ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিমা হত্যার বিচার চায় পরিবার

blank

ঢাকার আজিমপুরে তাহিয়া তাসনিম ফিমা (১৯) হত্যা মামলার আসামি কাজী সাগরসহ দায়ীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ফিমার পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য দেন ফিমার বাবা মো. তাজুল ইসলাম। বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তাজুল ইসলাম বলেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়েকে স্বামী নির্যাতন করতেন এবং একাধিকবার গায়ে হাত তুলেছিলেন। ফিমা তার মায়ের কাছেও নির্যাতনের কথা জানিয়েছিল। নতুন পরিবেশে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে—এমন আশায় পরিবার অপেক্ষা করলেও শেষ পর্যন্ত তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, শুধু নিজের মেয়ের হত্যার বিচার নয়, নারীর প্রতি সহিংসতার সব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে তিনি দাবি জানাচ্ছেন। ফিমা হত্যার বিচার দ্রুত শেষ করে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

ফিমার মা রিনা ইয়াসমিন অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘদিন ধরে তারা থানায় ঘুরলেও চার্জশিট দিতে দেরি করা হয়েছে। তার দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ ও ময়নাতদন্তসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত থাকার পরও মামলার কার্যক্রমে বিলম্ব হয়েছে। তিনি দ্রুত বিচার ও হত্যাকারীর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লালবাগ থানার ওসি (তদন্ত) মো. সয়দুজ্জামান জানান, গত ২৬ জুন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন বা চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্তে ফিমাকে নির্যাতন ও গলাটিপে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। আসামি কাজী সাগরের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালতের বিষয়।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২০ মার্চ রাতে ঢাকার আজিমপুরের বিসি দাস স্ট্রিটের একটি বাসা থেকে তাহিয়া তাসনিম ওরফে ফিমার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর তার স্বামী কাজী সাগর আত্মগোপনে চলে যান। নিরাপত্তাকর্মীর বক্তব্য ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পুলিশ ফিমার স্বামীর সংশ্লিষ্টতার কথা জানায়। পরে ফিমার বাবা বাদী হয়ে কাজী সাগরকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন।

পরিবারের দাবি, ভারত থেকে ফেরার পর কাজী সাগর উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে গোপনে অবস্থান করছেন। তাই দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শেষ করে দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ফিমার পরিবার।

জনপ্রিয় খবর

ফিমা হত্যার বিচার চায় পরিবার

প্রকাশের সময় : ৩ ঘন্টা আগে
blank

ঢাকার আজিমপুরে তাহিয়া তাসনিম ফিমা (১৯) হত্যা মামলার আসামি কাজী সাগরসহ দায়ীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ফিমার পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য দেন ফিমার বাবা মো. তাজুল ইসলাম। বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তাজুল ইসলাম বলেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়েকে স্বামী নির্যাতন করতেন এবং একাধিকবার গায়ে হাত তুলেছিলেন। ফিমা তার মায়ের কাছেও নির্যাতনের কথা জানিয়েছিল। নতুন পরিবেশে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে—এমন আশায় পরিবার অপেক্ষা করলেও শেষ পর্যন্ত তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, শুধু নিজের মেয়ের হত্যার বিচার নয়, নারীর প্রতি সহিংসতার সব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে তিনি দাবি জানাচ্ছেন। ফিমা হত্যার বিচার দ্রুত শেষ করে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

ফিমার মা রিনা ইয়াসমিন অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘদিন ধরে তারা থানায় ঘুরলেও চার্জশিট দিতে দেরি করা হয়েছে। তার দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ ও ময়নাতদন্তসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত থাকার পরও মামলার কার্যক্রমে বিলম্ব হয়েছে। তিনি দ্রুত বিচার ও হত্যাকারীর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লালবাগ থানার ওসি (তদন্ত) মো. সয়দুজ্জামান জানান, গত ২৬ জুন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন বা চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্তে ফিমাকে নির্যাতন ও গলাটিপে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। আসামি কাজী সাগরের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালতের বিষয়।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২০ মার্চ রাতে ঢাকার আজিমপুরের বিসি দাস স্ট্রিটের একটি বাসা থেকে তাহিয়া তাসনিম ওরফে ফিমার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর তার স্বামী কাজী সাগর আত্মগোপনে চলে যান। নিরাপত্তাকর্মীর বক্তব্য ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পুলিশ ফিমার স্বামীর সংশ্লিষ্টতার কথা জানায়। পরে ফিমার বাবা বাদী হয়ে কাজী সাগরকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন।

পরিবারের দাবি, ভারত থেকে ফেরার পর কাজী সাগর উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে গোপনে অবস্থান করছেন। তাই দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শেষ করে দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ফিমার পরিবার।