ঢাকা সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আবেগঘন মেসি, ‘এই জয় ম্যারাডোনার জন্য’

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০১:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • 31
blank

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। গোল করতে না পারলেও দলের দুই গোলেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে জয়ের নায়ক হয়ে ওঠেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ম্যাচ শেষে তিনি এই স্মরণীয় জয় উৎসর্গ করেন আর্জেন্টাইন ফুটবলের কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রতিটি লড়াইতেই ফিরে আসে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের স্মৃতি। সেই আসরে ম্যারাডোনা নিজের অসাধারণ পারফরম্যান্সে ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। বিশেষ করে ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ আজও বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত দুই মুহূর্তের মধ্যে অন্যতম।

ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসের সাংবাদিক মাতিয়াস পেলিচিওনি ১৯৮৬ সালের ঐতিহাসিক ম্যাচে ম্যারাডোনার পরা জার্সির একটি প্রতিরূপ মেসির হাতে তুলে দেন। সেটি হাতে নিয়ে আবেগাপ্লুত মেসি বলেন, আজকের জয় নিশ্চয়ই ওপর থেকে উপভোগ করছেন দিয়েগো। এই দিনটি তার জন্যও বিশেষ ছিল এবং তাকে এই আনন্দ উপহার দিতে পেরে তিনি গর্বিত।

১৯৮৬ সালের ২২ জুন মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুটি ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন ম্যারাডোনা। প্রথমটি ছিল বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল, আর দ্বিতীয়টি ছিল একক নৈপুণ্যে করা সেই অবিস্মরণীয় গোল, যা এখনও অনেকের কাছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত।

ফকল্যান্ডস যুদ্ধের বহু বছর পেরিয়ে গেলেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ আর্জেন্টিনার জন্য এখনও আলাদা আবেগ বহন করে। যদিও বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলারদের অনুভূতি ভিন্ন, তবুও সমর্থকদের হাতে ছিল ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’ লেখা ব্যানার। জাতীয় সংগীতের সময় গ্যালারির আবেগ ছুঁয়ে যায় খেলোয়াড়দেরও।

মেসি জানান, জাতীয় সংগীতের সময় স্টেডিয়ামের পরিবেশ ছিল অসাধারণ। সমর্থকদের আবেগ তাদেরও নাড়া দিয়েছিল। তারা জানতেন এটি একটি ফুটবল ম্যাচ, কিন্তু কিছু কিছু মুহূর্তে আবেগকে আলাদা করে রাখা সম্ভব হয় না।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয় মেসির ব্যক্তিগত অর্জনের খাতাতেও যোগ করেছে নতুন অধ্যায়। সামনে স্পেনের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছেন নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। সেই ম্যাচে জিততে পারলে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের কীর্তি গড়বেন তিনি। পাশাপাশি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগও থাকবে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সামনে।

এখন আর্জেন্টিনার সব নজর ফাইনালে। আর কোটি সমর্থকের প্রত্যাশা—ম্যারাডোনার স্মৃতিকে সঙ্গী করে আরও একবার বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরবেন লিওনেল মেসি।

জনপ্রিয় খবর
blank

৮৫ বছরেও ভবন হয়নি, খোলা আকাশের নিচে লোচনা সরকারি প্রাথমিকের পাঠদান

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আবেগঘন মেসি, ‘এই জয় ম্যারাডোনার জন্য’

প্রকাশের সময় : ০১:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
blank

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। গোল করতে না পারলেও দলের দুই গোলেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে জয়ের নায়ক হয়ে ওঠেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ম্যাচ শেষে তিনি এই স্মরণীয় জয় উৎসর্গ করেন আর্জেন্টাইন ফুটবলের কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রতিটি লড়াইতেই ফিরে আসে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের স্মৃতি। সেই আসরে ম্যারাডোনা নিজের অসাধারণ পারফরম্যান্সে ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। বিশেষ করে ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ আজও বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত দুই মুহূর্তের মধ্যে অন্যতম।

ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসের সাংবাদিক মাতিয়াস পেলিচিওনি ১৯৮৬ সালের ঐতিহাসিক ম্যাচে ম্যারাডোনার পরা জার্সির একটি প্রতিরূপ মেসির হাতে তুলে দেন। সেটি হাতে নিয়ে আবেগাপ্লুত মেসি বলেন, আজকের জয় নিশ্চয়ই ওপর থেকে উপভোগ করছেন দিয়েগো। এই দিনটি তার জন্যও বিশেষ ছিল এবং তাকে এই আনন্দ উপহার দিতে পেরে তিনি গর্বিত।

১৯৮৬ সালের ২২ জুন মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুটি ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন ম্যারাডোনা। প্রথমটি ছিল বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল, আর দ্বিতীয়টি ছিল একক নৈপুণ্যে করা সেই অবিস্মরণীয় গোল, যা এখনও অনেকের কাছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত।

ফকল্যান্ডস যুদ্ধের বহু বছর পেরিয়ে গেলেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ আর্জেন্টিনার জন্য এখনও আলাদা আবেগ বহন করে। যদিও বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলারদের অনুভূতি ভিন্ন, তবুও সমর্থকদের হাতে ছিল ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’ লেখা ব্যানার। জাতীয় সংগীতের সময় গ্যালারির আবেগ ছুঁয়ে যায় খেলোয়াড়দেরও।

মেসি জানান, জাতীয় সংগীতের সময় স্টেডিয়ামের পরিবেশ ছিল অসাধারণ। সমর্থকদের আবেগ তাদেরও নাড়া দিয়েছিল। তারা জানতেন এটি একটি ফুটবল ম্যাচ, কিন্তু কিছু কিছু মুহূর্তে আবেগকে আলাদা করে রাখা সম্ভব হয় না।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয় মেসির ব্যক্তিগত অর্জনের খাতাতেও যোগ করেছে নতুন অধ্যায়। সামনে স্পেনের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছেন নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। সেই ম্যাচে জিততে পারলে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের কীর্তি গড়বেন তিনি। পাশাপাশি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগও থাকবে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সামনে।

এখন আর্জেন্টিনার সব নজর ফাইনালে। আর কোটি সমর্থকের প্রত্যাশা—ম্যারাডোনার স্মৃতিকে সঙ্গী করে আরও একবার বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরবেন লিওনেল মেসি।