ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীকে হত্যার চারদিন পর স্বামী গ্রেপ্তার

blank

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় স্ত্রী যুথি খাতুনকে হত্যার অভিযোগে ঘটনার চারদিন পর তাঁর স্বামী জহুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাশের চারঘাট উপজেলার রাওথা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন জহুরুল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার মাঠে কাজ শেষে বাড়িতে ফেরেন জহুরুল। ওই সময় তাঁদের দেড় বছর বয়সী সন্তান জায়ান হোসেন কান্নাকাটি করছিল। শিশুটিকে থামানোকে কেন্দ্র করে স্ত্রী যুথি বেগমের (৩০) সঙ্গে জহুরুলের কথা-কাটাকাটি হয়। এর আগে ঋণের কিস্তির টাকা আদায় করতে তাঁদের বাড়িতে এসে একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) এক কর্মী গালমন্দ করে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। এসব বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের একপর্যায়ে জহুরুল ধারালো হাসুয়া দিয়ে যুথিকে কুপিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, স্ত্রীকে হত্যার পর জহুরুল বাড়ির পাশের খোর্দ্দবাউসা বাজারের একটি চায়ের দোকানে যান। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমার আগে-পিছে কেউ নেই, আমি আজ থেকে মুক্ত।’ এরপর তিনি সেখান থেকে চলে যান। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

জহুরুলের ভাই রুহুল হোসেন জানান, তাঁদের পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনটন ছিল। কয়েকটি এনজিও থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি শুনেছেন। ঋণের বিষয়ে কথা বলতে মাঝেমধ্যে এনজিওকর্মীরা তাঁদের বাড়িতে আসতেন। ঘটনার আগের দিন যুথি তাঁর নানার বাড়ি থেকে ঘুরে এসেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও স্বাভাবিক ছিল।

রুহুল হোসেন আরও জানান, জহুরুলের দুই সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে জিহাদ হোসেনের বয়স সাত বছর এবং ছোট ছেলে জায়ান হোসেনের বয়স দেড় বছর। তাঁর ভাই এভাবে স্ত্রীকে হত্যা করতে পারেন, তা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি।

বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল হক বলেন, অপরাধী যে-ই হোক, তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা পুলিশের দায়িত্ব। বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে ঘটনার চারদিন পর জহুরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার বিকেল তিনটার দিকে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী হত্যার দায় স্বীকার করেছেন জহুরুল।

নুরুজ্জামান/শাহজাদা

জনপ্রিয় খবর
blank

নাটোরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

স্ত্রীকে হত্যার চারদিন পর স্বামী গ্রেপ্তার

প্রকাশের সময় : ১০ ঘন্টা আগে
blank

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় স্ত্রী যুথি খাতুনকে হত্যার অভিযোগে ঘটনার চারদিন পর তাঁর স্বামী জহুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাশের চারঘাট উপজেলার রাওথা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন জহুরুল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার মাঠে কাজ শেষে বাড়িতে ফেরেন জহুরুল। ওই সময় তাঁদের দেড় বছর বয়সী সন্তান জায়ান হোসেন কান্নাকাটি করছিল। শিশুটিকে থামানোকে কেন্দ্র করে স্ত্রী যুথি বেগমের (৩০) সঙ্গে জহুরুলের কথা-কাটাকাটি হয়। এর আগে ঋণের কিস্তির টাকা আদায় করতে তাঁদের বাড়িতে এসে একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) এক কর্মী গালমন্দ করে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। এসব বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের একপর্যায়ে জহুরুল ধারালো হাসুয়া দিয়ে যুথিকে কুপিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, স্ত্রীকে হত্যার পর জহুরুল বাড়ির পাশের খোর্দ্দবাউসা বাজারের একটি চায়ের দোকানে যান। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমার আগে-পিছে কেউ নেই, আমি আজ থেকে মুক্ত।’ এরপর তিনি সেখান থেকে চলে যান। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

জহুরুলের ভাই রুহুল হোসেন জানান, তাঁদের পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনটন ছিল। কয়েকটি এনজিও থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি শুনেছেন। ঋণের বিষয়ে কথা বলতে মাঝেমধ্যে এনজিওকর্মীরা তাঁদের বাড়িতে আসতেন। ঘটনার আগের দিন যুথি তাঁর নানার বাড়ি থেকে ঘুরে এসেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও স্বাভাবিক ছিল।

রুহুল হোসেন আরও জানান, জহুরুলের দুই সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে জিহাদ হোসেনের বয়স সাত বছর এবং ছোট ছেলে জায়ান হোসেনের বয়স দেড় বছর। তাঁর ভাই এভাবে স্ত্রীকে হত্যা করতে পারেন, তা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি।

বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল হক বলেন, অপরাধী যে-ই হোক, তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা পুলিশের দায়িত্ব। বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে ঘটনার চারদিন পর জহুরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার বিকেল তিনটার দিকে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী হত্যার দায় স্বীকার করেছেন জহুরুল।

নুরুজ্জামান/শাহজাদা