ঢাকা রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মানবিকতার হাত বাড়িয়ে পাশে দাঁড়াল রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনসহ কয়েকটি সংগঠন

‘আপনারা আমার মাকে বাঁচান প্লিজ’-আকুতিতে সাড়া, জয়গুননেছার হৃদয়ে বসলো দুই রিং

blank

‘আপনারা আমার মাকে বাঁচান প্লিজ’—একটি অসহায় মেয়ের এই আকুতি ছুঁয়ে গিয়েছিল অনেকের হৃদয়। সংবাদপত্রের পাতায় প্রকাশিত সেই আকুতি শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যায় মানুষের দরজায়। আর সেই মানবিক আহ্বানে সাড়া দিয়ে পাশে দাঁড়ায় রাজশাহীর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটসহ কয়েকটি সংগঠন ও ব্যক্তি।

দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন নাটোরের বড়াইগ্রাম পৌরসভার গোপালপুর মহল্লার আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী জয়গুননেছা বেগম। চিকিৎসকের পরামর্শে দ্রুত হৃদযন্ত্রে রিং বসানো প্রয়োজন হলেও অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিয়ে দেখা দিয়েছিল অনিশ্চয়তা। একদিকে মায়ের অসুস্থতা, অন্যদিকে চিকিৎসার বিপুল ব্যয়—সব মিলিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছিল পরিবারটি।

গত ৫ সেপ্টেম্বর ‘আপনারা আমার মাকে বাঁচান প্লিজ’ শিরোনামে জয়গুননেছাকে নিয়ে যুগান্তর ও দৈনিক ভোরের ডাকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি নজরে আসে রাজশাহীর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। এরপরই মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে জয়গুননেছার হৃদযন্ত্রের জটিল দুটি ব্লকে দুটি রিং স্থাপন করা হয়। ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট প্রফেসর ডা. রইছউদ্দিন সফলভাবে রিং দুটি স্থাপন করেন। এ সময় তাকে সহযোগিতা করেন ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. রাকিবুল হাসান তুষার।

চিকিৎসা শেষে শুক্রবার রাতে জয়গুননেছাকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখন তিনি আগের তুলনায় অনেকটাই ভালো আছেন। পরিবারের সদস্যদের চোখেমুখেও ফিরেছে স্বস্তির ছাপ।

এই চিকিৎসায় দুটি রিংয়ের মূল্য বাবদ প্রয়োজনীয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয় বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রেসক্লাব, নাটোরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাইফ ফর লাইফ, রোগীর স্বজন এবং যুগান্তরের পাঠকদের সহযোগিতায়।

আর অপারেশনসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক চিকিৎসা ব্যয় বাবদ ১ লাখ ১৮ হাজার ২২০ টাকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বহন করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) প্রফেসর মো. হাবিবুর রহমান।

অর্থের অভাবে যে চিকিৎসা একসময় পরিবারের কাছে প্রায় অসম্ভব মনে হচ্ছিল, মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতায় সেই চিকিৎসাই আজ নতুন আশার আলো দেখিয়েছে।

জয়গুননেছার মেয়ে শান্তনা খাতুন বলেন, তার মা বর্তমানে আগের চেয়ে অনেক ভালো আছেন। মায়ের চিকিৎসার জন্য যারা সংবাদ প্রকাশ করেছেন, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং অর্থ দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন—সবার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

বিশেষ করে বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি অহিদুল হক,  সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান এবং চলনবিল প্রবাহের প্রতিনিধি গাজী মকলেছের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শান্তনা বলেন, “তারা এবং আরও যারা আমার মায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের কারণেই আজ আমার মা সুস্থ হয়ে উঠছেন। আল্লাহ যেন তাদের সবাইকে উপযুক্ত প্রতিদান দেন।”

জয়গুননেছার চিকিৎসার এই গল্প কেবল একজন অসুস্থ মানুষের সুস্থ হয়ে ওঠার গল্প নয়। এটি মানুষের পাশে মানুষের দাঁড়ানোর গল্প; সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন কীভাবে একজন অসহায় মানুষের জন্য আশার দরজা খুলে দিতে পারে—এটি তারও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

একটি মায়ের হৃদয়ে বসেছে দুটি রিং, আর সেই সঙ্গে পরিবারের হৃদয়ে ফিরেছে বহুদিনের হারানো স্বস্তি। মানবিকতার এই ছোট ছোট হাতগুলোই হয়তো একদিন আরও অনেক জয়গুননেছার জীবনে বয়ে আনবে বেঁচে থাকার নতুন আলো।

