ভারতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে মুম্বাইয়ের দাদার এলাকায় পুলিশের হাতে আটক হন অভিনেত্রী আয়েশা খান। পরে তাকে ওরলি থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি নিজেই আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভিডিওতে আয়েশা বলেন, ‘এখন আমার হাত সত্যিই কাঁপছে। আমি শুধু শান্তভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ আমাকে পুলিশের ভ্যানে তুলে আটক করা হলো।’
আয়েশার দাবি, তিনি কোনো বিক্ষোভ শুরু করেননি। এর আগেই তার ভাই এবং কয়েকজন পুরুষ বন্ধুকে পুলিশ আটক করে। তিনি তখন শুধু রাস্তায় দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন।
আয়েশার শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক বলছেন তার গণিত পরীক্ষা রয়েছে। কোনো কারণ ছাড়াই তাকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, পরীক্ষা দিতে না পারলে বড় সমস্যায় পড়বেন।
আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, আয়েশা পুলিশ সদস্যদের জিজ্ঞেস করছেন, তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে তার প্রশ্নের কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে চারজন নারী পুলিশ সদস্যকে তাকে ভ্যানে তুলতে দেখা যায়।
ওই ভিডিওর ক্যাপশনে আয়েশা লেখেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাকে ভ্যানে তুলতে চারজন নারী পুলিশ সদস্য এসেছিলেন। কিন্তু আমি আবারও জানতে চাই—কেন? আমি কি কোনো হইচই করেছি? আমি কি কোনো ঝামেলা শুরু করেছিলাম? শুধু রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকার জন্য আমাকে কেন আটক করা হলো? আমি তো পাঁচজনের কোনো জমায়েতের মধ্যেও ছিলাম না।’
পুরো ঘটনায় তিনি স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। পরে তাকে ওরলি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ধারণ করা আরেকটি ভিডিওতে তিনি পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন। আয়েশা জানান, তিনি তার ভাই ও কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে নিট পরীক্ষার্থীদের সমর্থনে দাদারে আয়োজিত বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর পুলিশ জানায়, ওই স্থানে কোনো বিক্ষোভ করা যাবে না। এরপর তার ভাই ও অন্য পুরুষ বন্ধুদের পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়।
আয়েশার দাবি, তিনি তখন শুধু রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভাবছিলেন কী করবেন এবং কীভাবে তার ভাইয়ের খোঁজ পাবেন। ঠিক সেই সময় প্রায় ১৫ জন পুলিশ সদস্য এসে তাদের ভ্যানে উঠতে বলেন। তার অভিযোগ, পরে জোর করে তাদের ভ্যানে তুলে ওরলি থানায় নেওয়া হয়।
তবে পুরো ঘটনার মধ্যেও ওরলি থানার পুলিশ সদস্যদের আচরণের প্রশংসা করেছেন আয়েশা। তার ভাষ্য, থানায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সবাই তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেছেন। তবে কেন তাকে আটক করা হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্টভাবে পাননি বলেও দাবি করেন তিনি।

অনলাইন ডেস্ক 


















