ইতালির বোলোনিয়া শহরে পুলিশ হেফাজতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আবদুর রহিম ফকির (৪২)-এর মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন প্রবাসীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবাইকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
রোববার বোলোনিয়ার পিলাস্ত্রো এলাকায় পুলিশের হেফাজতে আবদুর রহিমের মৃত্যু হয়। তার বোন খাদিজা অভিযোগ করে বলেন, “পুলিশ আমার ভাইকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
ইতালীয় গণমাধ্যম জানায়, সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে মরক্কো থেকে ইতালিতে পাড়ি জমান আবদুর রহিম। পরে তিনি সেখানেই বৈধভাবে বসবাস শুরু করেন এবং পরিচ্ছন্নতা-সেবা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঘটনার দিন বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে পিলাস্ত্রো এলাকায় গিয়েছিলেন তিনি।
পুলিশের দাবি, একটি গাড়ি ভাঙচুরের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে আবদুর রহিম আক্রমণাত্মক আচরণ করলে প্রথমে তাকে পেপার স্প্রে করা হয়। পরে নিয়ন্ত্রণে এনে হাতকড়া পরানো হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আটক অবস্থায় আবদুর রহিম বারবার সাহায্যের জন্য চিৎকার করছেন এবং শ্বাসকষ্টের কথা বলছেন। কিছুক্ষণ পর তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন। পরিবারের দাবি, তিনি আগে থেকেই হাঁপানি ও হৃদরোগে ভুগছিলেন।
ঘটনার পর সোমবার বোলোনিয়ার পিয়াজ্জা দেল নেত্তুনো এলাকায় শত শত মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা পুলিশের জবাবদিহি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। বিক্ষোভ চলাকালে কিছু উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।
অন্যদিকে ইতালির প্রধান দুই পুলিশ ইউনিয়নের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার অসম্পূর্ণ ভিডিও ছড়িয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।
এদিকে আবদুর রহিম ফকিরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইতালির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক 


















