বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘স্কুল অব ল’ এর অধীনে মুট কোর্ট সোসাইটি কর্তৃক আয়োজিত A Workshop on Moot Court Competition: Memorial writing, Legal Research and Oral Advocacy শীর্ষক এক কর্মশালা ১৮ই আগস্ট ঢাকা আঞ্চলিক কেন্দ্রে আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।
মেমোরিয়াল রাইটিং, লিগ্যাল রিসার্চ এন্ড ওরাল এ্যাডভোকেসির উপর উক্ত ওয়ার্কশপে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুট কোর্ট সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক শর্মিষ্ঠা বণিক। যিনি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের হয়ে সুনাম অর্জন করেছেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ‘স্কুল অব ল’ এর ডিন অধ্যাপক ড. নাহিদ ফেরদৌসী তার বক্তব্যে বলেন যে, ম্যুটিং আইন অধ্যয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটা শুধুমাত্র একটি প্রতিযোগিতা নয়; মুট কোর্ট একজন শিক্ষার্থীকে ভালো আইনজীবী হতে সহযোগিতা করবে। এ সময় তিনি তাত্ত্বিক আইন ও আদালতের অনুশীলনের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে মুট কোর্টের ভূমিকার উপর আলোকপাত করেন। মুট কোর্ট সোসাইটি গঠন করার পেছনে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খানের ভূমিকার প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। আগামীতে জাতীয় পর্যায়ে মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ এবং তাদের সাফল্য কামনা করেন। কর্মশালার মুখ্য আলোচককে আবারো ধন্যবাদ এবং এত সুন্দর কর্মশালা আয়োজন করায় মুট কোর্ট সোসাইটির আহ্বায়ক ‘স্কুল অব ল’ এর প্রভাষক সজল আহমেদ বাপ্পী এবং ভলান্টিয়ারদের নিরলস প্রচেষ্টা, অদম্য সাহস আর অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উক্ত কর্মশালায় মুখ্য আলোচক শর্মিষ্ঠা বণিক তার গোটা আলোচনায় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতার সাথে সম্পর্কিত মেমোরিয়াল রাইটিং, লিগ্যাল রিসার্চ এবং ওরাল এ্যাডভোকেসি বিষয়ে সম্যক ধারণা প্রদান করেন। তিনি বলেন যে, মুটিং এর মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী তার একাডেমিক এক্সিলেন্স বৃদ্ধির সাথে পেশাগত জীবনে আইনের বাস্তবিক প্রয়োগ সম্পর্কে আরো বেশি দক্ষ ভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারবেন। তার আলোচনায় উল্লেখ করেন মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা কিভাবে একজন শিক্ষার্থীকে বিশ্বমঞ্চে নিজেকে এবং নিজের প্রতিষ্ঠানকে উপস্থাপন করার সুবর্ণ সুযোগ প্রদান করে এবং এই উপস্থাপনের মাধ্যমে ব্যক্তি হিসেবে একজন শিক্ষার্থী আরো বেশি আত্নবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। তিনি এই প্রতিযোগিতার আয়োজন থেকে অংশগ্রহণ সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনার সাথে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের করণীয় এবং বর্জনীয় বিষয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
মুট কোর্ট সোসাইটির আহ্বায়ক ‘স্কুল অব ল’ এর প্রভাষক সজল আহমেদ বাপ্পী তার সমাপনী বক্তব্যে মুট কোর্ট সোসাইটি এবং মুট কোর্ট প্রতিযোগিতার উপযোগিতা এবং প্রাসঙ্গিক প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি মুটিং এর প্রতি শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধকরণ এবং নিয়মিত সেশনে অংশগ্রহণ করার তাগিদ দেন। আগামীতে বিভিন্ন মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক ভাবে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে একাধিক টিম গঠন করার মাধ্যমে দেশে এবং বিদেশে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে উপস্থাপন করার পরিকল্পনার কথা জানান।
উক্ত মুট কোর্টে ‘স্কুল অব ল’ এর আরেক জন প্রভাষক রিচিমনি প্রমা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান। বিভিন্ন ব্যাচের প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী মুট কোর্ট কর্মশালায় অংশ নেন। মুখ্য আলোচক শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

স্টাফ রিপোর্টার 


















