ঢাকা রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘মানসম্মত উচ্চশিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে’-প্রফেসর ড. এএসএম  ইকবাল হোসাইন

blank

মানসম্মত উচ্চশিক্ষা একটি জাতির উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার গুণগত মান, গবেষণা, প্রযুক্তির ব্যবহার, কর্মমুখী পাঠ্যক্রম ও নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয় এখন সময়ের দাবি।বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা এবং মানোন্নয়নের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ট্রেজারার প্রফেসর ড. এএসএম  ইকবাল হোসাইন।  সাক্ষাৎকারে তিনি মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণা, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার অবস্থান সুদৃঢ় করার বিষয়ে তাঁর ভাবনা তুলে ধরেছেন। সাক্ষাতকার নিয়েছেন দৈনিক চলনবিল প্রবাহের গবেষণা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন।

 

চলনবিল প্রবাহঃ  মানসম্মত শিক্ষা বলতে আপনি কী বোঝেন এবং বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব কতটুকু?

প্রফেসর ড. এএসএম  ইকবাল হোসাইনঃ উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে মানসম্মত শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন নির্ভর করে দক্ষ, যোগ্য ও উদ্ভাবনী চিন্তাসম্পন্ন মানবসম্পদের ওপর। বর্তমান বিশ্বে শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান দিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়; এর সঙ্গে প্রয়োজন প্রযুক্তিগত দক্ষতা, ভাষাগত যোগ্যতা, গবেষণার সক্ষমতা এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা।

আমাদের উচ্চশিক্ষাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা দেশীয় শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রেও নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে। এ জন্য পাঠ্যক্রমের আধুনিকায়ন, দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণার প্রসার, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং শিক্ষার গুণগত মান নিয়মিত মূল্যায়ন করা জরুরি।

চলনবিল প্রবাহঃ মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এইউবি) কী ধরনের ভূমিকা পালন করছে?

প্রফেসর ড. এএসএম  ইকবাল হোসাইনঃ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত উচ্চশিক্ষাকে আরও বিস্তৃত, সহজলভ্য ও গুণগত মানসম্পন্ন করার মাধ্যমে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে অবদান রাখা। উচ্চশিক্ষার সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী জ্ঞান, পেশাগত দক্ষতা এবং নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে তোলার গুরুত্ব অপরিসীম।

আমার দৃষ্টিতে, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হয়। প্রথমত, যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষকের মাধ্যমে পাঠদান নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, সময়োপযোগী পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও নিয়মিত হালনাগাদ করা। তৃতীয়ত, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া। চতুর্থত, পরীক্ষা ও মূল্যায়নব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি বজায় রাখা।

চলনবিল প্রবাহঃ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য, অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের নীতিমালা কী?

প্রফেসর ড. এএসএম  ইকবাল হোসাইনঃ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান অনেকাংশেই নির্ভর করে তার শিক্ষকদের যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও পেশাগত নিষ্ঠার ওপর। একজন শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না; তিনি শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে  এইউবি মেধা, যোগ্যতা, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা এবং শিক্ষাদানের সক্ষমতাকে বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে।

শিক্ষক নিয়োগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা, উচ্চতর ডিগ্রি, গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা, পেশাগত দক্ষতা এবং শ্রেণিকক্ষে কার্যকরভাবে পাঠদানের সক্ষমতা বিবেচনা করছে । পাশাপাশি প্রার্থীর সততা, নৈতিকতা, যোগাযোগদক্ষতা ও শিক্ষার্থীবান্ধব মনোভাবও লক্ষ করা হচ্ছে।

নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা এবং নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে। নিয়োগের পরও শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ থাকছে।  নিয়মিত প্রশিক্ষণ, গবেষণায় অংশগ্রহণ, উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ এবং আধুনিক শিক্ষণ-পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা তাঁদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষভাবে কাজ করছে।

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শিক্ষক নিয়োগের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও বাস্তব চর্চা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত বিধিমালা অনুসরণ করে তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।  কারণ, যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি তাঁদের ধরে রাখা এবং কর্মপরিবেশ উন্নত করাও শিক্ষার মান নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

চলনবিল প্রবাহঃ শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও যুগোপযোগী জ্ঞান প্রদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টি কী ধরনের শিক্ষণ-পদ্ধতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করছে?

