যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের পাঠানো পাল্টা জবাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরান তাদের অবস্থান জানালেও তা ওয়াশিংটনের মনঃপুত হয়নি।
রোববার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা না দিয়েই তিনি লেখেন, “আমি মাত্রই ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের পাঠানো জবাবটি পড়লাম। এটি আমার মোটেও পছন্দ হয়নি—এটি পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।”
ইরানের প্রস্তাবে যা ছিল:
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম-এর তথ্যমতে, তেহরানের প্রস্তাবে কয়েকটি মূল শর্ত ছিল:
-
সবগুলো ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা (বিশেষ করে লেবানন পরিস্থিতি)।
-
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
-
ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার।
-
তেল বিক্রিসহ ইরানের ওপর আরোপিত সকল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।
-
ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর কোনো হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা প্রদান।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরান তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একাংশের মাত্রা কমিয়ে আনা এবং অবশিষ্ট অংশ তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরের প্রস্তাবও দিয়েছিল। তেহরানের এই বার্তাটি পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছানো হয়। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার আগে লড়ায়ের ময়দানে পূর্ণ স্থিতিশীলতা চায় ইরান, যা ট্রাম্পের কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে।
এই প্রত্যাখ্যানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নতুন করে সংকটে পড়ল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 


















