আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নাটোরের বড়াইগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মৌখাড়া পশুর হাটে এবার নতুন আকর্ষণ হিসেবে দেখা মিলেছে মরুভূমির প্রাণী দুম্বার। শুক্রবার (২২ মে) কুরবানির আগের শেষ সাপ্তাহিক হাটে তিনটি দুম্বা বিক্রি হয়ে এলাকাজুড়ে চমক সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, গাইবান্ধা সদর থেকে খামারি আব্দুর রহিম তিনটি দুম্বা নিয়ে হাটে আসেন। পরে কুষ্টিয়া থেকে আসা দুই ক্রেতা মোট ২ লাখ ৬০ হাজার টাকায় দুম্বাগুলো কিনে নেন। এছাড়া হাটসংলগ্ন পাথুরিয়া গ্রামের খামারি আব্দুল হান্নান সরকারকেও নিজের খামারে লালন করা দুম্বা বিক্রি করতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের মতে, শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী মৌখাড়া হাটে এবারই প্রথম দুম্বা কেনাবেচার ঘটনা ঘটলো।
খামারি আব্দুল হান্নান জানান, তার খামারে বর্তমানে প্রায় ৬০টি দুম্বা রয়েছে। এর মধ্যে ৪০টির বেশি কুরবানির জন্য প্রস্তুত। জাত ও আকারভেদে প্রতিটি দুম্বার দাম ১ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বিক্রিও হয়েছে।
তিনি বলেন, কুরবানির সময় দুম্বার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। অনেকেই তার খামার থেকে দুম্বা কিনে ছোট পরিসরে খামার গড়ে তুলছেন। নিজের খামারের পাশাপাশি অন্য খামারিদের উৎপাদিত দুম্বা বিক্রিতেও তিনি সহায়তা করছেন।
আব্দুল হান্নান আরও জানান, ২০১০ সালের দিকে ব্যতিক্রমধর্মী কিছু করার চিন্তা থেকে তিনি মরু অঞ্চলের গারল পালন শুরু করেন। পরে এর সঙ্গে দুম্বা যুক্ত করেন। প্রাথমিকভাবে ভারত থেকে নারী ও পুরুষ জাতের ৩০টি দুম্বা এনে খামার শুরু করা হয়। বর্তমানে ৩২ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা তার খামারে ছাগল, গারল ও দুম্বা পালন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, মরুভূমির প্রাণী হলেও স্থানীয় পরিবেশে দুম্বাগুলো ভালোভাবেই মানিয়ে নিয়েছে। তাদের তাজা ঘাসের পাশাপাশি প্রতিদিন খড় ও ভুসি খাওয়ানো হয়।
মৌখাড়া হাটের ব্যবসায়ী মফিদুল ইসলাম বলেন, “জেলার সবচেয়ে বড় এ পশুর হাটে আগে কখনও দুম্বা বিক্রি হতে দেখিনি। এবার দুম্বা কেনাবেচা দেখে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।”
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় দুম্বা এখন এ অঞ্চলের আবহাওয়ার সঙ্গেও খাপ খাইয়ে নিতে পারছে।
তিনি আরও জানান, উপজেলায় এবার ৩ হাজার ২৪টি খামারে মোট ৬৬ হাজার ২৮১টি পশু কুরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। যেখানে স্থানীয় চাহিদা ৩৪ হাজার ৩৮৩টি, সেখানে উৎপাদন হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ফলে উদ্বৃত্ত ৩১ হাজার ৮৯৮টি পশু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি 

















