ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে দেশের বৃহৎ মেগাপ্রকল্প

blank

নানা চড়াই-উতরাই ও সময়সীমা পেছানোর পর অবশেষে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করেছে দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল মেগাপ্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। সম্প্রতি কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে ‘ফুয়েল লোডিং’ বা পারমাণবিক জ্বালানি স্থাপনের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করেছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন ও গ্রিডে যুক্ত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রাঃ  বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষভাগেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম ইউনিটের ফুয়েল লোডিং কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এই অনুষ্ঠানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকতে পারেন। সরকারের লক্ষ্য হলো, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত ১,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা।

বিশেষজ্ঞদের মত ও বাণিজ্যিক উৎপাদনের সময়রেখাঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ফুয়েল লোডিং একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রক্রিয়া, যা সম্পন্ন হতে ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগতে পারে। জ্বালানি প্রবেশের পর বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পাইলট অপারেশন শেষে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে আরও ৬ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তিনি জানান, একবার বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে তা না থেমে টানা ১৮ মাসের সাইকেলে চলতে থাকবে।

নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডঃ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) কঠোর মানদণ্ড মেনেই এই কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ায় চালিত এই সংবেদনশীল স্থাপনার অগ্নি নিরাপত্তা, ইভাকুয়েশন প্ল্যান এবং জরুরি সাপোর্ট সিস্টেম নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হচ্ছে না বলে আশ্বস্ত করেছে পরমাণু শক্তি কমিশন।

সঞ্চালন লাইনের অগ্রগতিঃ উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সঞ্চালন লাইন নির্মাণ নিয়ে পূর্বে যে জটিলতা ছিল, তা অনেকটাই নিরসন হয়েছে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রশিদ খান নিশ্চিত করেছেন, প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় চারটি সঞ্চালন লাইনের (রূপপুর-বাঘাবাড়ি দুটি, রূপপুর-বগুড়া একটি এবং রূপপুর-গোপালগঞ্জ একটি) কাজ গত বছরের (২০২৫) মে মাসেই শেষ হয়েছে। এছাড়া দ্বিতীয় ইউনিটের গ্রিড সক্ষমতা তৈরির কাজও চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি সম্পন্ন হবে।

blank

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে দেশের বৃহৎ মেগাপ্রকল্প

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে দেশের বৃহৎ মেগাপ্রকল্প

প্রকাশের সময় : ১১ মিনিট আগে
blank

নানা চড়াই-উতরাই ও সময়সীমা পেছানোর পর অবশেষে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করেছে দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল মেগাপ্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। সম্প্রতি কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে ‘ফুয়েল লোডিং’ বা পারমাণবিক জ্বালানি স্থাপনের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করেছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন ও গ্রিডে যুক্ত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রাঃ  বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষভাগেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম ইউনিটের ফুয়েল লোডিং কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এই অনুষ্ঠানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকতে পারেন। সরকারের লক্ষ্য হলো, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত ১,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা।

বিশেষজ্ঞদের মত ও বাণিজ্যিক উৎপাদনের সময়রেখাঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ফুয়েল লোডিং একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রক্রিয়া, যা সম্পন্ন হতে ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগতে পারে। জ্বালানি প্রবেশের পর বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পাইলট অপারেশন শেষে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে আরও ৬ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তিনি জানান, একবার বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে তা না থেমে টানা ১৮ মাসের সাইকেলে চলতে থাকবে।

নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডঃ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) কঠোর মানদণ্ড মেনেই এই কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ায় চালিত এই সংবেদনশীল স্থাপনার অগ্নি নিরাপত্তা, ইভাকুয়েশন প্ল্যান এবং জরুরি সাপোর্ট সিস্টেম নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হচ্ছে না বলে আশ্বস্ত করেছে পরমাণু শক্তি কমিশন।

সঞ্চালন লাইনের অগ্রগতিঃ উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সঞ্চালন লাইন নির্মাণ নিয়ে পূর্বে যে জটিলতা ছিল, তা অনেকটাই নিরসন হয়েছে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রশিদ খান নিশ্চিত করেছেন, প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় চারটি সঞ্চালন লাইনের (রূপপুর-বাঘাবাড়ি দুটি, রূপপুর-বগুড়া একটি এবং রূপপুর-গোপালগঞ্জ একটি) কাজ গত বছরের (২০২৫) মে মাসেই শেষ হয়েছে। এছাড়া দ্বিতীয় ইউনিটের গ্রিড সক্ষমতা তৈরির কাজও চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি সম্পন্ন হবে।