প্রফেসর ড. এএসএম  ইকবাল হোসাইনঃ বর্তমান যুগে শিক্ষাদান বলতে শুধু শ্রেণিকক্ষে বক্তৃতার মাধ্যমে পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু উপস্থাপন করাকে বোঝায় না। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীকে সক্রিয়ভাবে শেখার প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা, বাস্তব সমস্যা বিশ্লেষণের সুযোগ দেওয়া এবং অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগে সক্ষম করে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ জন্য কার্যকর শিক্ষণ-পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে অংশগ্রহণমূলক শ্রেণিকক্ষ, দলীয় আলোচনা, উপস্থাপনা, প্রকল্পভিত্তিক শিক্ষা, সমস্যা সমাধানভিত্তিক অনুশীলন, কেস স্টাডি এবং প্রয়োজনে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ। এসব পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিষয়বস্তু সম্পর্কে গভীর ধারণা অর্জনের পাশাপাশি যোগাযোগ, নেতৃত্ব, দলগত কাজ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা বিকাশ করতে পারছে।

প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী, অনলাইন লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ভার্চুয়াল ক্লাসরুম, ডিজিটাল লাইব্রেরি এবং বিষয়ভিত্তিক সফটওয়্যার ব্যবহারের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারও শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করছে।

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো—কোন প্রযুক্তি কতটা ব্যবহার করা হচ্ছে, তার পাশাপাশি এসব ব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীদের শেখার মান কতটা উন্নত হচ্ছে, তা মূল্যায়ন করা। প্রযুক্তি কখনো শিক্ষকের বিকল্প নয়; বরং এটি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর পারস্পরিক শেখার প্রক্রিয়াকে আরও সমৃদ্ধ করার একটি মাধ্যম।

চলনবিল প্রবাহঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও কর্মমুখী করার জন্য কী কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?

প্রফেসর ড. এএসএম  ইকবাল হোসাইনঃ পাঠ্যক্রমকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য প্রথমেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষাগত অগ্রগতি, স্বীকৃত মানদণ্ড এবং শ্রমবাজারের চাহিদা পর্যালোচনা করা  হচ্ছে।  পাশাপাশি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান, শিল্পোদ্যোক্তা, পেশাজীবী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে।

কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করতে ইন্টার্নশিপ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা, ব্যবহারিক প্রকল্প, পেশাগত প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং ক্যারিয়ার পরিকল্পনাসংক্রান্ত কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, ইংরেজি ভাষা, যোগাযোগ, সমস্যা সমাধান, দলগত কাজ এবং বিশ্লেষণী দক্ষতাকে পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও পাঠ্যক্রম নিয়মিত পর্যালোচনা, ফলাফলভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন ও আধুনিকায়ন করা উচিত। তবে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু বিদেশি পাঠ্যক্রম অনুসরণ করলেই চলবে না; বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি ও বাস্তব চাহিদাকেও যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে।

চলনবিল প্রবাহঃ গবেষণা, উদ্ভাবন ও জ্ঞানচর্চার পরিবেশ তৈরিতে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ভূমিকা কী?

প্রফেসর ড. এএসএম  ইকবাল হোসাইনঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান কাজ হলো নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, বিদ্যমান জ্ঞানের বিকাশ এবং গবেষণার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও মুক্ত জ্ঞানচর্চার পরিবেশ যত সমৃদ্ধ, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মান উন্নত হওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি।

গবেষণার পরিবেশ তৈরির জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত গবেষণা তহবিল, দক্ষ গবেষক, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, ডিজিটাল জার্নালে প্রবেশাধিকার, গবেষণাগার এবং গবেষণার উপযোগী অবকাঠামো। একই সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহিত করা, গবেষণাপত্র প্রকাশে সহায়তা প্রদান, গবেষণা সেমিনার আয়োজন এবং দেশি-বিদেশি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা গড়ে তোলা হচ্ছে।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় দারিদ্র্য, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি, প্রযুক্তি ও সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে গবেষণার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এসব বিষয়ে গবেষণার মাধ্যমে নীতিনির্ধারণ, উদ্ভাবন এবং জনকল্যাণে অবদান রাখছে।

চলনবিল প্রবাহঃ স্বল্প ব্যয়ে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টি কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে?

