ঢাকা শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চলনবিলে অবাঞ্ছিত কচুরিপানা যেন কৃষকদের গলার কাঁটা

blank

মৎস্য ও শস্য ভান্ডার নামে খ্যাত দেশের সর্ববৃহৎ চলনবিল অধ্যুষিত সিংড়া উপজেলায় একমাত্র প্রধান ফসল বোরো ধান। বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকা এ উপজেলার বিস্তৃত ফসলের জমিগুলো জেগে উঠেছে। অতীতের হিসাব অনুযায়ী শস্য ভান্ডারের এই উপজেলার কৃষকদের বীজতলা তৈরি, বীজতলায় পানি সেচ কিংবা বোরো ধান রোপণের জন্য জমি প্রস্তুতে ব্যস্ত থাকার কথা। 

 

কিন্তু, এ বছর দীর্ঘ এবং অসময়ের বন্যার কারণে ছোট বড় মাঠগুলোতে উজান থেকে ভেসে আসা অবাঞ্ছিত আগাছা ও কচুরিপানা কৃষি জমিতে জমে থাকার কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এই উপজেলার পাঁচ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান চাষ ও বীজতলা তৈরি। জমি প্রস্তুত তো দূরের কথা, কচুরিপানা পরিষ্কারে দিশেহারা এই উপজেলার অনেক কৃষক।

 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের রাখালগাছা, বজরাহার, চৌগ্রাম সিংড়া পৌর এলাকার উত্তর ও দক্ষিণ দমদমা হিয়ালা বিল, ডাহিয়া, পাঁড়িল, কাউয়াটিকরি, বেড়াবাড়ি, গাড়াবাড়ি, সরিষাবাড়ী, সাঁতপুকুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার জমিগুলোতে জমে আছে কচুরিপানা।

blank

সিংড়া উপজেলার ছোট বড় খালগুলো বর্ষার শুরু থেকে বাঁশের বানা দিয়ে বেড়া দেয়ার কারণে কচুরিপানার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এ বছর কচুরিপানা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যেসব জমিতে হালকা কচুরিপানা রয়েছে সেগুলো পরিষ্কার করতে ৫ হাজার টাকা এবং বেশি কচুরিপানা জমে থাকা জমিগুলো পরিষ্কার করতে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে।

blank

তাই কৃষকরা ব্যয়ের কথা চিন্তা করে অনেকে এ বছর বোরো ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। উপজেলার হিয়ালা বিলের অন্তত ২০০ হেক্টর জমি এবার অনাবাদি থাকবে কচুরিপানার কারণে। ওই জমিগুলোতে যে পরিমাণ কচুরিপানা আটকে গেছে তা পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। কচুরিপানা দ্রুত পরিষ্কার করার জন্য কৃষকরা জমিতে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ও বিষ প্রয়োগ করছে এতে কোন ধরনের উপকার আসছে না শুধু অর্থের ব্যয় ছাড়া।

 

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এ বছর ৫ হাজার হেক্টর জমিতে কচুরিপানা জমে আছে। যা পরিষ্কার করতে জমি ভেদে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।

 

প্রতিবছর সিংড়া উপজেলার মাঠগুলোতে বর্ষাকালে যে পরিমাণ কচুরিপানা ও আগাছা জন্ম নিচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পুরো বিল কচুরিপানা গ্রাস করে নেবে।

জনপ্রিয় খবর
blank

অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু হবে: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

চলনবিলে অবাঞ্ছিত কচুরিপানা যেন কৃষকদের গলার কাঁটা

প্রকাশের সময় : ০৩:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
blank

মৎস্য ও শস্য ভান্ডার নামে খ্যাত দেশের সর্ববৃহৎ চলনবিল অধ্যুষিত সিংড়া উপজেলায় একমাত্র প্রধান ফসল বোরো ধান। বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকা এ উপজেলার বিস্তৃত ফসলের জমিগুলো জেগে উঠেছে। অতীতের হিসাব অনুযায়ী শস্য ভান্ডারের এই উপজেলার কৃষকদের বীজতলা তৈরি, বীজতলায় পানি সেচ কিংবা বোরো ধান রোপণের জন্য জমি প্রস্তুতে ব্যস্ত থাকার কথা। 

 

কিন্তু, এ বছর দীর্ঘ এবং অসময়ের বন্যার কারণে ছোট বড় মাঠগুলোতে উজান থেকে ভেসে আসা অবাঞ্ছিত আগাছা ও কচুরিপানা কৃষি জমিতে জমে থাকার কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এই উপজেলার পাঁচ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান চাষ ও বীজতলা তৈরি। জমি প্রস্তুত তো দূরের কথা, কচুরিপানা পরিষ্কারে দিশেহারা এই উপজেলার অনেক কৃষক।

 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের রাখালগাছা, বজরাহার, চৌগ্রাম সিংড়া পৌর এলাকার উত্তর ও দক্ষিণ দমদমা হিয়ালা বিল, ডাহিয়া, পাঁড়িল, কাউয়াটিকরি, বেড়াবাড়ি, গাড়াবাড়ি, সরিষাবাড়ী, সাঁতপুকুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার জমিগুলোতে জমে আছে কচুরিপানা।

blank

সিংড়া উপজেলার ছোট বড় খালগুলো বর্ষার শুরু থেকে বাঁশের বানা দিয়ে বেড়া দেয়ার কারণে কচুরিপানার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এ বছর কচুরিপানা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যেসব জমিতে হালকা কচুরিপানা রয়েছে সেগুলো পরিষ্কার করতে ৫ হাজার টাকা এবং বেশি কচুরিপানা জমে থাকা জমিগুলো পরিষ্কার করতে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে।

blank

তাই কৃষকরা ব্যয়ের কথা চিন্তা করে অনেকে এ বছর বোরো ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। উপজেলার হিয়ালা বিলের অন্তত ২০০ হেক্টর জমি এবার অনাবাদি থাকবে কচুরিপানার কারণে। ওই জমিগুলোতে যে পরিমাণ কচুরিপানা আটকে গেছে তা পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। কচুরিপানা দ্রুত পরিষ্কার করার জন্য কৃষকরা জমিতে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ও বিষ প্রয়োগ করছে এতে কোন ধরনের উপকার আসছে না শুধু অর্থের ব্যয় ছাড়া।

 

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এ বছর ৫ হাজার হেক্টর জমিতে কচুরিপানা জমে আছে। যা পরিষ্কার করতে জমি ভেদে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।

 

প্রতিবছর সিংড়া উপজেলার মাঠগুলোতে বর্ষাকালে যে পরিমাণ কচুরিপানা ও আগাছা জন্ম নিচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পুরো বিল কচুরিপানা গ্রাস করে নেবে।