ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
দ্বিতীয় নবজাতকের সন্ধান মিলছে না, থানায় অভিযোগ বাবার

নওগাঁর ক্লিনিকে সিজারের পর যমজের একজন নিখোঁজের অভিযোগ

blank

নওগাঁর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর যমজ নবজাতকের মধ্যে একজনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলেও অপর সন্তান কোথায় রয়েছে, তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। দ্বিতীয় নবজাতকের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারছে না ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। এমনকি বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে আর্থিক প্রস্তাব দেওয়ারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নবজাতকের বাবা শান্ত ইসলাম নওগাঁ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রসূতি শান্তনা আক্তারের গর্ভাবস্থায় গত ১২ ও ২১ অক্টোবর দুটি পৃথক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। উভয় পরীক্ষার প্রতিবেদনেই গর্ভে দুটি জীবিত ভ্রূণ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

১২ অক্টোবর জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিবেদনে দুটি জীবিত ভ্রূণের উপস্থিতির কথা বলা হয়। সেখানে উভয় ভ্রূণের হৃৎস্পন্দন প্রতি মিনিটে ১৪৭ বার রেকর্ড করা হয়েছিল। পরে ২১ অক্টোবর নওগাঁর রি-লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিবেদনেও দুটি জীবিত ভ্রূণের কথা উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে তাদের হৃৎস্পন্দন যথাক্রমে প্রতি মিনিটে ১৪৬ ও ১৪০ বার এবং সম্ভাব্য ওজন ২ হাজার ৩৩১ ও ২ হাজার ৪৮৬ গ্রাম বলে উল্লেখ করা হয়।

প্রসূতির স্বামী শান্ত ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শে তাঁর স্ত্রীকে নওগাঁর বলাকা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ওই চিকিৎসকের মাধ্যমেই সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অস্ত্রোপচারের পর একটি কন্যা নবজাতক পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলেও দ্বিতীয় সন্তান সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ গড়িমসি করে। এমনকি বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাঁদের আর্থিক প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে নিরুপায় হয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

প্রসূতির অভিযোগ, সেলাই না করে ফেলে রাখা ও হুমকি

কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রসূতি শান্তনা আক্তার বলেন, “ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শেই আমি ক্লিনিকে ভর্তি হই। অপারেশন ও আল্ট্রাসনোগ্রাম অনুযায়ী আমি দুটি সন্তানের মা হওয়ার কথা জানতাম। কিন্তু সিজারের পর আমাকে কেবল একটি মেয়ে সন্তান দেখানো হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে তাঁর পেটের কাটা অংশ সেলাই না করেই প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ফেলে রাখা হয়। এ সময় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। তাদের কথা না মানলে এই অবস্থাতেই ফেলে রাখা হবে বলে জানানো হয়।

শান্তনা আক্তারের ভাষ্য, পরবর্তীতে তাঁর কাঁপুনি শুরু হলে বাধ্য হয়ে তিনি তাদের শর্ত মেনে নিতে রাজি হন। এরপর চিকিৎসকের রাগারাগি ও হুমকির মুখে তাঁর পেটের সেলাই সম্পন্ন করা হয়।

তিনি বলেন, “আমি আমার দুটি সন্তানকেই ফিরে পেতে চাই এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের বক্তব্য

বলাকা ক্লিনিকের মালিক এনামুল হক বলেন, “ডা. মাহফুজা খাতুনের রোগী হিসেবে তাঁর পরামর্শেই ওই প্রসূতি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং চিকিৎসক নিজেই অপারেশন করেছেন। সন্তান একটি না দুটি হয়েছে, তা একমাত্র চিকিৎসকই বলতে পারবেন। এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।”

অন্যদিকে, অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি গণমাধ্যমকে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

তদন্তের আশ্বাস পুলিশের

এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, নবজাতকের বাবা থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পুলিশ পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় খবর
blank

