ইরানের হাতে দীর্ঘদিন আটকে থাকা এক মার্কিন নাগরিকের মুক্তিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরানের এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের মধ্যে সদিচ্ছার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
বুধবার (১৫ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন বাইডেন প্রশাসনের সময় ইরানে আটকে পড়া ওই মার্কিন নাগরিক অবশেষে দেশ ছাড়তে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে তিনি নিরাপদে রয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে আছেন।
মানবাধিকার আইনজীবী জ্যারেড জেনসারের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তিপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তির নাম ডেনা কারারি। তিনি পারিবারিক সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে ইরানে গিয়েছিলেন। তবে ফেরার সময় বিমানবন্দরে তার মার্কিন ও ইরানি—দুই পাসপোর্টই জব্দ করা হয় এবং তাকে দেশত্যাগে বাধা দেওয়া হয়।
জেনসার জানান, এরপর একাধিকবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয় এবং দীর্ঘ সময় কার্যত ইরানেই অবস্থান করতে বাধ্য হন। পরে চলতি বছরের এপ্রিলে তার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয় এবং পাসপোর্ট ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, ডেনা কারারি ‘চিলড্রেন অব মেহর ফাউন্ডেশন’ নামে একটি মানবিক সহায়তা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি ইরানের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সহায়তায় কাজ করত। এ কারণেই তিনি কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে এসেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা করে জেনসার বলেন, কারারির নিরাপদ মুক্তি নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে।
এদিকে এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। তবে এই মুক্তির ঘটনাকে সম্ভাব্য কূটনৈতিক ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনলাইন ডেস্ক 


















