ঢাকা শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতি পদে খন্দকার মোশাররফের নাম সবচেয়ে এগিয়ে, আলোচনায় আরও একজন

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১২:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 54
blank

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির বর্ষীয়ান সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন-এর নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির আরেক প্রভাবশালী সদস্য ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান-এর নামও আলোচনায় আছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ এবং বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমান রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ

রাষ্ট্রপতি পদে এই পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন-এর সম্ভাব্য পদত্যাগের ইঙ্গিতকে কেন্দ্র করে। গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা Reuters-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৭৫ বছর বয়সী রাষ্ট্রপতি জানান, তিনি স্বেচ্ছায় পদ ছেড়ে দিতে আগ্রহী।

সংবিধান অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত থাকলেও, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নতুন সরকার গঠনের পরই সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা তিনি প্রকাশ করেছিলেন। সে সময় বঙ্গভবন ও বিভিন্ন দপ্তর থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলার ঘটনাকে অপমানজনক বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এসব কারণে বিএনপির সরকার গঠনের পরপরই রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

খন্দকার মোশাররফ কেন এগিয়ে

রাষ্ট্রপতি পদের দৌড়ে এগিয়ে থাকা ৭৯ বছর বয়সী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুমিল্লা-১ আসন থেকে পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং এর আগে জ্বালানি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসে জনমত গঠনে তার ভূমিকার কথাও দলীয়ভাবে গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়।

এর আগেও দলীয় জনসভায় প্রকাশ্যে বলা হয়েছিল—বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেক রহমান হবেন প্রধানমন্ত্রী এবং খন্দকার মোশাররফ হবেন রাষ্ট্রপতি। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি নিজেকে রাজনৈতিক প্রচারের আড়ালে রাখছেন, যাতে তাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি না হয়—যা তার রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।

blank

নজরুল ইসলাম খানের বিকল্প ভূমিকা

অন্যদিকে, নজরুল ইসলাম খান রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় থাকলেও দলের ভেতরে একটি বড় অংশ তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দেখতে আগ্রহী। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-এর জানাজায় কেন্দ্রীয় বক্তা হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভা গঠনের পর আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতির নাম চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। আপাতত সবার দৃষ্টি মঙ্গলবারের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের দিকে—সেখান থেকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে আগাম ইঙ্গিত মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

blank

পারস্য উপসাগরে ইরানের অবরোধ: সংকটে ২ সহস্রাধিক জাহাজ ও ২০ হাজার নাবিক

রাষ্ট্রপতি পদে খন্দকার মোশাররফের নাম সবচেয়ে এগিয়ে, আলোচনায় আরও একজন

প্রকাশের সময় : ১২:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
blank

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির বর্ষীয়ান সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন-এর নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির আরেক প্রভাবশালী সদস্য ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান-এর নামও আলোচনায় আছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ এবং বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমান রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ

রাষ্ট্রপতি পদে এই পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন-এর সম্ভাব্য পদত্যাগের ইঙ্গিতকে কেন্দ্র করে। গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা Reuters-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৭৫ বছর বয়সী রাষ্ট্রপতি জানান, তিনি স্বেচ্ছায় পদ ছেড়ে দিতে আগ্রহী।

সংবিধান অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত থাকলেও, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নতুন সরকার গঠনের পরই সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা তিনি প্রকাশ করেছিলেন। সে সময় বঙ্গভবন ও বিভিন্ন দপ্তর থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলার ঘটনাকে অপমানজনক বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এসব কারণে বিএনপির সরকার গঠনের পরপরই রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

খন্দকার মোশাররফ কেন এগিয়ে

রাষ্ট্রপতি পদের দৌড়ে এগিয়ে থাকা ৭৯ বছর বয়সী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুমিল্লা-১ আসন থেকে পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং এর আগে জ্বালানি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসে জনমত গঠনে তার ভূমিকার কথাও দলীয়ভাবে গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়।

এর আগেও দলীয় জনসভায় প্রকাশ্যে বলা হয়েছিল—বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেক রহমান হবেন প্রধানমন্ত্রী এবং খন্দকার মোশাররফ হবেন রাষ্ট্রপতি। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি নিজেকে রাজনৈতিক প্রচারের আড়ালে রাখছেন, যাতে তাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি না হয়—যা তার রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।

blank

নজরুল ইসলাম খানের বিকল্প ভূমিকা

অন্যদিকে, নজরুল ইসলাম খান রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় থাকলেও দলের ভেতরে একটি বড় অংশ তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দেখতে আগ্রহী। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-এর জানাজায় কেন্দ্রীয় বক্তা হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভা গঠনের পর আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতির নাম চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। আপাতত সবার দৃষ্টি মঙ্গলবারের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের দিকে—সেখান থেকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে আগাম ইঙ্গিত মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।