ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারুণ্যের শক্তিতে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়

blank

বিশ্বকাপের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। তবে সময়ের সঙ্গে নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠে শেষ পর্যন্ত বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। রোববার (১৯ জুলাই) নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে পুরো ম্যাচজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করে ‘লা রোজা’রা অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলের জয়ে সোনালি ট্রফি নিজেদের করে নেয়।

৩৪ দিন আগে নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। সেই ফলের পর অনেকেই স্পেনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু এরপর সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় তারা। নকআউট পর্বে অস্ট্রিয়া, পর্তুগাল, বেলজিয়াম ও ফ্রান্সকে টপকে ফাইনালে উঠে আসে স্পেন।

এই সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি ছিল তারুণ্যনির্ভর দল। ৪৮ দলের মধ্যে স্পেনের স্কোয়াড ছিল ষষ্ঠ কনিষ্ঠ। গড় বয়স মাত্র ২৬.১৯ বছর। লামিন ইয়ামাল, পাউ কুবারসি, পেদ্রি ও নিকো উইলিয়ামসের মতো তরুণরা পুরো আসরে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।

বিশেষ করে ইয়ামালের অবদান ছিল গোলের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি। মাত্র একটি গোল করলেও প্রতিটি ম্যাচে আক্রমণভাগে গতি এনে দিয়েছেন তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচসেরাও হন এই তরুণ ফুটবলার। অন্যদিকে টুর্নামেন্টে স্পেনের সর্বোচ্চ পাঁচ গোল করেন মিকেল ওয়ারজাবাল। এছাড়া মিকেল মেরিনো ও পেদ্রো পোরো দুটি করে গোল করেন। ফাইনালে জয়সূচক গোলটি আসে ফেরান তোরেসের পা থেকে।

নকআউট পর্বে স্পেনের মানসিক দৃঢ়তাও ছিল চোখে পড়ার মতো। পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোল করে দলকে সেমিফাইনালে তুলেছিলেন মিকেল মেরিনো।

সেমিফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারানোর ম্যাচে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কৌশল ছিল প্রশংসিত। দানি ওলমো, রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজকে নিয়ে গড়া মিডফিল্ড পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও মাইকেল ওলিসির মতো ফরোয়ার্ডরা কার্যকর হয়ে উঠতে পারেননি।

ফাইনালেও একই পরিকল্পনায় মাঠে নামে স্পেন। পুরো ১২০ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে মাত্র দুটি শট নেওয়ার সুযোগ দেয় তারা, যার একটিও লক্ষ্যে ছিল না। বলের দখলে ছিল প্রায় ৬৫ শতাংশ সময়। ম্যাচের শেষদিকে এনজো ফার্নান্দেজ পাউ কুবারসিকে বিপজ্জনক ফাউল করলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের শক্তিশালী শটে জয়সূচক গোল পায় স্পেন।

পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করে অপরাজিত থেকেই বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাদের অপরাজিত থাকার ধারাও গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ ম্যাচে।

বিশ্বকাপ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্পেনের সামনে এখন উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। ইয়ামাল, কুবারসি, পেদ্রি ও নিকো উইলিয়ামসের মতো তরুণরা আগামী কয়েক বছরে আরও পরিণত হবেন। ২০২৮ সালের ইউরো এবং ২০৩০ সালের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলকে ইতোমধ্যেই ভবিষ্যতের অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় খবর
blank

সরে দাঁড়ালেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

তারুণ্যের শক্তিতে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়

প্রকাশের সময় : ১২ ঘন্টা আগে
blank

বিশ্বকাপের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। তবে সময়ের সঙ্গে নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠে শেষ পর্যন্ত বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। রোববার (১৯ জুলাই) নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে পুরো ম্যাচজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করে ‘লা রোজা’রা অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলের জয়ে সোনালি ট্রফি নিজেদের করে নেয়।

৩৪ দিন আগে নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। সেই ফলের পর অনেকেই স্পেনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু এরপর সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় তারা। নকআউট পর্বে অস্ট্রিয়া, পর্তুগাল, বেলজিয়াম ও ফ্রান্সকে টপকে ফাইনালে উঠে আসে স্পেন।

এই সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি ছিল তারুণ্যনির্ভর দল। ৪৮ দলের মধ্যে স্পেনের স্কোয়াড ছিল ষষ্ঠ কনিষ্ঠ। গড় বয়স মাত্র ২৬.১৯ বছর। লামিন ইয়ামাল, পাউ কুবারসি, পেদ্রি ও নিকো উইলিয়ামসের মতো তরুণরা পুরো আসরে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।

বিশেষ করে ইয়ামালের অবদান ছিল গোলের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি। মাত্র একটি গোল করলেও প্রতিটি ম্যাচে আক্রমণভাগে গতি এনে দিয়েছেন তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচসেরাও হন এই তরুণ ফুটবলার। অন্যদিকে টুর্নামেন্টে স্পেনের সর্বোচ্চ পাঁচ গোল করেন মিকেল ওয়ারজাবাল। এছাড়া মিকেল মেরিনো ও পেদ্রো পোরো দুটি করে গোল করেন। ফাইনালে জয়সূচক গোলটি আসে ফেরান তোরেসের পা থেকে।

নকআউট পর্বে স্পেনের মানসিক দৃঢ়তাও ছিল চোখে পড়ার মতো। পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোল করে দলকে সেমিফাইনালে তুলেছিলেন মিকেল মেরিনো।

সেমিফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারানোর ম্যাচে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কৌশল ছিল প্রশংসিত। দানি ওলমো, রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজকে নিয়ে গড়া মিডফিল্ড পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও মাইকেল ওলিসির মতো ফরোয়ার্ডরা কার্যকর হয়ে উঠতে পারেননি।

ফাইনালেও একই পরিকল্পনায় মাঠে নামে স্পেন। পুরো ১২০ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে মাত্র দুটি শট নেওয়ার সুযোগ দেয় তারা, যার একটিও লক্ষ্যে ছিল না। বলের দখলে ছিল প্রায় ৬৫ শতাংশ সময়। ম্যাচের শেষদিকে এনজো ফার্নান্দেজ পাউ কুবারসিকে বিপজ্জনক ফাউল করলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের শক্তিশালী শটে জয়সূচক গোল পায় স্পেন।

পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করে অপরাজিত থেকেই বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাদের অপরাজিত থাকার ধারাও গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ ম্যাচে।

বিশ্বকাপ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্পেনের সামনে এখন উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। ইয়ামাল, কুবারসি, পেদ্রি ও নিকো উইলিয়ামসের মতো তরুণরা আগামী কয়েক বছরে আরও পরিণত হবেন। ২০২৮ সালের ইউরো এবং ২০৩০ সালের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলকে ইতোমধ্যেই ভবিষ্যতের অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।