ঢাকা বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রের মর্যাদার প্রশ্নে দিল্লি সফর বাতিল: জাহেদ উর রহমান

blank

 ভারতের রাজধানী দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা এবং বিভিন্ন যাচাই-বাছাইয়ের ঘটনাকে ‘হয়রানিমূলক’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রবেশের অনুমতি দিলেও রাষ্ট্রের মর্যাদার বিষয় বিবেচনায় তিনি সেই অনুমতি গ্রহণ না করে দেশে ফিরে আসেন।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাহেদ উর রহমান বলেন, তিনি ব্যক্তিগত সফরে নয়, বরং রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে ভারত সফরে গিয়েছিলেন। তাই তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি কেবল ব্যক্তিগত নয়, রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

তিনি বলেন, “ভারতীয় কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত আমাকে প্রবেশের অনুমতি দিলেও আমি তা গ্রহণ করিনি। কারণ, একটি রাষ্ট্র হিসেবে সরকারের নিজস্ব অবস্থান ও মর্যাদা রয়েছে, যা রক্ষা করা প্রয়োজন।”

উপদেষ্টা আরও বলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছেন যে বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রশ্নে আপস করবে না। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ঘটনার কারণে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ুক, তা তিনি চান না।

ভবিষ্যতে ভারত সরকার আমন্ত্রণ জানালে সফরে যাবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “অবশ্যই যাব। আমি বিশ্বাস করি, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়া উচিত। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।”

জানা গেছে, পূর্বনির্ধারিত সফরের অংশ হিসেবে গত ১৪ জুন দিল্লি পৌঁছান জাহেদ উর রহমান। বিমানবন্দরে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তাকে অভ্যর্থনা জানালেও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার সময় তাকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। এ সময় তার তথ্য পুনরায় যাচাই, আঙুলের ছাপ ও আইরিশ স্ক্যান নেওয়া হয়।

পরে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, তার নাম একটি ‘ওয়াচলিস্টে’ থাকায় অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ঢাকার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

এ ঘটনার পর সোমবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন বঢেকে তলব করে আনুষ্ঠানিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করে। অন্যদিকে ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, নজরদারি তালিকায় নাম থাকার কারণেই ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়েছিল।

জনপ্রিয় খবর
blank

পত্নীতলায় র‍্যাবের অভিযানে ১৪২ লিটার চোলাই মদসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রের মর্যাদার প্রশ্নে দিল্লি সফর বাতিল: জাহেদ উর রহমান

প্রকাশের সময় : ২৩ ঘন্টা আগে
blank

 ভারতের রাজধানী দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা এবং বিভিন্ন যাচাই-বাছাইয়ের ঘটনাকে ‘হয়রানিমূলক’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রবেশের অনুমতি দিলেও রাষ্ট্রের মর্যাদার বিষয় বিবেচনায় তিনি সেই অনুমতি গ্রহণ না করে দেশে ফিরে আসেন।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাহেদ উর রহমান বলেন, তিনি ব্যক্তিগত সফরে নয়, বরং রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে ভারত সফরে গিয়েছিলেন। তাই তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি কেবল ব্যক্তিগত নয়, রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

তিনি বলেন, “ভারতীয় কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত আমাকে প্রবেশের অনুমতি দিলেও আমি তা গ্রহণ করিনি। কারণ, একটি রাষ্ট্র হিসেবে সরকারের নিজস্ব অবস্থান ও মর্যাদা রয়েছে, যা রক্ষা করা প্রয়োজন।”

উপদেষ্টা আরও বলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছেন যে বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রশ্নে আপস করবে না। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ঘটনার কারণে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ুক, তা তিনি চান না।

ভবিষ্যতে ভারত সরকার আমন্ত্রণ জানালে সফরে যাবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “অবশ্যই যাব। আমি বিশ্বাস করি, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়া উচিত। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।”

জানা গেছে, পূর্বনির্ধারিত সফরের অংশ হিসেবে গত ১৪ জুন দিল্লি পৌঁছান জাহেদ উর রহমান। বিমানবন্দরে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তাকে অভ্যর্থনা জানালেও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার সময় তাকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। এ সময় তার তথ্য পুনরায় যাচাই, আঙুলের ছাপ ও আইরিশ স্ক্যান নেওয়া হয়।

পরে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, তার নাম একটি ‘ওয়াচলিস্টে’ থাকায় অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ঢাকার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

এ ঘটনার পর সোমবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন বঢেকে তলব করে আনুষ্ঠানিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করে। অন্যদিকে ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, নজরদারি তালিকায় নাম থাকার কারণেই ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়েছিল।