ঢাকা শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বড়াইগ্রামে পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্রে ডাকাতি: ১৩ ডাকাত গ্রেপ্তার, কোটি টাকার সরঞ্জাম উদ্ধার

blank

নাটোরের বড়াইগ্রামে পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্রে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতির রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ১৩ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইসঙ্গে লুণ্ঠিত মালামাল ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে নাটোর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলমসহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন- বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বীরপলি গ্রামের মো. তসলিম প্রামাণিক (৪৮), পাবনার ফরিদপুর উপজেলার নেছারাবাদ শিববাড়ি এলাকার মো. রোকন মোল্লা (৩৭) ও চিথুলিয়া (মোল্লাপাড়া) গ্রামের মো. হয়রত আলী ওরফে মন্টু মোল্লা (৪৬), চাটমোহর উপজেলার দোলং সরদারপাড়া এলাকার মো. শিহাব উদ্দিন (২৬), সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বড়পওতা (দক্ষিণপাড়া) গ্রামের মো. রুহুল আমিন (৩৮), বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বিলহামলা (নয়পাড়া) গ্রামের মো. আব্দুস সালাম (৩৫), বেতগাড়ী মালোগাড়ী গ্রামের মো. বাছেদ মন্ডল (৩৭), জামালপুরের ইসলামপুর থানার ডিগ্রীরচর গ্রামের মো. সৈকত (২৫), গাজীপুরের শ্রীপুর থানার মাওনা উত্তরপাড়ার মো. হারুন অর রশীদ (৪০) ও নয়নপুর (ফরিদপুর) গ্রামের মো. উজ্জল মোড়ল (৫০), নাটোরের সদর উপজেলার বড়বাড়িয়া কুমিল্লাপাড়া এলাকার মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৯), জালালাবাদ (কাফুরিয়া) গ্রামের মো. সাইফুল ইসলাম (৪২) এবং চকরামপুর (কামারপাড়া) এলাকার মো. নায়েব আলী (৪৫)।

blank

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৬ মার্চ  দিবাগত রাতে বড়াইগ্রামের বনপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন একটি পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্রে ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল হামলা চালায়। তারা সেখানে কর্মরত চারজন নিরাপত্তা প্রহরীকে মারধর করে এবং হাত-পা ও চোখ বেঁধে জিম্মি করে রাখে। এরপর তারা প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও ব্যাটারি লুট করে ট্রাকে করে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় সিগনি ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক অনিক কুমার বিশ্বাস বড়াইগ্রাম থানায় একটি মামলা করেন।

মামলা পরবর্তী সময়ে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ যৌথভাবে নাটোর, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় টানা ৪৮ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে এই ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত রুহুল আমিন ও সৈকত এই ডাকাতির মূল সমন্বয়ক এবং তারা জেলখানায় বসে এই অপরাধের পরিকল্পনা করেছিল। অভিযানে ৩৫০টি ব্যাটারি সেল, ডাকাতিতে ব্যবহৃত ট্রাক, ১০টি মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা পেশাদার ডাকাত এবং তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার ও অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে।

blank

বড়াইগ্রামে পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্রে ডাকাতি: ১৩ ডাকাত গ্রেপ্তার, কোটি টাকার সরঞ্জাম উদ্ধার

বড়াইগ্রামে পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্রে ডাকাতি: ১৩ ডাকাত গ্রেপ্তার, কোটি টাকার সরঞ্জাম উদ্ধার

প্রকাশের সময় : ১১ মিনিট আগে
blank

নাটোরের বড়াইগ্রামে পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্রে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতির রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ১৩ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইসঙ্গে লুণ্ঠিত মালামাল ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে নাটোর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলমসহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন- বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বীরপলি গ্রামের মো. তসলিম প্রামাণিক (৪৮), পাবনার ফরিদপুর উপজেলার নেছারাবাদ শিববাড়ি এলাকার মো. রোকন মোল্লা (৩৭) ও চিথুলিয়া (মোল্লাপাড়া) গ্রামের মো. হয়রত আলী ওরফে মন্টু মোল্লা (৪৬), চাটমোহর উপজেলার দোলং সরদারপাড়া এলাকার মো. শিহাব উদ্দিন (২৬), সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বড়পওতা (দক্ষিণপাড়া) গ্রামের মো. রুহুল আমিন (৩৮), বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বিলহামলা (নয়পাড়া) গ্রামের মো. আব্দুস সালাম (৩৫), বেতগাড়ী মালোগাড়ী গ্রামের মো. বাছেদ মন্ডল (৩৭), জামালপুরের ইসলামপুর থানার ডিগ্রীরচর গ্রামের মো. সৈকত (২৫), গাজীপুরের শ্রীপুর থানার মাওনা উত্তরপাড়ার মো. হারুন অর রশীদ (৪০) ও নয়নপুর (ফরিদপুর) গ্রামের মো. উজ্জল মোড়ল (৫০), নাটোরের সদর উপজেলার বড়বাড়িয়া কুমিল্লাপাড়া এলাকার মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৯), জালালাবাদ (কাফুরিয়া) গ্রামের মো. সাইফুল ইসলাম (৪২) এবং চকরামপুর (কামারপাড়া) এলাকার মো. নায়েব আলী (৪৫)।

blank

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৬ মার্চ  দিবাগত রাতে বড়াইগ্রামের বনপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন একটি পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্রে ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল হামলা চালায়। তারা সেখানে কর্মরত চারজন নিরাপত্তা প্রহরীকে মারধর করে এবং হাত-পা ও চোখ বেঁধে জিম্মি করে রাখে। এরপর তারা প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও ব্যাটারি লুট করে ট্রাকে করে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় সিগনি ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক অনিক কুমার বিশ্বাস বড়াইগ্রাম থানায় একটি মামলা করেন।

মামলা পরবর্তী সময়ে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ যৌথভাবে নাটোর, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় টানা ৪৮ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে এই ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত রুহুল আমিন ও সৈকত এই ডাকাতির মূল সমন্বয়ক এবং তারা জেলখানায় বসে এই অপরাধের পরিকল্পনা করেছিল। অভিযানে ৩৫০টি ব্যাটারি সেল, ডাকাতিতে ব্যবহৃত ট্রাক, ১০টি মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা পেশাদার ডাকাত এবং তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার ও অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে।