ভারতের সদ্য বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। শনিবার (২৫ জুলাই) প্রকাশিত ওই চিঠিতে তিনি চার দশকের রাজনৈতিক জীবন, শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ এবং তরুণদের প্রতি নিজের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, দেশের তরুণদের স্বপ্ন বাস্তবায়নই তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের সেবা করার সুযোগ পাওয়াকে তিনি নিজের জন্য বড় সম্মান হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
চিঠিতে তিনি বহুল আলোচিত নিট-ইউজি পরীক্ষার অনিয়মের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। সিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়, বিতর্কিত পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং আগামী বছর থেকে নিট পরীক্ষা সম্পূর্ণ কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতিতে নেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
তিনি জানান, ২১ জুন অনুষ্ঠিত পুনঃপরীক্ষায় ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ১৬ জুলাই প্রকাশিত ফলাফলে বহু মেধাবী ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে এসব ইতিবাচক পদক্ষেপের পরও কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার এবং পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেন বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী। দিল্লির যন্তর মন্তরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশবিরোধী কোনো শক্তি যেন এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে, জাতীয় ঐক্য যেন অটুট থাকে এবং শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় যেন আইনি জটিলতায় নষ্ট না হয়ে পড়াশোনায় ব্যয় হয়— সেই লক্ষ্য থেকেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অনলাইন ডেস্ক 


















