ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চলনবিলের ভাসমান বিদ্যালয়ের বিশ্বজয়, ইউনেস্কো কনফুসিয়াস পুরস্কার পেল সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থা

blank

চলনবিল অঞ্চলের দুর্গম ও জলাবদ্ধ এলাকার শিশু-কিশোরদের কাছে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার ব্যতিক্রমী উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশের সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থা ইউনেস্কো কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কার-২০২৫ অর্জন করেছে। উদ্ভাবনী সৌরশক্তিচালিত ভাসমান বিদ্যালয় প্রকল্পের জন্য সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে এ আন্তর্জাতিক সম্মাননা গ্রহণ করেছে।

ইউনেস্কো ঢাকার কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিক এনগেজমেন্ট বিভাগের অ্যাসোসিয়েট অফিসার রাকিবুর রহমান তামিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বুধবার (১০ জুন) রাজধানীর হলিডে ইন ঢাকা সিটি সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পুরস্কারটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যুরো অব নন-ফরমাল এডুকেশনের (বিএনএফই) মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দেবব্রত চক্রবর্তী এবং ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশনের (ক্যাম্পে) নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ও অফিস প্রধান ড. সুসান ভাইজ। সূচনা পর্বে ইউনেস্কো ঢাকার শিক্ষা বিভাগের প্রধান নোরিহিদে ফুরুকাওয়া ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা পুরস্কার-২০২৫ এবং এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল যুগে সাক্ষরতার প্রসার’ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষা পৌঁছে দিতে উদ্ভাবনী উদ্যোগের গুরুত্ব অপরিসীম। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম এলাকায় শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্যোগগুলো বিশেষভাবে কার্যকর। এসব উদ্যোগ শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে সহায়তা করে।

২০২৫ সালে সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার পাশাপাশি আয়ারল্যান্ডের ন্যাশনাল অ্যাডাল্ট লিটারেসি এজেন্সি (নালা) এবং মরক্কোর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও ইউনেস্কো কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা তরুণদের জন্য উদ্ভাবনী সাক্ষরতা কর্মসূচি বাস্তবায়নের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

ড. সুসান ভাইজ বলেন, সাক্ষরতা কেবল পড়তে ও লিখতে শেখার বিষয় নয়; এটি মানুষকে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জীবনের সুযোগ কাজে লাগানো এবং সমাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সক্ষমতা দেয়। দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আজীবন শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোর গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে।

সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার ভাসমান বিদ্যালয় প্রকল্প বাংলাদেশের বৃহত্তম জলাভূমি অঞ্চল চলনবিলে শিক্ষা বিস্তারের এক অনন্য উদ্যোগ। দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বর্ষাকালে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে অনেক শিশুর পক্ষে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। এ বাস্তবতায় শ্রেণিকক্ষের সকল সুবিধাসম্পন্ন নৌকাভিত্তিক ভাসমান বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

স্থানীয় নৌকা নির্মাণ প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নির্মিত এসব নৌকায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাও সংযোজন করা হয়েছে। বর্তমানে সিধুলাই ৫৬টি নৌকা পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ২৬টি ভাসমান শ্রেণিকক্ষ, ১০টি ভাসমান গ্রন্থাগার ও কম্পিউটার ল্যাব এবং ৮টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য নৌকা স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলা ও পরিবহন কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার নির্বাহী পরিচালক স্থপতি মোহাম্মদ রেজোয়ান বলেন, স্থানীয় মানুষের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতেই টেকসই সমাধান গড়ে ওঠে। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিরলসভাবে কাজ করা অসংখ্য মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যতে আরও মানুষের কাছে পৌঁছানোর অনুপ্রেরণা।

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সাল থেকে সাক্ষরতা ক্ষেত্রে উৎকর্ষতা ও উদ্ভাবনের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা পুরস্কার প্রদান করে আসছে। চীন সরকারের অর্থায়নে প্রদত্ত ইউনেস্কো কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কারের অর্থমূল্য ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। প্রতি বছর কার্যকর সাক্ষরতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অঞ্চলের প্রাপ্তবয়স্ক ও বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা তরুণদের শিক্ষায় অবদানের জন্য বিশ্বের তিনটি প্রতিষ্ঠান বা উদ্যোগকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

এর আগে বাংলাদেশ থেকে ফ্রেন্ডশিপ ২০২৩ সালে এবং ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ২০১৩ সালে এই মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছিল।

সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার নির্বাহী পরিচালক স্থপতি মোহাম্মদ রেজোয়ান চলনবিলের একজন কৃতি সন্তান। তার বাবা প্রয়াত  মোজাম্মেল হক নাটোর-৪ ( গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম ) আসনের  সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর
blank

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফি অনুষদের নতুন ডিন ড.এ.বি.এম. সাইফুল ইসলাম

