সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের টেকুয়াপাড়া গ্রামে রক্তমাখা চিঠি পাঠিয়ে হত্যা ও ডাকাতির হুমকি দেওয়ার ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত পাঁচ দিনে গ্রামের অন্তত ১৫টি বাড়িতে নিজেকে ‘রঘু ডাকাত’ পরিচয় দিয়ে এসব হুমকিমূলক চিঠি পাঠিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় টেকুয়াপাড়া গ্রামের খামারি আমজাদ হোসেন শাহজাদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পরিস্থিতি পরিদর্শনে শনিবার দিবাগত রাতে ঘটনাস্থলে যান সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম শানতু। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান ও থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম। তারা এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করে নিরাপত্তা জোরদারের আশ্বাস দেন।
গ্রামের বাসিন্দা হাজি রফিকুল ইসলাম, আজাদুল ইসলাম ও সানোয়ার হোসেন জানান, চিঠিগুলোতে লেখা রয়েছে— “আগামী রাতে আপনাদের বাড়িতে ডাকাতি হবে। দরজা খোলা রাখবেন, না হলে জিন্দা লাশ বানিয়ে দেওয়া হবে। ইতি— রঘু ডাকাত।” প্রতিটি চিঠিতে আলাদা কোড নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে একই গ্রামের কৃষক আবু সাঈদের বাড়িতে গরু লুটের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তার মেয়ে বিথি খাতুনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। রক্তমাখা ওই চিঠিতে মেয়েটিকে লক্ষ্য করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
স্থানীয়রা আরও জানান, গত মঙ্গলবার রাতে চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে আবু হোসেনের পরিবারের সদস্যদের অচেতন করে একটি ষাঁড় গরু লুট করা হয়। এছাড়া আমজাদ হোসেনের বাড়ির শোকেসের লকার ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণ ও রূপার গয়নাসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
শাহজাদপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি টহল ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামবাসীর মধ্যে টর্চলাইট, বাঁশি ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি 


















