পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় বাবার বাড়িতে টাকা পাঠানোকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে রোমেনা খাতুন (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে গলা টিপে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী আব্দুর রহিমের (৪৫) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ধুলাউড়ি ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নিজ বাড়ি থেকে আব্দুর রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান।
নিহত রোমেনা খাতুন একই ইউনিয়নের কাশিনাথপুর গ্রামের মরহম আলীর মেয়ে। তাঁর স্বামী আব্দুর রহিম চরপাড়া গ্রামের রইজ মোল্লার ছেলে।
স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক যুগ আগে আব্দুর রহিম সৌদি আরবে যান। সেখানে ছয় বছর থাকার পর বর্তমানে মালয়েশিয়ায় কর্মরত রয়েছেন। প্রায় দুই মাস আগে ছুটিতে বাড়িতে আসেন তিনি। প্রবাসে থাকা অবস্থায় স্ত্রী রোমেনা খাতুন বাবার বাড়িতে টাকা পাঠানো নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
সোমবার রাতে গচ্ছিত টাকা বাবার বাড়িতে পাঠানোকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আব্দুর রহিম তাঁর স্ত্রীকে গলা টিপে ধরলে তিনি মারা যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত আব্দুর রহিম হত্যার কথা স্বীকার করে জানান, প্রবাসে থাকা অবস্থায় তাঁর উপার্জনের বেশির ভাগ টাকা স্ত্রী বাবার বাড়িতে পাঠাতেন। সোমবার তাঁকে না জানিয়ে গচ্ছিত ১৩ হাজার টাকা আবারও বাবার বাড়িতে পাঠানোয় তিনি ক্ষুব্ধ হন। এ নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীর গলা টিপে ধরেন। এতে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে গলা টিপে ধরলে স্ত্রী মারা যাবেন, তা তিনি বুঝতে পারেননি বলে দাবি করেন।
নিহতের বাবা মরহম আলী জানান, মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে মেয়ের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁকে জানানো হয় এবং দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। তবে মেয়ের গোসলের সময় শরীরে মারধর ও গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখে তাঁর সন্দেহ হয়। পরে তিনি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাঁর মেয়েকে হত্যার বিষয়টি জানতে পারে।
তিনি আরও বলেন, তাঁর মেয়ের দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। মেয়ের হত্যার বিচার দাবি করে তিনি অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে সন্দেহ হলে তাঁর স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করলে তাঁকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার সকালে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

পাবনা প্রতিনিধি 

















