দীর্ঘ উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। বুধবার সকালে এই ঘোষণা আসার পর থেকেই তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নেমে এসেছেন হাজার হাজার মানুষ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, রাতভর চরম উত্তেজনার পর যুদ্ধবিরতির খবর ইরানিদের মাঝে বয়ে এনেছে স্বস্তির জোয়ার।
রাজপথে বিজয়োল্লাস ও উৎসব
আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল থেকেই তেহরানের রাজপথ লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। সাধারণ মানুষকে জাতীয় পতাকা এবং প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি হাতে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। ইরানিদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে যুদ্ধের আতঙ্ক কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকাঙ্ক্ষা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ট্রাম্পের প্রধান শর্ত: হরমুজ প্রণালি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন ইরান আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণ ও নিরাপদভাবে’ খুলে দেবে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই রুটটি স্বাভাবিক করার ওপরই যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নির্ভর করছে বলে ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে দিয়েছে।
মধ্যস্থতায় পাকিস্তান: সাফল্যের নেপথ্যে শাহবাজ শরিফ
এই ঐতিহাসিক সমঝোতার পেছনে মূল কারিগর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বিবিসির তথ্যমতে, তার সফল মধ্যস্থতায় ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে রাজি হয়েছে। এক বিবৃতিতে শাহবাজ শরিফ বলেন: “আমি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে।”
পরবর্তী গন্তব্য ইসলামাবাদ: চূড়ান্ত চুক্তির প্রত্যাশা
যুদ্ধবিরতি কেবল শুরু মাত্র। বিরোধের স্থায়ী নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আগামী ১০ এপ্রিল (শুক্রবার) ইসলামাবাদে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আহ্বান করেছে পাকিস্তান। এই বৈঠকে উভয় পক্ষকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে শাহবাজ শরিফ একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রভাব
যুদ্ধবিরতির খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার এই পূর্বাভাস বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। তবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন হামলার খবরের দিকে কড়া নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 



















