ঢাকা শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

blank

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদে স্পিকারের দপ্তরে পৌঁছে দেন।

সূত্র জানায়, ‘রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ’ শিরোনামের পদত্যাগপত্রটি রাষ্ট্রপতির অফিসিয়াল প্যাডে লেখা হয়েছে। এতে সবুজ কালিতে স্পিকারকে ‘শ্রদ্ধাজনেষু’ সম্বোধন করা হয়েছে এবং শেষে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরের পাশাপাশি ২৪ জুলাই ২০২৬ তারিখ উল্লেখ করেছেন।

একই সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি কোনো রাজনৈতিক চাপের কারণে নয়, ব্যক্তিগত ও অসুস্থতাজনিত কারণেই পদত্যাগ করেছেন।

blank

এদিকে বিকেল ৫টায় এ বিষয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়েই এ ব্রিফিং আয়োজন করা হয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ইসলামী ব্যাংকের একটি শীর্ষ পদে কর্মরত অবস্থায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত হন। ওই পদ থেকে পদত্যাগ করে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তবে সাংবিধানিক কারণ দেখিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার তাকে অপসারণের উদ্যোগ নেয়নি। সে সময় প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও এ বিষয়ে ঐকমত্য ছিল না।

যদিও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, তবুও জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যদের শপথ পড়ান। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি মূলত আনুষ্ঠানিক ও রুটিন দায়িত্বেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও তার উপস্থিতি ছিল সীমিত।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, বিদেশে বাংলাদেশি দূতাবাস ও কনস্যুলেট থেকে তার ছবি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তিনি অপমানিত বোধ করেছেন এবং দায়িত্ব ছাড়তে চান।

২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের বিষয়টি আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসে। কয়েক মাস ধরে নানা জল্পনার পর অবশেষে তিনি পদত্যাগ করলেন।

জনপ্রিয় খবর
blank

বন্ধুত্বের টানে বড়াইগ্রামে চীনা যুবক, একনজর দেখতে ভিড় স্থানীয়দের

পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

প্রকাশের সময় : ৮ ঘন্টা আগে
blank

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদে স্পিকারের দপ্তরে পৌঁছে দেন।

সূত্র জানায়, ‘রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ’ শিরোনামের পদত্যাগপত্রটি রাষ্ট্রপতির অফিসিয়াল প্যাডে লেখা হয়েছে। এতে সবুজ কালিতে স্পিকারকে ‘শ্রদ্ধাজনেষু’ সম্বোধন করা হয়েছে এবং শেষে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরের পাশাপাশি ২৪ জুলাই ২০২৬ তারিখ উল্লেখ করেছেন।

একই সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি কোনো রাজনৈতিক চাপের কারণে নয়, ব্যক্তিগত ও অসুস্থতাজনিত কারণেই পদত্যাগ করেছেন।

blank

এদিকে বিকেল ৫টায় এ বিষয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়েই এ ব্রিফিং আয়োজন করা হয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ইসলামী ব্যাংকের একটি শীর্ষ পদে কর্মরত অবস্থায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত হন। ওই পদ থেকে পদত্যাগ করে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তবে সাংবিধানিক কারণ দেখিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার তাকে অপসারণের উদ্যোগ নেয়নি। সে সময় প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও এ বিষয়ে ঐকমত্য ছিল না।

যদিও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, তবুও জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যদের শপথ পড়ান। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি মূলত আনুষ্ঠানিক ও রুটিন দায়িত্বেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও তার উপস্থিতি ছিল সীমিত।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, বিদেশে বাংলাদেশি দূতাবাস ও কনস্যুলেট থেকে তার ছবি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তিনি অপমানিত বোধ করেছেন এবং দায়িত্ব ছাড়তে চান।

২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের বিষয়টি আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসে। কয়েক মাস ধরে নানা জল্পনার পর অবশেষে তিনি পদত্যাগ করলেন।