ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পারস্য উপসাগরে ইরানের অবরোধ: সংকটে ২ সহস্রাধিক জাহাজ ও ২০ হাজার নাবিক

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১১:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • 47
blank

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর অবরোধের ফলে পারস্য উপসাগরে এক নজিরবিহীন মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বর্তমানে সেখানে ৩২০টি তেল ও গ্যাস ট্যাঙ্কারসহ অন্তত ২ হাজার ১৯০টি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়ে আছে। বের হওয়ার পথ প্রায় রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলটি এখন বিশ্বের অন্যতম বড় ‘শিপিং ট্রাফিক জ্যামে’ পরিণত হয়েছে।

স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ব বাণিজ্য

সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘কেপলার’-এর তথ্যমতে, আটকা পড়া জাহাজগুলোর মধ্যে ৫০টি অপরিশোধিত তেলবাহী এবং ১২টি বিশাল এলএনজি (LNG) ট্যাঙ্কার রয়েছে। সাধারণত এই রুট দিয়ে দৈনিক গড়ে ১২০টি জাহাজ চলাচল করলেও, সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পর গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৬টি জাহাজ প্রণালিটি পার হতে পেরেছে।

‘তেহরান টোল বুথ’ ও বিতর্কিত করিডোর

বর্তমানে হরমুজ প্রণালির ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে ইরান। লারাক দ্বীপের পাশ দিয়ে একটি বিশেষ করিডোর দিয়ে সীমিত পরিসরে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলেও বিনিময়ে চড়া মাশুল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

  • ফি: প্রতিটি জাহাজ পার করে দিতে ২০ লাখ ডলার (প্রায় ২৪ কোটি টাকা) পর্যন্ত দাবি করছে ইরান।

  • বিশেষ সুবিধা: তবে মালয়েশিয়ার মতো ‘বন্ধুপ্রতীম’ দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই ফি মওকুফের ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।

  • চীন ও ভারত: চীন বিশেষ সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের জাহাজ পার করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি আরব থেকে জ্বালানি নিয়ে ভারত অভিমুখী কিছু জাহাজ অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে এই পথ অতিক্রম করছে।

চরম ঝুঁকিতে ২০ হাজার নাবিক

কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং গভীর সমুদ্রে আটকা পড়া প্রায় ২০ হাজার নাবিকের জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তায়। মাইন, ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভয়ে অনেক জাহাজ রাতে নেভিগেশন ট্র্যাকার বন্ধ করে চলাচল করছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া

এই গভীর সংকট নিরসনে বিশ্বনেতারা সরব হয়ে উঠেছেন:

যুক্তরাজ্য: সমস্যা সমাধানে ইতিমধ্যে ৩৫টি দেশের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছে দেশটি।

চীন ও পাকিস্তান: দুই দেশই এক যৌথ বিবৃতিতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, দ্রুত অবরোধ তুলে না নিলে তেহরানকে কঠিন সামরিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

সূত্র: আরব নিউজ

জনপ্রিয় খবর
blank

ঝড়ো বৃষ্টি উপেক্ষা করে কক্সবাজার সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পারস্য উপসাগরে ইরানের অবরোধ: সংকটে ২ সহস্রাধিক জাহাজ ও ২০ হাজার নাবিক

প্রকাশের সময় : ১১:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
blank

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর অবরোধের ফলে পারস্য উপসাগরে এক নজিরবিহীন মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বর্তমানে সেখানে ৩২০টি তেল ও গ্যাস ট্যাঙ্কারসহ অন্তত ২ হাজার ১৯০টি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়ে আছে। বের হওয়ার পথ প্রায় রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলটি এখন বিশ্বের অন্যতম বড় ‘শিপিং ট্রাফিক জ্যামে’ পরিণত হয়েছে।

স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ব বাণিজ্য

সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘কেপলার’-এর তথ্যমতে, আটকা পড়া জাহাজগুলোর মধ্যে ৫০টি অপরিশোধিত তেলবাহী এবং ১২টি বিশাল এলএনজি (LNG) ট্যাঙ্কার রয়েছে। সাধারণত এই রুট দিয়ে দৈনিক গড়ে ১২০টি জাহাজ চলাচল করলেও, সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পর গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৬টি জাহাজ প্রণালিটি পার হতে পেরেছে।

‘তেহরান টোল বুথ’ ও বিতর্কিত করিডোর

বর্তমানে হরমুজ প্রণালির ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে ইরান। লারাক দ্বীপের পাশ দিয়ে একটি বিশেষ করিডোর দিয়ে সীমিত পরিসরে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলেও বিনিময়ে চড়া মাশুল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

  • ফি: প্রতিটি জাহাজ পার করে দিতে ২০ লাখ ডলার (প্রায় ২৪ কোটি টাকা) পর্যন্ত দাবি করছে ইরান।

  • বিশেষ সুবিধা: তবে মালয়েশিয়ার মতো ‘বন্ধুপ্রতীম’ দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই ফি মওকুফের ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।

  • চীন ও ভারত: চীন বিশেষ সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের জাহাজ পার করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি আরব থেকে জ্বালানি নিয়ে ভারত অভিমুখী কিছু জাহাজ অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে এই পথ অতিক্রম করছে।

চরম ঝুঁকিতে ২০ হাজার নাবিক

কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং গভীর সমুদ্রে আটকা পড়া প্রায় ২০ হাজার নাবিকের জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তায়। মাইন, ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভয়ে অনেক জাহাজ রাতে নেভিগেশন ট্র্যাকার বন্ধ করে চলাচল করছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া

এই গভীর সংকট নিরসনে বিশ্বনেতারা সরব হয়ে উঠেছেন:

যুক্তরাজ্য: সমস্যা সমাধানে ইতিমধ্যে ৩৫টি দেশের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছে দেশটি।

চীন ও পাকিস্তান: দুই দেশই এক যৌথ বিবৃতিতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, দ্রুত অবরোধ তুলে না নিলে তেহরানকে কঠিন সামরিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

সূত্র: আরব নিউজ