ঢাকা শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুদ্ধের শুরুতেই আহত

blank

 ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের তিন দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি মোজতবা খামেনি। কোনো ভিডিও বার্তা বা লিখিত বিবৃতিও মেলেনি তাঁর পক্ষ থেকে। তবে ইরানি গণমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের দাবি, যুদ্ধের শুরুর দিকেই তিনি আহত হয়েছেন।

তিনজন ইরানি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-কে জানিয়েছেন, অবস্থান শনাক্ত হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে মোজতবা আত্মগোপনে রয়েছেন। ৫৬ বছর বয়সী এই নেতা যুদ্ধের প্রথম দিনেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আহত হন বলে তারা দাবি করেন।

সরকারি উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে কর্মকর্তারা আরও জানান, মোজতবার পায়ে আঘাত লেগেছে। তবে তিনি বর্তমানে সচেতন আছেন এবং অত্যন্ত নিরাপদ একটি গোপন স্থানে অবস্থান করছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থাও সেখানে সীমিত রাখা হয়েছে।

এদিকে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ইউসুফ পেজেশকিয়ানের একটি টেলিগ্রাম বার্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, মোজতবা খামেনি নিরাপদ ও সুস্থ আছেন। ইউসুফ জানান, তিনি প্রথমে মোজতবার আহত হওয়ার খবর শুনলেও পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়েছেন যে তিনি বিপদমুক্ত।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক সূত্রগুলো দাবি করেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের একটি ভবনে হামলার সময় মোজতবা পায়ে আঘাত পান। উল্লেখ্য, ওই হামলায় তাঁর পিতা আলি খামেনি ও তাঁর স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছিলেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরএনএ তাদের এক প্রতিবেদনে মোজতবাকে ‘যুদ্ধে আহত এক অভিজ্ঞ যোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। এছাড়া সরকারি দাতব্য সংস্থা কোমিতেহ এমদাদ তাঁকে ফারসি শব্দগুচ্ছ জানবাজ জাং (যুদ্ধে আহত বীর) বলে উল্লেখ করেছে, যা তাঁর আহত হওয়ার বিষয়টিকে আরও জোরালো করে।

মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সংবাদ সম্মেলনে নতুন নেতার দায়িত্ব গ্রহণ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বলেন, “যাদের কাছে বার্তা পৌঁছানোর কথা, তাদের কাছে বার্তা পৌঁছে গেছে।”

মোজতবা খামেনির নাম আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ হুমকি দিয়ে বলেছেন, আলি খামেনির যেকোনো উত্তরসূরিই তাদের লক্ষ্যবস্তু হবে।

বর্তমানে তেহরানের রাস্তায় মোজতবা খামেনির ছবি সম্বলিত ব্যানার ও বিলবোর্ড দেখা যাচ্ছে। একটি বিলবোর্ডে প্রয়াত আলি খামেনিকে তাঁর হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দিতে দেখা যায়।

blank

রায়গঞ্জে চুরির ২ ঘণ্টার মাথায় শ্যালো মেশিন উদ্ধার: গ্রেফতার ২

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুদ্ধের শুরুতেই আহত

প্রকাশের সময় : ০৩:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
blank

 ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের তিন দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি মোজতবা খামেনি। কোনো ভিডিও বার্তা বা লিখিত বিবৃতিও মেলেনি তাঁর পক্ষ থেকে। তবে ইরানি গণমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের দাবি, যুদ্ধের শুরুর দিকেই তিনি আহত হয়েছেন।

তিনজন ইরানি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-কে জানিয়েছেন, অবস্থান শনাক্ত হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে মোজতবা আত্মগোপনে রয়েছেন। ৫৬ বছর বয়সী এই নেতা যুদ্ধের প্রথম দিনেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আহত হন বলে তারা দাবি করেন।

সরকারি উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে কর্মকর্তারা আরও জানান, মোজতবার পায়ে আঘাত লেগেছে। তবে তিনি বর্তমানে সচেতন আছেন এবং অত্যন্ত নিরাপদ একটি গোপন স্থানে অবস্থান করছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থাও সেখানে সীমিত রাখা হয়েছে।

এদিকে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ইউসুফ পেজেশকিয়ানের একটি টেলিগ্রাম বার্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, মোজতবা খামেনি নিরাপদ ও সুস্থ আছেন। ইউসুফ জানান, তিনি প্রথমে মোজতবার আহত হওয়ার খবর শুনলেও পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়েছেন যে তিনি বিপদমুক্ত।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক সূত্রগুলো দাবি করেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের একটি ভবনে হামলার সময় মোজতবা পায়ে আঘাত পান। উল্লেখ্য, ওই হামলায় তাঁর পিতা আলি খামেনি ও তাঁর স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছিলেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরএনএ তাদের এক প্রতিবেদনে মোজতবাকে ‘যুদ্ধে আহত এক অভিজ্ঞ যোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। এছাড়া সরকারি দাতব্য সংস্থা কোমিতেহ এমদাদ তাঁকে ফারসি শব্দগুচ্ছ জানবাজ জাং (যুদ্ধে আহত বীর) বলে উল্লেখ করেছে, যা তাঁর আহত হওয়ার বিষয়টিকে আরও জোরালো করে।

মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সংবাদ সম্মেলনে নতুন নেতার দায়িত্ব গ্রহণ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বলেন, “যাদের কাছে বার্তা পৌঁছানোর কথা, তাদের কাছে বার্তা পৌঁছে গেছে।”

মোজতবা খামেনির নাম আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ হুমকি দিয়ে বলেছেন, আলি খামেনির যেকোনো উত্তরসূরিই তাদের লক্ষ্যবস্তু হবে।

বর্তমানে তেহরানের রাস্তায় মোজতবা খামেনির ছবি সম্বলিত ব্যানার ও বিলবোর্ড দেখা যাচ্ছে। একটি বিলবোর্ডে প্রয়াত আলি খামেনিকে তাঁর হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দিতে দেখা যায়।