ভারতের কংগ্রেস সংসদ সদস্য শশী থারুর দাবি করেছেন, বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন (এফসিআরএ) সংশোধনের ফলে দেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তিনি আইনটিকে ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীয়করণের উদাহরণ উল্লেখ করে নরেন্দ্র মোদি সরকারের সমালোচনা করেছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে থারুর অভিযোগ করেন, নতুন আইনের মাধ্যমে স্বাধীন কণ্ঠস্বর দমন এবং রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজের সম্পর্ককে নতুনভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো সংস্থার এফসিআরএ নিবন্ধন বাতিল, সমর্পণ বা মেয়াদ শেষ হলে তাদের বৈদেশিক অনুদান ও সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য একটি ‘নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ’ নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। তবে উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে তাদের ধর্মীয় চরিত্র অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
শশী থারুরের দাবি, সরকারের কঠোর নীতির কারণে বিদেশি অনুদানের প্রবাহ ৮৭ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে হাজার হাজার সামাজিক ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম সংকুচিত করতে বাধ্য হয়েছে বা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
কেরালার তিরুবনন্তপুরমের এই সংসদ সদস্য বলেন, নতুন আইনে অবকাঠামো ও জমি বাজেয়াপ্ত করার সুযোগ থাকায় শত বছরের বেশি সময় ধরে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানগুলোও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। তাঁর মতে, প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কোনো দাতব্য হাসপাতাল সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ মানুষ।
থারুর প্রস্তাবিত বিলটিকে গণতন্ত্রবিরোধী উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে সংসদে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার জন্য সব বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ১৩ হাজার ৫২০টি সংস্থা প্রায় ৫৫ হাজার ৭৪১ কোটি রুপি বৈদেশিক অনুদান পেয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশটিতে ১৪ হাজার ৪৪৯টি সক্রিয় এফসিআরএ নিবন্ধন রয়েছে। এ ছাড়া ২২ হাজার ৪৯৮টি নিবন্ধন বাতিল এবং ১৫ হাজার ২১২টির মেয়াদ শেষ হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক 


















