ঢাকা বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে শর্তে আন্দোলন থেকে পিছু হটল ককরোচ জনতা পার্টি

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১১:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • 26
blank

ভারতে আন্দোলন প্রত্যাহারের পরও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে গভীর রাতের বৈঠকের পর পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, আটক ব্যক্তিদের মুক্তি এবং ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২৭ জুলাই) গভীর রাতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিজেপি নেতাদের কয়েক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্দোলনে অংশ নেওয়া কাউকে একা ফেলে রাখা হবে না এবং সব বিক্ষোভকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কাজ চালিয়ে যাবে।

সিজেপির দাবি, সরকার বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনকারীদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন (নোটিফিকেশন) জারি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বৈঠকে বিহার ও আসাম সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনের কপিও তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, যেখানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তির বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।

সোমবার রাত একটার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপি ও এনডিএ-শাসিত অন্যান্য রাজ্যেও একই ধরনের নির্দেশনা জারি করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে তারা সতর্ক নজর রাখবেন এবং কোনো আন্দোলনকারী যেন আইনি হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সংগঠনটি কাজ করবে।

বৈঠকের পর প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সৌরভ দাস বলেন, সরকারের আশ্বাস বাস্তবে কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে তাদের উদ্বেগের কথা প্রতিনিধিদের জানানো হয়েছে। জবাবে সরকারের পক্ষ থেকে বিহার স্বরাষ্ট্র বিভাগের প্রজ্ঞাপন দেখানো হয়, যেখানে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব আইনি পদক্ষেপ প্রত্যাহারের কথা উল্লেখ রয়েছে।

এর আগে সিজেপি অভিযোগ করেছিল, আন্দোলন স্থগিতের সময় সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। সংগঠনটির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা দাবি করেন, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার, নজরদারি এবং হয়রানির ঘটনা ঘটছে।

তিনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সতর্ক করেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে সংগঠনটি আবারও দেশব্যাপী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে।

তবে সর্বশেষ বৈঠকের পর উভয় পক্ষের আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সিজেপি। সংগঠনটির আশা, সরকারের ঘোষিত প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হবে না।

জনপ্রিয় খবর
blank

বাঘ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর

যে শর্তে আন্দোলন থেকে পিছু হটল ককরোচ জনতা পার্টি

প্রকাশের সময় : ১১:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
blank

ভারতে আন্দোলন প্রত্যাহারের পরও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে গভীর রাতের বৈঠকের পর পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, আটক ব্যক্তিদের মুক্তি এবং ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২৭ জুলাই) গভীর রাতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিজেপি নেতাদের কয়েক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্দোলনে অংশ নেওয়া কাউকে একা ফেলে রাখা হবে না এবং সব বিক্ষোভকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কাজ চালিয়ে যাবে।

সিজেপির দাবি, সরকার বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনকারীদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন (নোটিফিকেশন) জারি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বৈঠকে বিহার ও আসাম সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনের কপিও তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, যেখানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তির বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।

সোমবার রাত একটার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপি ও এনডিএ-শাসিত অন্যান্য রাজ্যেও একই ধরনের নির্দেশনা জারি করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে তারা সতর্ক নজর রাখবেন এবং কোনো আন্দোলনকারী যেন আইনি হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সংগঠনটি কাজ করবে।

বৈঠকের পর প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সৌরভ দাস বলেন, সরকারের আশ্বাস বাস্তবে কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে তাদের উদ্বেগের কথা প্রতিনিধিদের জানানো হয়েছে। জবাবে সরকারের পক্ষ থেকে বিহার স্বরাষ্ট্র বিভাগের প্রজ্ঞাপন দেখানো হয়, যেখানে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব আইনি পদক্ষেপ প্রত্যাহারের কথা উল্লেখ রয়েছে।

এর আগে সিজেপি অভিযোগ করেছিল, আন্দোলন স্থগিতের সময় সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। সংগঠনটির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা দাবি করেন, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার, নজরদারি এবং হয়রানির ঘটনা ঘটছে।

তিনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সতর্ক করেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে সংগঠনটি আবারও দেশব্যাপী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে।

তবে সর্বশেষ বৈঠকের পর উভয় পক্ষের আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সিজেপি। সংগঠনটির আশা, সরকারের ঘোষিত প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হবে না।