ঢাকা শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে রাজনীতি: সম্প্রীতির অনন্য নজিরে নতুন আশার বাংলাদেশ

blank

রাজনীতির মহিমায় ভাসছে দেশ। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। অতীতে নির্বাচন-পরবর্তী সময় মানেই ছিল সহিংসতা, প্রতিহিংসা আর ভয়—কিন্তু এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। জয়-পরাজয়কে ছাপিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে মিষ্টি বিনিময়, কোলাকুলি এবং একে অপরের বাড়িতে গিয়ে দোয়া নেওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে রাজনীতির সৌন্দর্যের অনন্য উদাহরণ হিসেবে।

নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগেই তিনি বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতাদের বাসায় গিয়ে শুভেচ্ছা জানান। গতকাল সন্ধ্যায় প্রথমে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে এবং পরে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় গিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান তিনি। ডা. শফিকুর রহমান এ ঘটনাকে ‘জাতীয় রাজনীতির এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেন।

সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্যটি দেখা গেছে রাজধানীর শাহীনবাগে। ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচিত ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাশেম আরমান তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সানজিদা ইসলাম তুলির বাসায় গিয়ে হাজির হন। গাড়ি থেকে নেমেই তিনি তুলির মা হাজেরা খাতুনকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। হাজেরা খাতুন তাঁকে ‘আব্বা’ বলে সম্বোধন করে দোয়া করেন এবং বলেন, আমার আব্বা আসছে, সৎ লোক আসছে।” এই একটি বাক্য যেন রাজনীতির দীর্ঘদিনের কঠোরতা আর বিভাজনের দেয়াল ভেঙে দেয়।

সারা দেশেই বিজয়ী প্রার্থীরা পরাজিত প্রার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্বের বার্তা দিচ্ছেন। কুষ্টিয়া-৩, রাজশাহী-৩ ও ৬, মৌলভীবাজার-৩, নোয়াখালী-৪, মেহেরপুর-১, দিনাজপুর-২—প্রায় সবখানেই ফুল, মিষ্টি আর আন্তরিকতার দৃশ্য এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির জানান দিচ্ছে।

এই পরমতসহিষ্ণু আচরণে উচ্ছ্বসিত সাধারণ মানুষ। নেটিজেনরা বলছেন, রাজনীতিতে জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আর মানবিকতা বজায় রাখাই প্রকৃত গণতন্ত্রের পরিচয়। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—এই সৌজন্যের সংস্কৃতি যেন শুধু নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং দেশের স্থায়ী রাজনৈতিক শিষ্টাচারে রূপ নেয়।

ফেসবুক ব্যবহারকারী মীর আওয়াল লিখেছেন,“বিজয়ীর অহংকার নয়, বিনয়ই একজন নেতাকে মহান করে। হবু প্রধানমন্ত্রী হয়েও তারেক রহমান যেভাবে বিরোধী নেতাদের বাসায় গিয়ে শুভেচ্ছা জানালেন, তা আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মাইলফলক। প্রতিহিংসার দেয়াল ভেঙে সম্প্রীতির এই সেতু আজীবন টিকে থাকুক।”

আর হাজী আকমল হোসেন লিখেছেন, “এগুলো শুধু ছবি নয়—এগুলো সাধারণ মানুষের বহুদিনের স্বপ্ন। আমরা এমন এক বাংলাদেশ চেয়েছিলাম, যেখানে ভোট শেষে আর ভয়ে লুকিয়ে থাকতে হবে না। আজ মনে হচ্ছে আমার ভোটটি সত্যিই সার্থক হয়েছে।”

ফাহমিদা লিখেছেন, “ব্যারিস্টার আরমান যখন তুলির মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলেন, আর তিনি বললেন— ‘আমার আব্বা আসছে’—এই একটি মুহূর্তেই যেন ৫৩ বছরের রাজনৈতিক তিক্ততা ধুয়ে গেল। জয়-পরাজয় ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু এই ভালোবাসা চিরস্থায়ী হোক। ভালোবাসা জিতুক, বাংলাদেশ জিতুক।”

blank

পারস্য উপসাগরে ইরানের অবরোধ: সংকটে ২ সহস্রাধিক জাহাজ ও ২০ হাজার নাবিক

জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে রাজনীতি: সম্প্রীতির অনন্য নজিরে নতুন আশার বাংলাদেশ