জনপ্রিয় খবর
blank

কুয়াকাটায় আয়োজন করা হচ্ছে পর্যটন কার্নিভাল-২০২৬

মানবিকতার হাত বাড়িয়ে পাশে দাঁড়াল রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনসহ কয়েকটি সংগঠন

‘আপনারা আমার মাকে বাঁচান প্লিজ’-আকুতিতে সাড়া, জয়গুননেছার হৃদয়ে বসলো দুই রিং

প্রকাশের সময় : ২ ঘন্টা আগে
blank

‘আপনারা আমার মাকে বাঁচান প্লিজ’—একটি অসহায় মেয়ের এই আকুতি ছুঁয়ে গিয়েছিল অনেকের হৃদয়। সংবাদপত্রের পাতায় প্রকাশিত সেই আকুতি শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যায় মানুষের দরজায়। আর সেই মানবিক আহ্বানে সাড়া দিয়ে পাশে দাঁড়ায় রাজশাহীর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটসহ কয়েকটি সংগঠন ও ব্যক্তি।

দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন নাটোরের বড়াইগ্রাম পৌরসভার গোপালপুর মহল্লার আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী জয়গুননেছা বেগম। চিকিৎসকের পরামর্শে দ্রুত হৃদযন্ত্রে রিং বসানো প্রয়োজন হলেও অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিয়ে দেখা দিয়েছিল অনিশ্চয়তা। একদিকে মায়ের অসুস্থতা, অন্যদিকে চিকিৎসার বিপুল ব্যয়—সব মিলিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছিল পরিবারটি।

গত ৫ সেপ্টেম্বর ‘আপনারা আমার মাকে বাঁচান প্লিজ’ শিরোনামে জয়গুননেছাকে নিয়ে যুগান্তর ও দৈনিক ভোরের ডাকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি নজরে আসে রাজশাহীর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। এরপরই মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে জয়গুননেছার হৃদযন্ত্রের জটিল দুটি ব্লকে দুটি রিং স্থাপন করা হয়। ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট প্রফেসর ডা. রইছউদ্দিন সফলভাবে রিং দুটি স্থাপন করেন। এ সময় তাকে সহযোগিতা করেন ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. রাকিবুল হাসান তুষার।

চিকিৎসা শেষে শুক্রবার রাতে জয়গুননেছাকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখন তিনি আগের তুলনায় অনেকটাই ভালো আছেন। পরিবারের সদস্যদের চোখেমুখেও ফিরেছে স্বস্তির ছাপ।

এই চিকিৎসায় দুটি রিংয়ের মূল্য বাবদ প্রয়োজনীয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয় বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রেসক্লাব, নাটোরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাইফ ফর লাইফ, রোগীর স্বজন এবং যুগান্তরের পাঠকদের সহযোগিতায়।

আর অপারেশনসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক চিকিৎসা ব্যয় বাবদ ১ লাখ ১৮ হাজার ২২০ টাকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বহন করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) প্রফেসর মো. হাবিবুর রহমান।

অর্থের অভাবে যে চিকিৎসা একসময় পরিবারের কাছে প্রায় অসম্ভব মনে হচ্ছিল, মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতায় সেই চিকিৎসাই আজ নতুন আশার আলো দেখিয়েছে।

জয়গুননেছার মেয়ে শান্তনা খাতুন বলেন, তার মা বর্তমানে আগের চেয়ে অনেক ভালো আছেন। মায়ের চিকিৎসার জন্য যারা সংবাদ প্রকাশ করেছেন, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং অর্থ দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন—সবার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

বিশেষ করে বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি অহিদুল হক,  সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান এবং চলনবিল প্রবাহের প্রতিনিধি গাজী মকলেছের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শান্তনা বলেন, “তারা এবং আরও যারা আমার মায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের কারণেই আজ আমার মা সুস্থ হয়ে উঠছেন। আল্লাহ যেন তাদের সবাইকে উপযুক্ত প্রতিদান দেন।”

জয়গুননেছার চিকিৎসার এই গল্প কেবল একজন অসুস্থ মানুষের সুস্থ হয়ে ওঠার গল্প নয়। এটি মানুষের পাশে মানুষের দাঁড়ানোর গল্প; সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন কীভাবে একজন অসহায় মানুষের জন্য আশার দরজা খুলে দিতে পারে—এটি তারও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

একটি মায়ের হৃদয়ে বসেছে দুটি রিং, আর সেই সঙ্গে পরিবারের হৃদয়ে ফিরেছে বহুদিনের হারানো স্বস্তি। মানবিকতার এই ছোট ছোট হাতগুলোই হয়তো একদিন আরও অনেক জয়গুননেছার জীবনে বয়ে আনবে বেঁচে থাকার নতুন আলো।