ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বাদশ কার্যদিবসে (৯ এপ্রিল) একযোগে ৩১টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের উত্থাপিত এসব বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়। পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা ২৮টি অধ্যাদেশকে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই আইনি রূপ দেওয়া হয়েছে।
মূল কার্যক্রম ও উল্লেখযোগ্য বিলসমূহ:
পাস হওয়া ৩১টি বিলের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়ার ভিন্নতা অনুযায়ী তিন ধরনের বিল লক্ষ্য করা গেছে:
১. অবিকল পাস হওয়া ২৮টি বিল:
অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রমকে স্থায়ী রূপ দিতে ২৮টি অধ্যাদেশকে অবিকল রেখে বিল হিসেবে পাস করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো – শাসন ও স্থানীয় সরকার: ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং সিটি কর্পোরেশন (সংশোধন) বিল।
অর্থ ও সম্পদ: ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা বিল, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন (সংশোধন) বিল এবং নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (সংশোধন) বিল।
প্রযুক্তি ও জ্বালানি: ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা বিল, টেলিযোগাযোগ ও গ্যাস (সংশোধন) বিল এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) বিল।
জনকল্যাণ: শ্রম সংশোধন বিল, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) বিল এবং মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন বিল।
২. বিচার বিভাগ সংক্রান্ত বিল:
অন্তর্বর্তী সরকারের দুটি অধ্যাদেশ রহিত করে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ এবং ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল’ পাস করা হয়েছে।
৩. মানবাধিকার কমিশন আইন:
‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ রহিত করে ২০০৯ সালের মূল আইনটিকে পুনঃপ্রচলন করতে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬’ পাস করা হয়েছে।
আইনী গুরুত্ব:
এই বিলগুলো পাসের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া প্রশাসনিক ও সংস্কারমূলক সিদ্ধান্তগুলো এখন থেকে স্থায়ী আইনের মর্যাদা পেল। এর ফলে স্থানীয় সরকার কাঠামো এবং বিচার বিভাগীয় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নতুন আইনি স্বচ্ছতা তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনলাইন ডেস্ক 



