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে মহাদেবপুরে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

দ্বিতীয় নবজাতকের সন্ধান মিলছে না, থানায় অভিযোগ বাবার

নওগাঁর ক্লিনিকে সিজারের পর যমজের একজন নিখোঁজের অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ২২ ঘন্টা আগে
blank

নওগাঁর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর যমজ নবজাতকের মধ্যে একজনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলেও অপর সন্তান কোথায় রয়েছে, তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। দ্বিতীয় নবজাতকের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারছে না ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। এমনকি বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে আর্থিক প্রস্তাব দেওয়ারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নবজাতকের বাবা শান্ত ইসলাম নওগাঁ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রসূতি শান্তনা আক্তারের গর্ভাবস্থায় গত ১২ ও ২১ অক্টোবর দুটি পৃথক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। উভয় পরীক্ষার প্রতিবেদনেই গর্ভে দুটি জীবিত ভ্রূণ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

১২ অক্টোবর জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিবেদনে দুটি জীবিত ভ্রূণের উপস্থিতির কথা বলা হয়। সেখানে উভয় ভ্রূণের হৃৎস্পন্দন প্রতি মিনিটে ১৪৭ বার রেকর্ড করা হয়েছিল। পরে ২১ অক্টোবর নওগাঁর রি-লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিবেদনেও দুটি জীবিত ভ্রূণের কথা উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে তাদের হৃৎস্পন্দন যথাক্রমে প্রতি মিনিটে ১৪৬ ও ১৪০ বার এবং সম্ভাব্য ওজন ২ হাজার ৩৩১ ও ২ হাজার ৪৮৬ গ্রাম বলে উল্লেখ করা হয়।

প্রসূতির স্বামী শান্ত ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শে তাঁর স্ত্রীকে নওগাঁর বলাকা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ওই চিকিৎসকের মাধ্যমেই সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অস্ত্রোপচারের পর একটি কন্যা নবজাতক পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলেও দ্বিতীয় সন্তান সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ গড়িমসি করে। এমনকি বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাঁদের আর্থিক প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে নিরুপায় হয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

প্রসূতির অভিযোগ, সেলাই না করে ফেলে রাখা ও হুমকি

কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রসূতি শান্তনা আক্তার বলেন, “ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শেই আমি ক্লিনিকে ভর্তি হই। অপারেশন ও আল্ট্রাসনোগ্রাম অনুযায়ী আমি দুটি সন্তানের মা হওয়ার কথা জানতাম। কিন্তু সিজারের পর আমাকে কেবল একটি মেয়ে সন্তান দেখানো হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে তাঁর পেটের কাটা অংশ সেলাই না করেই প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ফেলে রাখা হয়। এ সময় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। তাদের কথা না মানলে এই অবস্থাতেই ফেলে রাখা হবে বলে জানানো হয়।

শান্তনা আক্তারের ভাষ্য, পরবর্তীতে তাঁর কাঁপুনি শুরু হলে বাধ্য হয়ে তিনি তাদের শর্ত মেনে নিতে রাজি হন। এরপর চিকিৎসকের রাগারাগি ও হুমকির মুখে তাঁর পেটের সেলাই সম্পন্ন করা হয়।

তিনি বলেন, “আমি আমার দুটি সন্তানকেই ফিরে পেতে চাই এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের বক্তব্য

বলাকা ক্লিনিকের মালিক এনামুল হক বলেন, “ডা. মাহফুজা খাতুনের রোগী হিসেবে তাঁর পরামর্শেই ওই প্রসূতি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং চিকিৎসক নিজেই অপারেশন করেছেন। সন্তান একটি না দুটি হয়েছে, তা একমাত্র চিকিৎসকই বলতে পারবেন। এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।”

অন্যদিকে, অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি গণমাধ্যমকে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

তদন্তের আশ্বাস পুলিশের

এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, নবজাতকের বাবা থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পুলিশ পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।