মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক গবেষণা ও শিক্ষা বিষয়ক সম্মেলন International Conference of Research and Education for Educators (ICREE) 2026-এ অংশ নিয়ে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের সন্তান আব্দুল মালেক। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ৭২ জন গবেষকের মধ্যে তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেন।
গত ২৩ মে মালয়েশিয়ার ল্যাংকাউইয়ের ক্যামার রিসোর্টে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম Malaysia Association of Research and Education for Educators (MAsREE) এ আয়োজন করে।
আব্দুল মালেক বর্তমানে ঢাকার তেজগাঁও কলেজ-এর ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি মালয়েশিয়ার Kuala Lumpur University of Science and Technology-এ পিএইচডি গবেষণায় যুক্ত আছেন।
সম্মেলনে উপস্থাপিত তাঁর গবেষণাপত্রের শিরোনাম ছিল— “Educational Technology Integration in the Age of Artificial Intelligence and Digitalization: A Qualitative Study of Pedagogical Practices and Challenges in Secondary Schools in Bangladesh”।
গবেষণায় তিনি বাংলাদেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষা প্রযুক্তির ব্যবহার, শিক্ষকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং আধুনিক শিক্ষণ কৌশল নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। বিশেষভাবে আলোচনায় আসে আধুনিক শিক্ষাবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক কাঠামো হিসেবে পরিচিত TPACK (Technological Pedagogical and Content Knowledge) ফ্রেমওয়ার্ক।
এ কাঠামোর মাধ্যমে প্রযুক্তিগত জ্ঞান, পেডাগজিক্যাল জ্ঞান এবং বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের সমন্বিত প্রয়োগ কীভাবে শিক্ষাকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারে, তা গবেষণায় তুলে ধরা হয়েছে। তিনি দেখিয়েছেন, বাংলাদেশের অনেক শিক্ষক প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও তিনটি জ্ঞানের কার্যকর সমন্বয়ের অভাব শিক্ষণ ফলাফলে প্রভাব ফেলছে।
গবেষণায় আরও বিশ্লেষণ করা হয়েছে, শিক্ষকরা কীভাবে ডিজিটাল টুল ব্যবহার করছেন, কোথায় তারা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন এবং কীভাবে প্রশিক্ষণ ও নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে TPACK-ভিত্তিক দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব।
আব্দুল মালেক বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের শিক্ষকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরাই ছিল তাঁর গবেষণার মূল লক্ষ্য।
শিক্ষা ও গবেষণা সংশ্লিষ্টদের মতে, এ অর্জন ভবিষ্যতে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল শিক্ষণ পদ্ধতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিক্ষা নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্টাফ রিপোর্টার 

