প্রফেসর ড. এএসএম  ইকবাল হোসাইনঃ উচ্চশিক্ষা একজন মানুষের জীবন পরিবর্তনের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। তাই মানসম্মত উচ্চশিক্ষাকে আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্বল্প ব্যয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে টিউশন ফি নির্ধারণে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করতে হয়। পাশাপাশি দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি, টিউশন ফি মওকুফ, আর্থিক সহায়তা এবং কিস্তিতে ফি পরিশোধের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়ক ব্যবস্থা রয়েছে।

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সাশ্রয়ী শিক্ষাব্যয়, আর্থিক সহায়তা, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা-প্রযুক্তির সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে ।  তবে কম খরচে শিক্ষা দেওয়ার অর্থ শিক্ষার মানের সঙ্গে আপস করা নয়। বরং দক্ষ ব্যবস্থাপনা, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং শিক্ষার মান নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে ব্যয় ও মানের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।

চলনবিল প্রবাহঃ শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, যোগাযোগক্ষমতা ও কর্মসংস্থানযোগ্যতা বৃদ্ধিতে বিশ্ববিদ্যালয়টি কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে?

প্রফেসর ড. এএসএম  ইকবাল হোসাইনঃ বর্তমান বিশ্বে কর্মসংস্থানযোগ্যতা শুধু ডিগ্রি অর্জনের ওপর নির্ভর করে না। একজন শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের পাশাপাশি ভাষাগত দক্ষতা, যোগাযোগক্ষমতা, প্রযুক্তি ব্যবহারের যোগ্যতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং পেশাগত আচরণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইংরেজি ভাষার দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ইংরেজি ভাষা শিক্ষা, কথোপকথনের অনুশীলন, উপস্থাপনা, দলীয় আলোচনা, বিতর্ক, প্রতিবেদন লেখা এবং একাডেমিক লেখালেখির ওপর গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের মতামত প্রকাশ, সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণ এবং পেশাগত যোগাযোগের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দিছে।

কর্মসংস্থানযোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, সিভি ও জীবনবৃত্তান্ত তৈরির প্রশিক্ষণ, মক ইন্টারভিউ, ইন্টার্নশিপ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ এবং চাকরির বাজার সম্পর্কে নিয়মিত ধারণা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল দক্ষতা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং স্বনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা হচ্ছে।

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের জন্য এসব কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ করতে হলে শিক্ষার্থীদের ভাষা ও পেশাগত দক্ষতার প্রাথমিক অবস্থা মূল্যায়ন, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং প্রশিক্ষণ-পরবর্তী অগ্রগতি পরিমাপ করা দরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য হওয়া উচিত—শিক্ষার্থীরা যেন শুধু চাকরিপ্রার্থী না হয়ে দক্ষ পেশাজীবী, উদ্যোক্তা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সক্ষম মানুষ হিসেবেও গড়ে উঠছে।

চলনবিল প্রবাহঃ শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা কী?

প্রফেসর ড. এএসএম  ইকবাল হোসাইনঃ শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য কেবল জ্ঞান অর্জন বা ভালো চাকরি পাওয়া নয়; বরং একজন মানুষকে নৈতিক, মানবিক, বিবেকবান ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। একজন শিক্ষার্থী যদি মেধাবী হয়, কিন্তু তার মধ্যে সততা, সহমর্মিতা, ন্যায়বোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা না থাকে, তাহলে তার শিক্ষার পূর্ণতা আসে না।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। শ্রেণিকক্ষে সততা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা, বৈষম্যবিরোধী মনোভাব এবং একাডেমিক সততার চর্চা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আচরণেও এসব মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটছে।

নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, ক্রীড়া, স্বেচ্ছাসেবা, শিক্ষার্থী সংগঠনের গঠনমূলক কার্যক্রম, দলীয় প্রকল্প এবং সামাজিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দল পরিচালনা, সমস্যা সমাধান ও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা দেয়।

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের সামাজিক সেবামূলক কর্মকাণ্ড, পরিবেশ সংরক্ষণ, জনসচেতনতামূলক প্রচার, মানবিক সহায়তা এবং কমিউনিটিভিত্তিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে।

আমার বিশ্বাস, প্রকৃত শিক্ষিত মানুষ সেই ব্যক্তি, যিনি নিজের উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণে অবদান রাখেন। তাই জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিকতার সমন্বয়েই একজন পরিপূর্ণ মানুষ তৈরি করা সম্ভব।

চলনবিল প্রবাহঃ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকার কী?

