ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজারবাইজানে স্কুলে হিজাব পরিধানে নিষেধাজ্ঞা

blank

ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি বাস্তবায়নের নামে আজারবাইজানে স্কুলের পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নতুন পোশাকবিধির কারণে হিজাব পরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বর্জন, অনশন ও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে অনুমোদিত পোশাকবিধির সংশোধনীতে মুসলিম নারীদের হিজাব সরাসরি নিষিদ্ধ করা হয়নি। তবে সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পোশাক স্কুলে পরা যাবে না। এ বিধির প্রয়োগ নিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অধিকারকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

হিজাব পরায় স্কুলে বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষিকা জাহরা হাসানোভা। আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, আমি কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছি। আমি কষ্ট পেয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “হিজাব একটি ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। কোনো দিন আমি তা খুলে ফেলতে চাইলে, সেটিও আমার সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।”

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এপিএর দাবি, নতুন বিধির উদ্দেশ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিন্ন পোশাকবিধি নিশ্চিত করা। তবে সমালোচকেরা বলছেন, এ ধরনের বিধিনিষেধ ব্যক্তিগত পছন্দ ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে।

প্রায় ৯৬ শতাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ আজারবাইজানের সংবিধানে রাষ্ট্রকে ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়েছে। এ কারণে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি কার্যকর করতে গিয়ে ব্যক্তির ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সরকারপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, বিশেষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরার সুযোগ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন।

সমালোচকদের মতে, পোশাক কেবল পেশাগত পরিচয়ের অংশ নয়, এটি ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও মতপ্রকাশেরও মাধ্যম। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পোশাকের ওপর এমন বিধিনিষেধ আরোপের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে স্কুলে প্রবেশে বাধা পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের শিক্ষকদের জড়িয়ে ধরে কাঁদতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অন্তত দুটি স্কুলে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করেছে। আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক শিক্ষিকাও বলেছেন, হিজাব পরা কিংবা খুলে ফেলা—দুটিই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।

আজারবাইজানের বাইরেও এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ হয়েছে। গত সপ্তাহে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আজারবাইজানের কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ করে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। এ সময় ১৯৯৭ সালে তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হিজাব পরা নারীদের প্রবেশে বাধা এবং সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্তের ঘটনার সঙ্গেও বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করেন কেউ কেউ।

এ পরিস্থিতিতে সরাসরি তুরস্কের নাম উল্লেখ না করে পরোক্ষভাবে সমালোচনা করেছেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ। নিজ দলের এক সম্মেলনে তিনি সতর্ক করে বলেন, আজারবাইজানের জীবনযাপনের ধরনে যেন কেউ হস্তক্ষেপ না করে।

জনপ্রিয় খবর
blank

পটুয়াখালীতে এনডিইএর আহ্বায়ক কমিটিতে সাগর ও জিসান

আজারবাইজানে স্কুলে হিজাব পরিধানে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশের সময় : ১২ ঘন্টা আগে
blank

ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি বাস্তবায়নের নামে আজারবাইজানে স্কুলের পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নতুন পোশাকবিধির কারণে হিজাব পরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বর্জন, অনশন ও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে অনুমোদিত পোশাকবিধির সংশোধনীতে মুসলিম নারীদের হিজাব সরাসরি নিষিদ্ধ করা হয়নি। তবে সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পোশাক স্কুলে পরা যাবে না। এ বিধির প্রয়োগ নিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অধিকারকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

হিজাব পরায় স্কুলে বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষিকা জাহরা হাসানোভা। আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, আমি কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছি। আমি কষ্ট পেয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “হিজাব একটি ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। কোনো দিন আমি তা খুলে ফেলতে চাইলে, সেটিও আমার সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।”

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এপিএর দাবি, নতুন বিধির উদ্দেশ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিন্ন পোশাকবিধি নিশ্চিত করা। তবে সমালোচকেরা বলছেন, এ ধরনের বিধিনিষেধ ব্যক্তিগত পছন্দ ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে।

প্রায় ৯৬ শতাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ আজারবাইজানের সংবিধানে রাষ্ট্রকে ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়েছে। এ কারণে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি কার্যকর করতে গিয়ে ব্যক্তির ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সরকারপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, বিশেষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরার সুযোগ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন।

সমালোচকদের মতে, পোশাক কেবল পেশাগত পরিচয়ের অংশ নয়, এটি ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও মতপ্রকাশেরও মাধ্যম। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পোশাকের ওপর এমন বিধিনিষেধ আরোপের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে স্কুলে প্রবেশে বাধা পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের শিক্ষকদের জড়িয়ে ধরে কাঁদতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অন্তত দুটি স্কুলে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করেছে। আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক শিক্ষিকাও বলেছেন, হিজাব পরা কিংবা খুলে ফেলা—দুটিই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।

আজারবাইজানের বাইরেও এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ হয়েছে। গত সপ্তাহে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আজারবাইজানের কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ করে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। এ সময় ১৯৯৭ সালে তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হিজাব পরা নারীদের প্রবেশে বাধা এবং সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্তের ঘটনার সঙ্গেও বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করেন কেউ কেউ।

এ পরিস্থিতিতে সরাসরি তুরস্কের নাম উল্লেখ না করে পরোক্ষভাবে সমালোচনা করেছেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ। নিজ দলের এক সম্মেলনে তিনি সতর্ক করে বলেন, আজারবাইজানের জীবনযাপনের ধরনে যেন কেউ হস্তক্ষেপ না করে।