প্রকাশের সময় : ০৩:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
blank

রাজনীতির মহিমায় ভাসছে দেশ। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। অতীতে নির্বাচন-পরবর্তী সময় মানেই ছিল সহিংসতা, প্রতিহিংসা আর ভয়—কিন্তু এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। জয়-পরাজয়কে ছাপিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে মিষ্টি বিনিময়, কোলাকুলি এবং একে অপরের বাড়িতে গিয়ে দোয়া নেওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে রাজনীতির সৌন্দর্যের অনন্য উদাহরণ হিসেবে।

নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগেই তিনি বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতাদের বাসায় গিয়ে শুভেচ্ছা জানান। গতকাল সন্ধ্যায় প্রথমে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে এবং পরে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় গিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান তিনি। ডা. শফিকুর রহমান এ ঘটনাকে ‘জাতীয় রাজনীতির এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেন।

সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্যটি দেখা গেছে রাজধানীর শাহীনবাগে। ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচিত ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাশেম আরমান তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সানজিদা ইসলাম তুলির বাসায় গিয়ে হাজির হন। গাড়ি থেকে নেমেই তিনি তুলির মা হাজেরা খাতুনকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। হাজেরা খাতুন তাঁকে ‘আব্বা’ বলে সম্বোধন করে দোয়া করেন এবং বলেন, আমার আব্বা আসছে, সৎ লোক আসছে।” এই একটি বাক্য যেন রাজনীতির দীর্ঘদিনের কঠোরতা আর বিভাজনের দেয়াল ভেঙে দেয়।

সারা দেশেই বিজয়ী প্রার্থীরা পরাজিত প্রার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্বের বার্তা দিচ্ছেন। কুষ্টিয়া-৩, রাজশাহী-৩ ও ৬, মৌলভীবাজার-৩, নোয়াখালী-৪, মেহেরপুর-১, দিনাজপুর-২—প্রায় সবখানেই ফুল, মিষ্টি আর আন্তরিকতার দৃশ্য এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির জানান দিচ্ছে।

এই পরমতসহিষ্ণু আচরণে উচ্ছ্বসিত সাধারণ মানুষ। নেটিজেনরা বলছেন, রাজনীতিতে জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আর মানবিকতা বজায় রাখাই প্রকৃত গণতন্ত্রের পরিচয়। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—এই সৌজন্যের সংস্কৃতি যেন শুধু নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং দেশের স্থায়ী রাজনৈতিক শিষ্টাচারে রূপ নেয়।

ফেসবুক ব্যবহারকারী মীর আওয়াল লিখেছেন,“বিজয়ীর অহংকার নয়, বিনয়ই একজন নেতাকে মহান করে। হবু প্রধানমন্ত্রী হয়েও তারেক রহমান যেভাবে বিরোধী নেতাদের বাসায় গিয়ে শুভেচ্ছা জানালেন, তা আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মাইলফলক। প্রতিহিংসার দেয়াল ভেঙে সম্প্রীতির এই সেতু আজীবন টিকে থাকুক।”

আর হাজী আকমল হোসেন লিখেছেন, “এগুলো শুধু ছবি নয়—এগুলো সাধারণ মানুষের বহুদিনের স্বপ্ন। আমরা এমন এক বাংলাদেশ চেয়েছিলাম, যেখানে ভোট শেষে আর ভয়ে লুকিয়ে থাকতে হবে না। আজ মনে হচ্ছে আমার ভোটটি সত্যিই সার্থক হয়েছে।”

ফাহমিদা লিখেছেন, “ব্যারিস্টার আরমান যখন তুলির মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলেন, আর তিনি বললেন— ‘আমার আব্বা আসছে’—এই একটি মুহূর্তেই যেন ৫৩ বছরের রাজনৈতিক তিক্ততা ধুয়ে গেল। জয়-পরাজয় ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু এই ভালোবাসা চিরস্থায়ী হোক। ভালোবাসা জিতুক, বাংলাদেশ জিতুক।”