ঢাকা বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ-কোরিয়া শিক্ষায় সুংসিল ও অতীশ দীপঙ্করের সমঝোতা

blank

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুংসিল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এডিইউএসটি) মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন উভয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

সোমবার (২০ এপ্রিল) দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুদেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে বলে আশা করা হচ্ছে।

সিউলে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকঃ  অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শামসুল আলম লিটন এবং সুংসিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট (ভাইস-চ্যান্সেলর) ড. ইয়ুনজাই লীর নেতৃত্বে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদলের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:

  • সুংসিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক ইয়ং জিন আহন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ডিন ড. জংমিন শন এবং গ্লোবাল ফিউচার এডুকেশন ইনস্টিটিউটের পরিচালক গো ডং উহান।

  • কোরিয়ায় এডিইউএসটি-এর কৌশলগত সহযোগী ‘সোল গেটওয়ে কর্পোরেশন’-এর প্রেসিডেন্ট ড. মুন জে-কিউন এবং অ্যাডভাইজর ড. হোয়াং জে-কিউ।

  • এজেন্সি ফর ডিফেন্স ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকো-এর ডিরেক্টর ড. লি ওন-হি এবং ব্যাংকো-এর প্রেসিডেন্ট জাং মিন-সিওক।

বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়ঃ  উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা পারস্পরিক একাডেমিক সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে দ্রুত একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষরের ওপর জোর দেন। বৈঠকে যেসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়:

  • শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময়: দুদেশের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে যৌথ কর্মসূচি গ্রহণ।

  • যৌথ গবেষণা: অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন খাতে যৌথ গবেষণার উদ্যোগ।

  • প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা: ভবিষ্যৎমুখী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সম্প্রসারণ।

দক্ষতা উন্নয়নে ‘স্পার্কস’ পরিদর্শনঃ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের আলোচনার পরদিন, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এডিইউএসটি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শামসুল আলম লিটন সিউলে অবস্থিত বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান ‘স্পার্কস’ পরিদর্শন করেন।

প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স এবং আধুনিক প্রযুক্তি খাতে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের হাইটেক শিল্পে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বেশ প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। পরিদর্শনকালে বাংলাদেশেও এ ধরনের দক্ষতা উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতে এ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করে।

 ১৮৯৭ সালে পিয়ংইয়ংয়ে প্রতিষ্ঠিত এবং কোরিয় যুদ্ধের পর সিউলে স্থানান্তরিত সুংসিল বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। অন্যদিকে, বাংলাদেশের অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং মানসম্মত উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের মেলবন্ধন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার সুযোগ আরও প্রসারিত করবে।

blank

বাংলাদেশ-কোরিয়া শিক্ষায় সুংসিল ও অতীশ দীপঙ্করের সমঝোতা

বাংলাদেশ-কোরিয়া শিক্ষায় সুংসিল ও অতীশ দীপঙ্করের সমঝোতা

প্রকাশের সময় : ২ মিনিট আগে
blank

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুংসিল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এডিইউএসটি) মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন উভয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

সোমবার (২০ এপ্রিল) দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুদেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে বলে আশা করা হচ্ছে।

সিউলে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকঃ  অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শামসুল আলম লিটন এবং সুংসিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট (ভাইস-চ্যান্সেলর) ড. ইয়ুনজাই লীর নেতৃত্বে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদলের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:

  • সুংসিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক ইয়ং জিন আহন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ডিন ড. জংমিন শন এবং গ্লোবাল ফিউচার এডুকেশন ইনস্টিটিউটের পরিচালক গো ডং উহান।

  • কোরিয়ায় এডিইউএসটি-এর কৌশলগত সহযোগী ‘সোল গেটওয়ে কর্পোরেশন’-এর প্রেসিডেন্ট ড. মুন জে-কিউন এবং অ্যাডভাইজর ড. হোয়াং জে-কিউ।

  • এজেন্সি ফর ডিফেন্স ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকো-এর ডিরেক্টর ড. লি ওন-হি এবং ব্যাংকো-এর প্রেসিডেন্ট জাং মিন-সিওক।

বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়ঃ  উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা পারস্পরিক একাডেমিক সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে দ্রুত একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষরের ওপর জোর দেন। বৈঠকে যেসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়:

  • শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময়: দুদেশের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে যৌথ কর্মসূচি গ্রহণ।

  • যৌথ গবেষণা: অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন খাতে যৌথ গবেষণার উদ্যোগ।

  • প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা: ভবিষ্যৎমুখী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সম্প্রসারণ।

দক্ষতা উন্নয়নে ‘স্পার্কস’ পরিদর্শনঃ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের আলোচনার পরদিন, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এডিইউএসটি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শামসুল আলম লিটন সিউলে অবস্থিত বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান ‘স্পার্কস’ পরিদর্শন করেন।

প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স এবং আধুনিক প্রযুক্তি খাতে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের হাইটেক শিল্পে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বেশ প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। পরিদর্শনকালে বাংলাদেশেও এ ধরনের দক্ষতা উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতে এ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করে।

 ১৮৯৭ সালে পিয়ংইয়ংয়ে প্রতিষ্ঠিত এবং কোরিয় যুদ্ধের পর সিউলে স্থানান্তরিত সুংসিল বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। অন্যদিকে, বাংলাদেশের অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং মানসম্মত উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের মেলবন্ধন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার সুযোগ আরও প্রসারিত করবে।