প্রফেসর ড. এএসএম  ইকবাল হোসাইনঃ ভবিষ্যতের উচ্চশিক্ষাকে হতে হবে জ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর, গবেষণামুখী, আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতাসক্ষম এবং দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ লক্ষ্য অর্জনে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের মতো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, গুণগত মানের ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং পরিবর্তিত বিশ্বপরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন হচ্ছে।

আমার মতে, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কয়েকটি বিষয়কে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

প্রথমত, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা। পাঠ্যক্রম, শিক্ষকতার মান, পরীক্ষা ও মূল্যায়নব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীসেবার ধারাবাহিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সরকারি বিধিবিধান, অনুমোদন ও গুণগত মান নিশ্চিতকরণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, গবেষণা ও উদ্ভাবন সম্প্রসারণ। গবেষণায় বিনিয়োগ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী যৌথ গবেষণা, গবেষণাপত্র প্রকাশ এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ান হচ্ছে।

তৃতীয়ত, প্রযুক্তিনির্ভর ও ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল শিক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট নতুন জ্ঞানক্ষেত্রকে প্রয়োজন অনুযায়ী পাঠ্যক্রম ও শিক্ষণ-পদ্ধতির সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

চতুর্থত, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একাডেমিক বিনিময়, যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে।  পাশাপাশি প্রযোজ্য মানদণ্ড অনুযায়ী আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও গুণগত মান নিশ্চিতকরণের উদ্যোগ  নেয়া হচ্ছে।

পঞ্চমত, কর্মমুখী শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ। শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও নিয়োগদাতাদের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলে ইন্টার্নশিপ, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং স্নাতকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হচ্ছে।

চলনবিল প্রবাহঃ আমাদের সময় দেয়ার জন্য  আপনাকে অনেক ধন্যবাদ

প্রফেসর ড. এএসএম  ইকবাল হোসাইনঃ আপনাকেও ধন্যবাদ

জনপ্রিয় খবর
blank

লালমনিরহাট সীমান্তে ১২ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা, রুখে দিলো বিজিবি

‘মানসম্মত উচ্চশিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে’-প্রফেসর ড. এএসএম  ইকবাল হোসাইন

প্রকাশের সময় : ১২ ঘন্টা আগে
blank

মানসম্মত উচ্চশিক্ষা একটি জাতির উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার গুণগত মান, গবেষণা, প্রযুক্তির ব্যবহার, কর্মমুখী পাঠ্যক্রম ও নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয় এখন সময়ের দাবি।বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা এবং মানোন্নয়নের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ট্রেজারার প্রফেসর ড. এএসএম  ইকবাল হোসাইন।  সাক্ষাৎকারে তিনি মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণা, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার অবস্থান সুদৃঢ় করার বিষয়ে তাঁর ভাবনা তুলে ধরেছেন। সাক্ষাতকার নিয়েছেন দৈনিক চলনবিল প্রবাহের গবেষণা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন।

 

চলনবিল প্রবাহঃ  মানসম্মত শিক্ষা বলতে আপনি কী বোঝেন এবং বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব কতটুকু?

প্রফেসর ড. এএসএম  ইকবাল হোসাইনঃ উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে মানসম্মত শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন নির্ভর করে দক্ষ, যোগ্য ও উদ্ভাবনী চিন্তাসম্পন্ন মানবসম্পদের ওপর। বর্তমান বিশ্বে শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান দিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়; এর সঙ্গে প্রয়োজন প্রযুক্তিগত দক্ষতা, ভাষাগত যোগ্যতা, গবেষণার সক্ষমতা এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা।

আমাদের উচ্চশিক্ষাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা দেশীয় শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রেও নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে। এ জন্য পাঠ্যক্রমের আধুনিকায়ন, দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণার প্রসার, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং শিক্ষার গুণগত মান নিয়মিত মূল্যায়ন করা জরুরি।

চলনবিল প্রবাহঃ মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এইউবি) কী ধরনের ভূমিকা পালন করছে?

প্রফেসর ড. এএসএম  ইকবাল হোসাইনঃ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত উচ্চশিক্ষাকে আরও বিস্তৃত, সহজলভ্য ও গুণগত মানসম্পন্ন করার মাধ্যমে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে অবদান রাখা। উচ্চশিক্ষার সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী জ্ঞান, পেশাগত দক্ষতা এবং নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে তোলার গুরুত্ব অপরিসীম।

আমার দৃষ্টিতে, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হয়। প্রথমত, যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষকের মাধ্যমে পাঠদান নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, সময়োপযোগী পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও নিয়মিত হালনাগাদ করা। তৃতীয়ত, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া। চতুর্থত, পরীক্ষা ও মূল্যায়নব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি বজায় রাখা।

চলনবিল প্রবাহঃ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য, অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের নীতিমালা কী?

প্রফেসর ড. এএসএম  ইকবাল হোসাইনঃ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান অনেকাংশেই নির্ভর করে তার শিক্ষকদের যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও পেশাগত নিষ্ঠার ওপর। একজন শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না; তিনি শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে  এইউবি মেধা, যোগ্যতা, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা এবং শিক্ষাদানের সক্ষমতাকে বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে।

শিক্ষক নিয়োগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা, উচ্চতর ডিগ্রি, গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা, পেশাগত দক্ষতা এবং শ্রেণিকক্ষে কার্যকরভাবে পাঠদানের সক্ষমতা বিবেচনা করছে । পাশাপাশি প্রার্থীর সততা, নৈতিকতা, যোগাযোগদক্ষতা ও শিক্ষার্থীবান্ধব মনোভাবও লক্ষ করা হচ্ছে।

নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা এবং নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে। নিয়োগের পরও শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ থাকছে।  নিয়মিত প্রশিক্ষণ, গবেষণায় অংশগ্রহণ, উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ এবং আধুনিক শিক্ষণ-পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা তাঁদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষভাবে কাজ করছে।

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শিক্ষক নিয়োগের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও বাস্তব চর্চা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত বিধিমালা অনুসরণ করে তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।  কারণ, যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি তাঁদের ধরে রাখা এবং কর্মপরিবেশ উন্নত করাও শিক্ষার মান নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

চলনবিল প্রবাহঃ শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও যুগোপযোগী জ্ঞান প্রদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টি কী ধরনের শিক্ষণ-পদ্ধতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করছে?

প্রফেসর ড. এএসএম  ইকবাল হোসাইনঃ বর্তমান যুগে শিক্ষাদান বলতে শুধু শ্রেণিকক্ষে বক্তৃতার মাধ্যমে পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু উপস্থাপন করাকে বোঝায় না। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীকে সক্রিয়ভাবে শেখার প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা, বাস্তব সমস্যা বিশ্লেষণের সুযোগ দেওয়া এবং অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগে সক্ষম করে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ জন্য কার্যকর শিক্ষণ-পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে অংশগ্রহণমূলক শ্রেণিকক্ষ, দলীয় আলোচনা, উপস্থাপনা, প্রকল্পভিত্তিক শিক্ষা, সমস্যা সমাধানভিত্তিক অনুশীলন, কেস স্টাডি এবং প্রয়োজনে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ। এসব পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিষয়বস্তু সম্পর্কে গভীর ধারণা অর্জনের পাশাপাশি যোগাযোগ, নেতৃত্ব, দলগত কাজ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা বিকাশ করতে পারছে।

প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী, অনলাইন লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ভার্চুয়াল ক্লাসরুম, ডিজিটাল লাইব্রেরি এবং বিষয়ভিত্তিক সফটওয়্যার ব্যবহারের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারও শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করছে।

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো—কোন প্রযুক্তি কতটা ব্যবহার করা হচ্ছে, তার পাশাপাশি এসব ব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীদের শেখার মান কতটা উন্নত হচ্ছে, তা মূল্যায়ন করা। প্রযুক্তি কখনো শিক্ষকের বিকল্প নয়; বরং এটি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর পারস্পরিক শেখার প্রক্রিয়াকে আরও সমৃদ্ধ করার একটি মাধ্যম।

চলনবিল প্রবাহঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও কর্মমুখী করার জন্য কী কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?

