রায় ২৭ কোটি টাকার যন্ত্রপাতির বিপরীতে ২১৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৮৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

সিএজির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্ধারিত দর ও দাপ্তরিক প্রাক্কলনের তুলনায় অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে যন্ত্রপাতি কিনে সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের রূপপুর প্রকল্পের আবাসিক ভবন নির্মাণের কাজ আমানতভিত্তিকভাবে বাস্তবায়ন করে গণপূর্ত অধিদপ্তর। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় ই-জিপি পদ্ধতিতে ১১টি ভবনের বাহ্যিক বিদ্যুতায়নের জন্য দরপত্র আহ্বান করে।

এর আগে রূপপুর প্রকল্পে বালিশ, আসবাবপত্র ও ভবন নির্মাণসামগ্রী কেনায় অস্বাভাবিক ব্যয়ের অভিযোগ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এবার বিদ্যুৎ সরবরাহের সরঞ্জাম কেনায়ও দরপত্র প্রণয়ন, দর মূল্যায়ন, কার্যাদেশ প্রদান, বিল অনুমোদন এবং অর্থ পরিশোধ—প্রায় প্রতিটি ধাপেই অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে নিরীক্ষা বিভাগ।

সিএজির এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নিরীক্ষায় কয়েকটি যন্ত্রপাতির দাম সরকারি দরের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট দর প্রাক্কলনের কাছাকাছি রাখা হলেও নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের মূল্য কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেখানো হয়। এছাড়া দর যাচাই, প্রাক্কলন কমিটি গঠন ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায়ও নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আপত্তিকৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় খবর

রূপপুরের ‘গ্রিন সিটি’ প্রকল্পে কেনাকাটায় কোটি কোটি টাকার অনিয়ম

প্রকাশের সময় : ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
blank

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবাসন প্রকল্পে আলোচিত ‘বালিশ–কাণ্ড’-এর পর এবার বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের সরঞ্জাম ও জেনারেটর কেনায় বড় ধরনের অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) কার্যালয়ের নিরীক্ষায় দেখা গেছে, সরকারি দরের তুলনায় প্রায় আট গুণ বেশি দামে এসব সরঞ্জাম কেনা হয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রূপপুর প্রকল্পের আবাসন এলাকা ‘গ্রিন সিটি’র ১১টি ভবনের বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের সরঞ্জাম ও জেনারেটর কেনায় সরকারি হিসাবে প্রায় ২৭ কোটি টাকার যন্ত্রপাতির বিপরীতে ২১৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৮৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

সিএজির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্ধারিত দর ও দাপ্তরিক প্রাক্কলনের তুলনায় অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে যন্ত্রপাতি কিনে সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের রূপপুর প্রকল্পের আবাসিক ভবন নির্মাণের কাজ আমানতভিত্তিকভাবে বাস্তবায়ন করে গণপূর্ত অধিদপ্তর। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় ই-জিপি পদ্ধতিতে ১১টি ভবনের বাহ্যিক বিদ্যুতায়নের জন্য দরপত্র আহ্বান করে।

এর আগে রূপপুর প্রকল্পে বালিশ, আসবাবপত্র ও ভবন নির্মাণসামগ্রী কেনায় অস্বাভাবিক ব্যয়ের অভিযোগ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এবার বিদ্যুৎ সরবরাহের সরঞ্জাম কেনায়ও দরপত্র প্রণয়ন, দর মূল্যায়ন, কার্যাদেশ প্রদান, বিল অনুমোদন এবং অর্থ পরিশোধ—প্রায় প্রতিটি ধাপেই অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে নিরীক্ষা বিভাগ।

সিএজির এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নিরীক্ষায় কয়েকটি যন্ত্রপাতির দাম সরকারি দরের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট দর প্রাক্কলনের কাছাকাছি রাখা হলেও নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের মূল্য কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেখানো হয়। এছাড়া দর যাচাই, প্রাক্কলন কমিটি গঠন ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায়ও নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আপত্তিকৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত আনার সুপারিশ করা হয়েছে।