চলনবিলের ভাসমান বিদ্যালয়ের বিশ্বজয়, ইউনেস্কো কনফুসিয়াস পুরস্কার পেল সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থা

প্রকাশের সময় : ৭ ঘন্টা আগে
blank

চলনবিল অঞ্চলের দুর্গম ও জলাবদ্ধ এলাকার শিশু-কিশোরদের কাছে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার ব্যতিক্রমী উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশের সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থা ইউনেস্কো কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কার-২০২৫ অর্জন করেছে। উদ্ভাবনী সৌরশক্তিচালিত ভাসমান বিদ্যালয় প্রকল্পের জন্য সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে এ আন্তর্জাতিক সম্মাননা গ্রহণ করেছে।

ইউনেস্কো ঢাকার কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিক এনগেজমেন্ট বিভাগের অ্যাসোসিয়েট অফিসার রাকিবুর রহমান তামিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বুধবার (১০ জুন) রাজধানীর হলিডে ইন ঢাকা সিটি সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পুরস্কারটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যুরো অব নন-ফরমাল এডুকেশনের (বিএনএফই) মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দেবব্রত চক্রবর্তী এবং ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশনের (ক্যাম্পে) নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ও অফিস প্রধান ড. সুসান ভাইজ। সূচনা পর্বে ইউনেস্কো ঢাকার শিক্ষা বিভাগের প্রধান নোরিহিদে ফুরুকাওয়া ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা পুরস্কার-২০২৫ এবং এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল যুগে সাক্ষরতার প্রসার’ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষা পৌঁছে দিতে উদ্ভাবনী উদ্যোগের গুরুত্ব অপরিসীম। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম এলাকায় শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্যোগগুলো বিশেষভাবে কার্যকর। এসব উদ্যোগ শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে সহায়তা করে।

২০২৫ সালে সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার পাশাপাশি আয়ারল্যান্ডের ন্যাশনাল অ্যাডাল্ট লিটারেসি এজেন্সি (নালা) এবং মরক্কোর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও ইউনেস্কো কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা তরুণদের জন্য উদ্ভাবনী সাক্ষরতা কর্মসূচি বাস্তবায়নের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

ড. সুসান ভাইজ বলেন, সাক্ষরতা কেবল পড়তে ও লিখতে শেখার বিষয় নয়; এটি মানুষকে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জীবনের সুযোগ কাজে লাগানো এবং সমাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সক্ষমতা দেয়। দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আজীবন শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোর গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে।

সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার ভাসমান বিদ্যালয় প্রকল্প বাংলাদেশের বৃহত্তম জলাভূমি অঞ্চল চলনবিলে শিক্ষা বিস্তারের এক অনন্য উদ্যোগ। দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বর্ষাকালে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে অনেক শিশুর পক্ষে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। এ বাস্তবতায় শ্রেণিকক্ষের সকল সুবিধাসম্পন্ন নৌকাভিত্তিক ভাসমান বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

স্থানীয় নৌকা নির্মাণ প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নির্মিত এসব নৌকায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাও সংযোজন করা হয়েছে। বর্তমানে সিধুলাই ৫৬টি নৌকা পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ২৬টি ভাসমান শ্রেণিকক্ষ, ১০টি ভাসমান গ্রন্থাগার ও কম্পিউটার ল্যাব এবং ৮টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য নৌকা স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলা ও পরিবহন কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার নির্বাহী পরিচালক স্থপতি মোহাম্মদ রেজোয়ান বলেন, স্থানীয় মানুষের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতেই টেকসই সমাধান গড়ে ওঠে। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিরলসভাবে কাজ করা অসংখ্য মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যতে আরও মানুষের কাছে পৌঁছানোর অনুপ্রেরণা।

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সাল থেকে সাক্ষরতা ক্ষেত্রে উৎকর্ষতা ও উদ্ভাবনের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা পুরস্কার প্রদান করে আসছে। চীন সরকারের অর্থায়নে প্রদত্ত ইউনেস্কো কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কারের অর্থমূল্য ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। প্রতি বছর কার্যকর সাক্ষরতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অঞ্চলের প্রাপ্তবয়স্ক ও বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা তরুণদের শিক্ষায় অবদানের জন্য বিশ্বের তিনটি প্রতিষ্ঠান বা উদ্যোগকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

এর আগে বাংলাদেশ থেকে ফ্রেন্ডশিপ ২০২৩ সালে এবং ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ২০১৩ সালে এই মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছিল।

সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার নির্বাহী পরিচালক স্থপতি মোহাম্মদ রেজোয়ান চলনবিলের একজন কৃতি সন্তান। তার বাবা প্রয়াত  মোজাম্মেল হক নাটোর-৪ ( গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম ) আসনের  সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন।