ঢাকা সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষার্থী আন্দোলনের মাঝেই মোদির সেই ‘ফ্রেন্ডস’ বলা ভিডিওর বিশ্বরেকর্ড

blank

ভারতজুড়ে শিক্ষার্থী আন্দোলনের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন কৌশলে হাজির হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তরুণদের কাছে পৌঁছাতে ইনস্টাগ্রামে পরপর দুটি রিল ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। দাবি করা হচ্ছে, এর মধ্যে প্রথম ভিডিওটি প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ৩০ কোটির বেশি ভিউ পেয়ে ইনস্টাগ্রাম রিলে একক ভিডিওর সর্বোচ্চ ভিউয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে।

সদ্য পদত্যাগ করা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ঘিরে দেশজুড়ে চলমান আন্দোলনের সময়ই বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ও শুক্রবার (২৪ জুলাই) গভীর রাতে ভিডিও দুটি ধারণ করা হয়। ৭৫ বছর বয়সী মোদি তরুণ প্রজন্মের সবচেয়ে জনপ্রিয় শর্ট-ভিডিও ফরম্যাট ব্যবহার করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে ইনস্টাগ্রাম রিলে সর্বোচ্চ ভিউয়ের রেকর্ড ছিল জনপ্রিয় ইউটিউবার আইশোস্পিড (IShowSpeed)-এর দখলে। চলতি মাসে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস (BTS)-এর সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের একটি ভিডিও সেই রেকর্ড গড়েছিল।

ভারতের নিট (NEET) মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক থেকেই সাম্প্রতিক আন্দোলনের সূচনা। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর ১২ মে পরীক্ষা বাতিল করা হয়। পরে ১৬ মে আন্দোলনকারী ছাত্রনেতা অভিজিৎ দীপ ব্যঙ্গাত্মক নামে ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’ গঠন করেন। সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার তরুণদের নিয়ে করা একটি বিতর্কিত মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দলটির নামকরণ করা হয় বলে জানা যায়।

গঠনের পর থেকেই সিজেপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করে। আন্দোলনের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত শনিবার (২৫ জুলাই) কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১০ কোটিরও বেশি ইনস্টাগ্রাম অনুসারী থাকা সত্ত্বেও মোদির ব্যক্তিগত রিল ভিডিও প্রকাশের ঘটনা খুবই বিরল। তিনি সাধারণত আনুষ্ঠানিক ভাষণ ও সরকারি কর্মসূচির মাধ্যমেই জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।

মোদির জীবনীকার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক নিলঞ্জন মুখোপাধ্যায় ব্লুমবার্গকে বলেন, শিক্ষার্থী আন্দোলনের কারণে সরকারকে চাপে পড়তে হয়েছে এবং সেই প্রেক্ষাপটেই তরুণদের সঙ্গে নতুনভাবে সংযোগ তৈরির এই উদ্যোগ দেখা যেতে পারে। যদিও ক্ষমতাসীন দলের দাবি, ভিডিওগুলোর উদ্দেশ্য ছিল শুধুই তরুণদের সঙ্গে সহজ ও স্বাভাবিক যোগাযোগ স্থাপন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই রিলকে ঘিরে বিপুল দর্শকসংখ্যা আবারও প্রমাণ করেছে, ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন জনমত গঠন ও রাজনৈতিক যোগাযোগের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম।

জনপ্রিয় খবর
blank

প্রথমবার ২৬ দেশের অংশগ্রহণে বাংলাদেশে ‘প্রেসিডেন্টস চ্যালেঞ্জ কাপ’ আর্চারি

শিক্ষার্থী আন্দোলনের মাঝেই মোদির সেই ‘ফ্রেন্ডস’ বলা ভিডিওর বিশ্বরেকর্ড

প্রকাশের সময় : ১২ ঘন্টা আগে
blank

ভারতজুড়ে শিক্ষার্থী আন্দোলনের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন কৌশলে হাজির হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তরুণদের কাছে পৌঁছাতে ইনস্টাগ্রামে পরপর দুটি রিল ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। দাবি করা হচ্ছে, এর মধ্যে প্রথম ভিডিওটি প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ৩০ কোটির বেশি ভিউ পেয়ে ইনস্টাগ্রাম রিলে একক ভিডিওর সর্বোচ্চ ভিউয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে।

সদ্য পদত্যাগ করা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ঘিরে দেশজুড়ে চলমান আন্দোলনের সময়ই বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ও শুক্রবার (২৪ জুলাই) গভীর রাতে ভিডিও দুটি ধারণ করা হয়। ৭৫ বছর বয়সী মোদি তরুণ প্রজন্মের সবচেয়ে জনপ্রিয় শর্ট-ভিডিও ফরম্যাট ব্যবহার করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে ইনস্টাগ্রাম রিলে সর্বোচ্চ ভিউয়ের রেকর্ড ছিল জনপ্রিয় ইউটিউবার আইশোস্পিড (IShowSpeed)-এর দখলে। চলতি মাসে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস (BTS)-এর সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের একটি ভিডিও সেই রেকর্ড গড়েছিল।

ভারতের নিট (NEET) মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক থেকেই সাম্প্রতিক আন্দোলনের সূচনা। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর ১২ মে পরীক্ষা বাতিল করা হয়। পরে ১৬ মে আন্দোলনকারী ছাত্রনেতা অভিজিৎ দীপ ব্যঙ্গাত্মক নামে ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’ গঠন করেন। সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার তরুণদের নিয়ে করা একটি বিতর্কিত মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দলটির নামকরণ করা হয় বলে জানা যায়।

গঠনের পর থেকেই সিজেপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করে। আন্দোলনের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত শনিবার (২৫ জুলাই) কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১০ কোটিরও বেশি ইনস্টাগ্রাম অনুসারী থাকা সত্ত্বেও মোদির ব্যক্তিগত রিল ভিডিও প্রকাশের ঘটনা খুবই বিরল। তিনি সাধারণত আনুষ্ঠানিক ভাষণ ও সরকারি কর্মসূচির মাধ্যমেই জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।

মোদির জীবনীকার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক নিলঞ্জন মুখোপাধ্যায় ব্লুমবার্গকে বলেন, শিক্ষার্থী আন্দোলনের কারণে সরকারকে চাপে পড়তে হয়েছে এবং সেই প্রেক্ষাপটেই তরুণদের সঙ্গে নতুনভাবে সংযোগ তৈরির এই উদ্যোগ দেখা যেতে পারে। যদিও ক্ষমতাসীন দলের দাবি, ভিডিওগুলোর উদ্দেশ্য ছিল শুধুই তরুণদের সঙ্গে সহজ ও স্বাভাবিক যোগাযোগ স্থাপন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই রিলকে ঘিরে বিপুল দর্শকসংখ্যা আবারও প্রমাণ করেছে, ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন জনমত গঠন ও রাজনৈতিক যোগাযোগের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম।