ঢাকা শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলের হামলা: আন্তর্জাতিক আইনে বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

blank

ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এতে বহু বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে শিশুদের হতাহতের খবরও রয়েছে। এ ধরনের একতরফা সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক আইনে বৈধ কি না—তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইন কী বলে

জাতিসংঘ সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রগুলোর একতরফাভাবে শক্তি প্রয়োগ নিষিদ্ধ। কেবল দুটি ব্যতিক্রম রয়েছে—

১. নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন

২. সশস্ত্র হামলার পর আত্মরক্ষা (অনুচ্ছেদ ৫১)

এই হামলায় জাতিসংঘের অনুমোদন ছিল না, ফলে আত্মরক্ষার যুক্তিই একমাত্র সম্ভাব্য ভিত্তি।

আইন বিশেষজ্ঞদের মত

ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের অধ্যাপক মার্কো মিলানোভিচ বলেন, এই হামলাগুলো স্পষ্টতই অবৈধ। তাঁর মতে, আত্মরক্ষার কোনো শর্তই এখানে পূরণ হয়নি—এমনকি ‘আসন্ন হামলা’ তত্ত্ব ধরলেও নয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুক্তি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং সম্ভাব্য হুমকি দূর করা।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে ইরানি জনগণের জন্য ‘স্বৈরশাসন থেকে মুক্তির সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

পারমাণবিক হুমকির প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইরান বরাবরই তাদের কর্মসূচিকে বেসামরিক বলে দাবি করে আসছে।

ইরানের পাল্টা হামলা

হামলার পর ইরান ইসরাইল ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানে। মিলানোভিচের মতে, ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার থাকতে পারে, তবে তৃতীয় রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে হামলা আন্তর্জাতিক আইনে গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

জবাবদিহির সম্ভাবনা

আগ্রাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ হলেও যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরান আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত-এর সদস্য নয়। ফলে বাস্তবে শীর্ষ নেতাদের বিচারের আওতায় আনা কঠিন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

blank

বিশ্ব বদলানো ১০০ মুখ: প্রকাশ পেল ‘টাইম ১০০’ তালিকা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলের হামলা: আন্তর্জাতিক আইনে বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশের সময় : ০৭:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
blank

ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এতে বহু বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে শিশুদের হতাহতের খবরও রয়েছে। এ ধরনের একতরফা সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক আইনে বৈধ কি না—তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইন কী বলে

জাতিসংঘ সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রগুলোর একতরফাভাবে শক্তি প্রয়োগ নিষিদ্ধ। কেবল দুটি ব্যতিক্রম রয়েছে—

১. নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন

২. সশস্ত্র হামলার পর আত্মরক্ষা (অনুচ্ছেদ ৫১)

এই হামলায় জাতিসংঘের অনুমোদন ছিল না, ফলে আত্মরক্ষার যুক্তিই একমাত্র সম্ভাব্য ভিত্তি।

আইন বিশেষজ্ঞদের মত

ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের অধ্যাপক মার্কো মিলানোভিচ বলেন, এই হামলাগুলো স্পষ্টতই অবৈধ। তাঁর মতে, আত্মরক্ষার কোনো শর্তই এখানে পূরণ হয়নি—এমনকি ‘আসন্ন হামলা’ তত্ত্ব ধরলেও নয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুক্তি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং সম্ভাব্য হুমকি দূর করা।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে ইরানি জনগণের জন্য ‘স্বৈরশাসন থেকে মুক্তির সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

পারমাণবিক হুমকির প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইরান বরাবরই তাদের কর্মসূচিকে বেসামরিক বলে দাবি করে আসছে।

ইরানের পাল্টা হামলা

হামলার পর ইরান ইসরাইল ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানে। মিলানোভিচের মতে, ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার থাকতে পারে, তবে তৃতীয় রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে হামলা আন্তর্জাতিক আইনে গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

জবাবদিহির সম্ভাবনা

আগ্রাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ হলেও যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরান আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত-এর সদস্য নয়। ফলে বাস্তবে শীর্ষ নেতাদের বিচারের আওতায় আনা কঠিন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।