ঢাকা শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চিরনিদ্রায় নাট্যজন আতাউর রহমান: বাংলা নাট্যাঙ্গনে একটি নক্ষত্রের পতন

blank

বাংলা নাট্যাঙ্গনের কিংবদন্তি পুরুষ, স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য অভিনেতা ও নির্দেশক আতাউর রহমান আর নেই। সোমবার (১১ মে) দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

বরেণ্য এই নাট্যজনের প্রয়াণে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা রওনক হাসান এবং অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু।

আতাউর রহমান দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন। তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বাসায় পড়ে গিয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। তার মেয়ে শর্মিষ্ঠা রহমান জানিয়েছিলেন, একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সোমবার মধ্যরাতে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।

১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করা আতাউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের মঞ্চনাটককে সমৃদ্ধ করতে তার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি একাধারে অভিনেতা, নির্দেশক, নাট্যকার ও লেখক হিসেবে নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। শিল্পকলায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদকে ভূষিত করে।

তার প্রয়াণ কেবল একজন ব্যক্তির বিদায় নয়, বরং বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির একটি অধ্যায়ের অবসান।

জনপ্রিয় খবর
blank

মুসলিম ফুটবলারদের সম্মানে ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কারে অ্যালকোহল ব্র্যান্ডিং বাদ দিচ্ছে ফিফা

চিরনিদ্রায় নাট্যজন আতাউর রহমান: বাংলা নাট্যাঙ্গনে একটি নক্ষত্রের পতন

প্রকাশের সময় : ০৮:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
blank

বাংলা নাট্যাঙ্গনের কিংবদন্তি পুরুষ, স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য অভিনেতা ও নির্দেশক আতাউর রহমান আর নেই। সোমবার (১১ মে) দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

বরেণ্য এই নাট্যজনের প্রয়াণে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা রওনক হাসান এবং অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু।

আতাউর রহমান দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন। তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বাসায় পড়ে গিয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। তার মেয়ে শর্মিষ্ঠা রহমান জানিয়েছিলেন, একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সোমবার মধ্যরাতে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।

১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করা আতাউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের মঞ্চনাটককে সমৃদ্ধ করতে তার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি একাধারে অভিনেতা, নির্দেশক, নাট্যকার ও লেখক হিসেবে নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। শিল্পকলায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদকে ভূষিত করে।

তার প্রয়াণ কেবল একজন ব্যক্তির বিদায় নয়, বরং বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির একটি অধ্যায়ের অবসান।