ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আয় নেই, সংসার কীভাবে চলবে?

blank

রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় কমে গেছে তাদের দৈনিক আয়। এতে পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে নিম্নআয়ের এসব শ্রমজীবী মানুষের।

ভোর ৫টায় রাজধানীর মুগদা বিশ্বরোড এলাকার শান্ত সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন মো. রুবেল মিয়া (৩৪)। উদ্দেশ্য ছিল দ্রুত গ্যাস নিয়ে রাস্তায় বের হয়ে কয়েকটি ট্রিপ দিয়ে সংসারের খরচ জোগাড় করা। কিন্তু বেলা ১১টা পেরিয়ে গেলেও তার অটোরিকশায় গ্যাস ওঠেনি।

দীর্ঘ অপেক্ষায় ক্লান্ত রুবেলের কণ্ঠে তখন হতাশা আর অনিশ্চয়তা। তিনি বলেন, সকাল ৫টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। এখন ১১টার বেশি বাজে। কখন গ্যাস পাব, কখন রাস্তায় নামব আর কখন আয় করব—কিছুই জানি না। এভাবে সংসার কীভাবে চলবে?

মাণ্ডার লাল মিয়া রোডে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন রুবেল। গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। প্রায় ২২ বছর ধরে ঢাকায় বসবাস করছেন তিনি। একসময় মুদি দোকান চালালেও ব্যবসায় লোকসানের পর গত ১২ বছর ধরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

রুবেল জানান, অটোরিকশাটি তার নিজের নয়। মহাজনের গাড়ি চালিয়ে প্রতিদিন নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা দিতে হয়। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে আয় কমে যাওয়ায় নিয়মিত জমা দিতে পারছেন না। ফলে বাড়ছে দেনা।

তিনি বলেন, গ্যাসের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে গাড়ি চালানোর সময়ই পাওয়া যায় না। একদিন বাজার করতে পারি, আরেকদিন পারি না। আয় কমেছে, অথচ সংসারের খরচ বেড়েছে। বাসায় রান্নার জন্যও এখন এলপি গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে।

রুবেলের সংসারে মাসে বাসাভাড়া ৫ হাজার টাকা, বিদ্যুৎ বিল দেড় হাজার এবং গ্যাস বিল ১ হাজার ১০০ টাকা। এর সঙ্গে রয়েছে খাবার, সন্তানদের পড়াশোনা ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দোকান থেকে বাকিতে খাবার আনতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রুবেল বলেন, আমি গাড়ি চালানো ছাড়া আর কোনো কাজ জানি না। সরকারের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ—আমাদের বাঁচান, গ্যাস সংকটের সমাধান করুন। না হলে আমার মতো হাজারো সিএনজি চালকের পরিবার না খেয়ে থাকবে।

মুগদা বিশ্বরোডের শান্ত সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের অপারেটর মো. মামুন বলেন, গ্যাসের সংকট এখনো একই রকম রয়েছে। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

রাজধানীর মালিবাগ, মুগদা বিশ্বরোড, মতিঝিল, মানিকনগর, সবুজবাগ ও বাড্ডাসহ বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে অপেক্ষা করছেন চালকেরা। তাদের অভিযোগ, গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে গিয়ে প্রতিদিনের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে।

গ্যাস সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে নিম্নআয়ের এসব শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় খবর
blank

কবি ফররুক আহমেদের ‘ইসলামী রেনেসাঁ’: ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও মূল্যায়ন

আয় নেই, সংসার কীভাবে চলবে?

প্রকাশের সময় : ১৮ মিনিট আগে
blank

রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় কমে গেছে তাদের দৈনিক আয়। এতে পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে নিম্নআয়ের এসব শ্রমজীবী মানুষের।

ভোর ৫টায় রাজধানীর মুগদা বিশ্বরোড এলাকার শান্ত সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন মো. রুবেল মিয়া (৩৪)। উদ্দেশ্য ছিল দ্রুত গ্যাস নিয়ে রাস্তায় বের হয়ে কয়েকটি ট্রিপ দিয়ে সংসারের খরচ জোগাড় করা। কিন্তু বেলা ১১টা পেরিয়ে গেলেও তার অটোরিকশায় গ্যাস ওঠেনি।

দীর্ঘ অপেক্ষায় ক্লান্ত রুবেলের কণ্ঠে তখন হতাশা আর অনিশ্চয়তা। তিনি বলেন, সকাল ৫টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। এখন ১১টার বেশি বাজে। কখন গ্যাস পাব, কখন রাস্তায় নামব আর কখন আয় করব—কিছুই জানি না। এভাবে সংসার কীভাবে চলবে?

মাণ্ডার লাল মিয়া রোডে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন রুবেল। গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। প্রায় ২২ বছর ধরে ঢাকায় বসবাস করছেন তিনি। একসময় মুদি দোকান চালালেও ব্যবসায় লোকসানের পর গত ১২ বছর ধরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

রুবেল জানান, অটোরিকশাটি তার নিজের নয়। মহাজনের গাড়ি চালিয়ে প্রতিদিন নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা দিতে হয়। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে আয় কমে যাওয়ায় নিয়মিত জমা দিতে পারছেন না। ফলে বাড়ছে দেনা।

তিনি বলেন, গ্যাসের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে গাড়ি চালানোর সময়ই পাওয়া যায় না। একদিন বাজার করতে পারি, আরেকদিন পারি না। আয় কমেছে, অথচ সংসারের খরচ বেড়েছে। বাসায় রান্নার জন্যও এখন এলপি গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে।

রুবেলের সংসারে মাসে বাসাভাড়া ৫ হাজার টাকা, বিদ্যুৎ বিল দেড় হাজার এবং গ্যাস বিল ১ হাজার ১০০ টাকা। এর সঙ্গে রয়েছে খাবার, সন্তানদের পড়াশোনা ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দোকান থেকে বাকিতে খাবার আনতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রুবেল বলেন, আমি গাড়ি চালানো ছাড়া আর কোনো কাজ জানি না। সরকারের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ—আমাদের বাঁচান, গ্যাস সংকটের সমাধান করুন। না হলে আমার মতো হাজারো সিএনজি চালকের পরিবার না খেয়ে থাকবে।

মুগদা বিশ্বরোডের শান্ত সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের অপারেটর মো. মামুন বলেন, গ্যাসের সংকট এখনো একই রকম রয়েছে। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

রাজধানীর মালিবাগ, মুগদা বিশ্বরোড, মতিঝিল, মানিকনগর, সবুজবাগ ও বাড্ডাসহ বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে অপেক্ষা করছেন চালকেরা। তাদের অভিযোগ, গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে গিয়ে প্রতিদিনের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে।

গ্যাস সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে নিম্নআয়ের এসব শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।