প্রফেসর ড. এএসএম  ইকবাল হোসাইনঃ পাঠ্যক্রমকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য প্রথমেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষাগত অগ্রগতি, স্বীকৃত মানদণ্ড এবং শ্রমবাজারের চাহিদা পর্যালোচনা করা  হচ্ছে।  পাশাপাশি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান, শিল্পোদ্যোক্তা, পেশাজীবী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে।

কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করতে ইন্টার্নশিপ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা, ব্যবহারিক প্রকল্প, পেশাগত প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং ক্যারিয়ার পরিকল্পনাসংক্রান্ত কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, ইংরেজি ভাষা, যোগাযোগ, সমস্যা সমাধান, দলগত কাজ এবং বিশ্লেষণী দক্ষতাকে পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও পাঠ্যক্রম নিয়মিত পর্যালোচনা, ফলাফলভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন ও আধুনিকায়ন করা উচিত। তবে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু বিদেশি পাঠ্যক্রম অনুসরণ করলেই চলবে না; বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি ও বাস্তব চাহিদাকেও যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে।

চলনবিল প্রবাহঃ গবেষণা, উদ্ভাবন ও জ্ঞানচর্চার পরিবেশ তৈরিতে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ভূমিকা কী?

প্রফেসর ড. এএসএম  ইকবাল হোসাইনঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান কাজ হলো নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, বিদ্যমান জ্ঞানের বিকাশ এবং গবেষণার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও মুক্ত জ্ঞানচর্চার পরিবেশ যত সমৃদ্ধ, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মান উন্নত হওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি।

গবেষণার পরিবেশ তৈরির জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত গবেষণা তহবিল, দক্ষ গবেষক, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, ডিজিটাল জার্নালে প্রবেশাধিকার, গবেষণাগার এবং গবেষণার উপযোগী অবকাঠামো। একই সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহিত করা, গবেষণাপত্র প্রকাশে সহায়তা প্রদান, গবেষণা সেমিনার আয়োজন এবং দেশি-বিদেশি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা গড়ে তোলা হচ্ছে।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় দারিদ্র্য, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি, প্রযুক্তি ও সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে গবেষণার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এসব বিষয়ে গবেষণার মাধ্যমে নীতিনির্ধারণ, উদ্ভাবন এবং জনকল্যাণে অবদান রাখছে।

চলনবিল প্রবাহঃ স্বল্প ব্যয়ে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টি কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে?

প্রফেসর ড. এএসএম  ইকবাল হোসাইনঃ উচ্চশিক্ষা একজন মানুষের জীবন পরিবর্তনের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। তাই মানসম্মত উচ্চশিক্ষাকে আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্বল্প ব্যয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে টিউশন ফি নির্ধারণে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করতে হয়। পাশাপাশি দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি, টিউশন ফি মওকুফ, আর্থিক সহায়তা এবং কিস্তিতে ফি পরিশোধের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়ক ব্যবস্থা রয়েছে।

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সাশ্রয়ী শিক্ষাব্যয়, আর্থিক সহায়তা, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা-প্রযুক্তির সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে ।  তবে কম খরচে শিক্ষা দেওয়ার অর্থ শিক্ষার মানের সঙ্গে আপস করা নয়। বরং দক্ষ ব্যবস্থাপনা, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং শিক্ষার মান নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে ব্যয় ও মানের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।

চলনবিল প্রবাহঃ শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, যোগাযোগক্ষমতা ও কর্মসংস্থানযোগ্যতা বৃদ্ধিতে বিশ্ববিদ্যালয়টি কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে?

প্রফেসর ড. এএসএম  ইকবাল হোসাইনঃ বর্তমান বিশ্বে কর্মসংস্থানযোগ্যতা শুধু ডিগ্রি অর্জনের ওপর নির্ভর করে না। একজন শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের পাশাপাশি ভাষাগত দক্ষতা, যোগাযোগক্ষমতা, প্রযুক্তি ব্যবহারের যোগ্যতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং পেশাগত আচরণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইংরেজি ভাষার দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ইংরেজি ভাষা শিক্ষা, কথোপকথনের অনুশীলন, উপস্থাপনা, দলীয় আলোচনা, বিতর্ক, প্রতিবেদন লেখা এবং একাডেমিক লেখালেখির ওপর গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের মতামত প্রকাশ, সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণ এবং পেশাগত যোগাযোগের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দিছে।

