তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জোর দিয়ে বলেছেন, রাষ্ট্র ও সমাজে জেন্ডার সংবেদনশীলতা প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ নিলেই চলবে না; বরং গণমাধ্যম ও রাজনীতি—উভয় ক্ষেত্রেই জবাবদিহিতার সংস্কৃতিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর সেমিনার কক্ষে ‘সাংবাদিকতায় জেন্ডার সংবেদনশীলতা’ শীর্ষক একটি ম্যানুয়ালের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “জেন্ডার সংবেদনশীলতার ঘাটতি শুধু নারী-পুরুষের মানসিকতার বিষয় নয়, এটি আমাদের সামগ্রিক মূল্যবোধের অভাবকে নির্দেশ করে। রাজনীতি ও গণমাধ্যমের মতো দুটি শক্তিশালী জায়গা যদি পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতার চর্চা করে, তবে সমাজ আপনা-আপনিই জেন্ডার সংবেদনশীল হয়ে উঠবে।”
জহির উদ্দিন স্বপন আরও উল্লেখ করেন, রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক উভয়কেই সবসময় জনগণের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করতে হয়। রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য জনসেবা ও রাষ্ট্র পরিচালনা, আর গণমাধ্যমের কাজ বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন। কিন্তু এই দুই জায়গায় জবাবদিহিতার অভাব থাকলে জনস্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বর্তমান সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যমে বিশ্বাস করে। কারণ, একমাত্র একটি স্বাধীন গণমাধ্যমই পারে রাজনীতিবিদদের জবাবদিহিতার কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে।”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “ইউটিউব বা অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে কোনো অদৃশ্য কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহিতার প্রত্যাশা করা একেবারেই অবাস্তব। জবাবদিহিতা হতে হবে এমন কর্তৃপক্ষের কাছে, যাদের বাস্তব অস্তিত্ব রয়েছে। এই নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখন বিশ্বজুড়ে সঠিক নজরদারি এবং সুস্থ নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।”
অনুষ্ঠানে পিআইবি’র মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ সভাপতিত্ব করেন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা।

অনলাইন ডেস্ক 


















