দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকারের অধীনে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের নির্বাচন নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এই নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের লড়াইয়ে পাবনা জেলা থেকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক লড়াকু নেত্রী অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা।
পাবনা-সিরাজগঞ্জ অঞ্চল থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে তিনি ইতিমধ্যেই দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ, সাহসী ভূমিকা এবং দলের প্রতি অবিচল আনুগত্য তাকে এই দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে রেখেছে বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।
পাবনার চাটমোহরের সন্তান অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা একটি ঐতিহ্যবাহী বিএনপি পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। ছাত্রজীবনেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে তার হাতেখড়ি। ১/১১-এর রাজনৈতিক সংকটের সময় থেকে শুরু করে বিগত সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে তিনি রাজপথে ছিলেন প্রথম সারিতে। আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি পতিত সরকারের রোষানলে পড়েন এবং ২০১৮ সালে একাধিক মিথ্যা মামলায় কারাভোগ করেন। এমনকি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করতে তাকে টানা ৮ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তিনি দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।
সংগঠক হিসেবে রুমা তার মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে। তিনি ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রদলের দুই মেয়াদে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এরপর কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সদস্য, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য। শুধু ঢাকাতেই নয়, সারা দেশে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম বেগবান করতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনে নারী ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন রুমা। তার নির্বাচনী কৌশলের কারণেই চাটমোহর উপজেলায় ধানের শীষের প্রার্থী কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন বিপুল ভোট পান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাবনার ৫টি আসনের মধ্যে জামায়াতের কাছে হারানো আসনগুলো পুনরুদ্ধার এবং বৃহত্তর পাবনায় বিএনপির অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে রুমার মতো ত্যাগী ও সাহসী নারী নেতৃত্বের বিকল্প নেই।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা বলেন “ওয়ান ইলেভেনের সেই দুঃসময় থেকে আজ অবধি আমি জাতীয়তাবাদী আদর্শের পতাকাতলে অবিচল আছি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে সকল আন্দোলনে রাজপথে থেকেছি। জেল-জুলুম কোনো কিছুই আমাকে আদর্শ থেকে সরাতে পারেনি। আমি বিশ্বাস করি, দল আমার ত্যাগ ও রাজপথের সক্রিয়তাকে মূল্যায়ন করবে। মনোনীত হলে আমি পাবনা-সিরাজগঞ্জ তথা পুরো উত্তরবঙ্গের নারী জাগরণ ও বিএনপির রাজনীতিতে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে পারব।”
পাবনা জেলার সাধারণ নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা মনে করছেন, দলের দুঃসময়ের এই কান্ডারিকে সংরক্ষিত আসনে মূল্যায়ন করা হলে তা তৃণমূলের ত্যাগী কর্মীদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হবে।

স্টাফ রিপোর্টার 



