কর্মসংস্থানযোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, সিভি ও জীবনবৃত্তান্ত তৈরির প্রশিক্ষণ, মক ইন্টারভিউ, ইন্টার্নশিপ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ এবং চাকরির বাজার সম্পর্কে নিয়মিত ধারণা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল দক্ষতা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং স্বনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা হচ্ছে।

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের জন্য এসব কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ করতে হলে শিক্ষার্থীদের ভাষা ও পেশাগত দক্ষতার প্রাথমিক অবস্থা মূল্যায়ন, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং প্রশিক্ষণ-পরবর্তী অগ্রগতি পরিমাপ করা দরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য হওয়া উচিত—শিক্ষার্থীরা যেন শুধু চাকরিপ্রার্থী না হয়ে দক্ষ পেশাজীবী, উদ্যোক্তা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সক্ষম মানুষ হিসেবেও গড়ে উঠছে।

চলনবিল প্রবাহঃ শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা কী?

প্রফেসর ড. এএসএম  ইকবাল হোসাইনঃ শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য কেবল জ্ঞান অর্জন বা ভালো চাকরি পাওয়া নয়; বরং একজন মানুষকে নৈতিক, মানবিক, বিবেকবান ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। একজন শিক্ষার্থী যদি মেধাবী হয়, কিন্তু তার মধ্যে সততা, সহমর্মিতা, ন্যায়বোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা না থাকে, তাহলে তার শিক্ষার পূর্ণতা আসে না।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। শ্রেণিকক্ষে সততা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা, বৈষম্যবিরোধী মনোভাব এবং একাডেমিক সততার চর্চা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আচরণেও এসব মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটছে।

নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, ক্রীড়া, স্বেচ্ছাসেবা, শিক্ষার্থী সংগঠনের গঠনমূলক কার্যক্রম, দলীয় প্রকল্প এবং সামাজিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দল পরিচালনা, সমস্যা সমাধান ও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা দেয়।

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের সামাজিক সেবামূলক কর্মকাণ্ড, পরিবেশ সংরক্ষণ, জনসচেতনতামূলক প্রচার, মানবিক সহায়তা এবং কমিউনিটিভিত্তিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে।

আমার বিশ্বাস, প্রকৃত শিক্ষিত মানুষ সেই ব্যক্তি, যিনি নিজের উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণে অবদান রাখেন। তাই জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিকতার সমন্বয়েই একজন পরিপূর্ণ মানুষ তৈরি করা সম্ভব।

চলনবিল প্রবাহঃ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকার কী?

প্রফেসর ড. এএসএম  ইকবাল হোসাইনঃ ভবিষ্যতের উচ্চশিক্ষাকে হতে হবে জ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর, গবেষণামুখী, আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতাসক্ষম এবং দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ লক্ষ্য অর্জনে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের মতো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, গুণগত মানের ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং পরিবর্তিত বিশ্বপরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন হচ্ছে।

আমার মতে, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কয়েকটি বিষয়কে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

প্রথমত, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা। পাঠ্যক্রম, শিক্ষকতার মান, পরীক্ষা ও মূল্যায়নব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীসেবার ধারাবাহিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সরকারি বিধিবিধান, অনুমোদন ও গুণগত মান নিশ্চিতকরণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, গবেষণা ও উদ্ভাবন সম্প্রসারণ। গবেষণায় বিনিয়োগ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী যৌথ গবেষণা, গবেষণাপত্র প্রকাশ এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ান হচ্ছে।

তৃতীয়ত, প্রযুক্তিনির্ভর ও ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল শিক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট নতুন জ্ঞানক্ষেত্রকে প্রয়োজন অনুযায়ী পাঠ্যক্রম ও শিক্ষণ-পদ্ধতির সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

চতুর্থত, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একাডেমিক বিনিময়, যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে।  পাশাপাশি প্রযোজ্য মানদণ্ড অনুযায়ী আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও গুণগত মান নিশ্চিতকরণের উদ্যোগ  নেয়া হচ্ছে।

পঞ্চমত, কর্মমুখী শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ। শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও নিয়োগদাতাদের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলে ইন্টার্নশিপ, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং স্নাতকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হচ্ছে।

চলনবিল প্রবাহঃ আমাদের সময় দেয়ার জন্য  আপনাকে অনেক ধন্যবাদ

প্রফেসর ড. এএসএম  ইকবাল হোসাইনঃ আপনাকেও ধন্যবাদ