ঢাকা শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্লোরিডায় উদ্ধারকৃত লাশটি নিখোঁজ বৃষ্টির, ৪ মে দেশে পৌঁছাবে লিমনের মরদেহ

blank

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় স্থানীয় একটি জলাশয় থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বলে নিশ্চিত করেছে হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিস।

শুক্রবার (১ মে) ফ্লোরিডার পুলিশ ডিপার্টমেন্ট থেকে টেলিফোন করে বৃষ্টির ভাইকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় যে, উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় লাশটি বৃষ্টিরই।

জানা গেছে, বৃষ্টির পরিবারের পক্ষ থেকে তার মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সে অনুযায়ী ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মাধ্যমে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, নিহত অপর শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ আগামী ২ মে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে দুবাই হয়ে ৪ মে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, বৃষ্টি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতকোত্তর পড়ছিলেন। এর আগে তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

গত ১৬ এপ্রিল ফ্লোরিডার টাম্পায় লিমনের বাসা থেকে সর্বশেষ তাকে দেখা যাওয়ার পর থেকে তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন। এই জোড়া খুনের ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুগারবিয়েহ নামের এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বাসা থেকেই নাহিদার মরদেহের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল।

এদিকে, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী লিমন ও বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আদালতে রোমহর্ষক বিবরণ উঠে এসেছে। ফ্লোরিডার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘টাম্পা বে টুয়েন্টিএইট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, লিমনের মরদেহ কীভাবে পলিথিনের ট্র্যাশ ব্যাগে ভরে ফেলে আসা হয়েছিল, তার বিস্তারিত আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেফতার ২৬ বছর বয়সি মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুগারবিয়েহর বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি বা পরিকল্পিত হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, বাসার ভেতরেই দুজনকে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আদালতের নথি অনুযায়ী, পারিপার্শ্বিক প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে দেখা যায়—হিশাম ধারালো অস্ত্র দিয়ে লিমন ও বৃষ্টিকে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করেন। এরপর বিভিন্ন ক্লিনিং সামগ্রী দিয়ে ঘটনাস্থল পরিষ্কার করেন এবং আগে থেকে কিনে রাখা কালো রঙের বড় ট্র্যাশ ব্যাগে লিমনের লাশ ভরে ব্রিজের উত্তর পাশে ফেলে আসেন। গোয়েন্দারা যখন ভারী ব্যাগটি উদ্ধার করেন, তখন সেখান থেকে দুর্গন্ধ বেরোচ্ছিল।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, আবুগারবিয়েহ নিহতদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ট্র্যাশ কম্প্যাক্টরে (বর্জ্য সংকুচিত করার বৈদ্যুতিক যন্ত্র) ফেলে দেন। সেখানে পাওয়া রক্তের নমুনায় লিমন ও বৃষ্টির উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে।

এছাড়া লোকেশন ট্র্যাক করে নিহতদের মোবাইল ফোন এবং লিমনের মরদেহ গুম করার স্থানে হিশামের ফোনের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ভয়ংকর বিষয় হলো, ওই ফোনের মাধ্যমেই অনলাইনে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সরঞ্জাম কেনা হয় এবং লাশ গুম করার উপায় নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘চ্যাটজিপিটি’র (ChatGPT) সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন অভিযুক্ত হিশাম।

blank

ফ্লোরিডায় উদ্ধারকৃত লাশটি নিখোঁজ বৃষ্টির, ৪ মে দেশে পৌঁছাবে লিমনের মরদেহ

ফ্লোরিডায় উদ্ধারকৃত লাশটি নিখোঁজ বৃষ্টির, ৪ মে দেশে পৌঁছাবে লিমনের মরদেহ

প্রকাশের সময় : ৩ মিনিট আগে
blank

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় স্থানীয় একটি জলাশয় থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বলে নিশ্চিত করেছে হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিস।

শুক্রবার (১ মে) ফ্লোরিডার পুলিশ ডিপার্টমেন্ট থেকে টেলিফোন করে বৃষ্টির ভাইকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় যে, উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় লাশটি বৃষ্টিরই।

জানা গেছে, বৃষ্টির পরিবারের পক্ষ থেকে তার মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সে অনুযায়ী ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মাধ্যমে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, নিহত অপর শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ আগামী ২ মে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে দুবাই হয়ে ৪ মে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, বৃষ্টি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতকোত্তর পড়ছিলেন। এর আগে তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

গত ১৬ এপ্রিল ফ্লোরিডার টাম্পায় লিমনের বাসা থেকে সর্বশেষ তাকে দেখা যাওয়ার পর থেকে তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন। এই জোড়া খুনের ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুগারবিয়েহ নামের এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বাসা থেকেই নাহিদার মরদেহের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল।

এদিকে, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী লিমন ও বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আদালতে রোমহর্ষক বিবরণ উঠে এসেছে। ফ্লোরিডার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘টাম্পা বে টুয়েন্টিএইট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, লিমনের মরদেহ কীভাবে পলিথিনের ট্র্যাশ ব্যাগে ভরে ফেলে আসা হয়েছিল, তার বিস্তারিত আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেফতার ২৬ বছর বয়সি মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুগারবিয়েহর বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি বা পরিকল্পিত হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, বাসার ভেতরেই দুজনকে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আদালতের নথি অনুযায়ী, পারিপার্শ্বিক প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে দেখা যায়—হিশাম ধারালো অস্ত্র দিয়ে লিমন ও বৃষ্টিকে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করেন। এরপর বিভিন্ন ক্লিনিং সামগ্রী দিয়ে ঘটনাস্থল পরিষ্কার করেন এবং আগে থেকে কিনে রাখা কালো রঙের বড় ট্র্যাশ ব্যাগে লিমনের লাশ ভরে ব্রিজের উত্তর পাশে ফেলে আসেন। গোয়েন্দারা যখন ভারী ব্যাগটি উদ্ধার করেন, তখন সেখান থেকে দুর্গন্ধ বেরোচ্ছিল।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, আবুগারবিয়েহ নিহতদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ট্র্যাশ কম্প্যাক্টরে (বর্জ্য সংকুচিত করার বৈদ্যুতিক যন্ত্র) ফেলে দেন। সেখানে পাওয়া রক্তের নমুনায় লিমন ও বৃষ্টির উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে।

এছাড়া লোকেশন ট্র্যাক করে নিহতদের মোবাইল ফোন এবং লিমনের মরদেহ গুম করার স্থানে হিশামের ফোনের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ভয়ংকর বিষয় হলো, ওই ফোনের মাধ্যমেই অনলাইনে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সরঞ্জাম কেনা হয় এবং লাশ গুম করার উপায় নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘চ্যাটজিপিটি’র (ChatGPT) সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন অভিযুক্ত হিশাম।