ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে এক পুলিশ সদস্যকে মারধর ও অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

blank

রাজধানীর মিরপুরের কালশীতে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় এক পুলিশ সদস্যকে ঘিরে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মারধরের একপর্যায়ে ওই পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে রাস্তায় ফেলে দেন বিক্ষোভকারীরা।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশন থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে কালশী সড়কে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সুপারশপের সামনে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, পুলিশ সদস্য মো. সাইমন পল্লবী থানা থেকে সংঘর্ষস্থলে যাচ্ছিলেন।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ওই পুলিশ সদস্য বর্তমানে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল, রাজারবাগে চিকিৎসাধীন।

এদিকে রাস্তার কাছের একটি বাসার বারান্দা থেকে পুলিশ সদস্যকে মারধরের ভিডিও ধারণ করেন এক নারী। নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করছিল। এ সময় মিরপুর-১২ নম্বরের একটি সড়কে কয়েকজন পুলিশ সদস্য বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দেন। একপর্যায়ে তারা আন্দোলনকারীদের মাঝখানে পড়ে যান।

আন্দোলনকারীরা চারদিক থেকে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ছিলেন জানিয়ে ওই নারী বলেন, এ সময় পুলিশ সদস্যরা সরে গিয়ে আশপাশে অবস্থান নেন। তবে একজন পুলিশ সদস্যকে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ঘিরে ধরে মারধর শুরু করে। তখন আশপাশে আর কোনো পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়নি।

ওই নারী বলেন, ‘হেরা পুলিশডারে মাটিত ফালাই দিসে। একজনে বন্দুক ছিনাই নিয়া রাস্তায় ফিইক্কা মাইরা ফালাই দিসে। পরে অনেকে মিইলা ইচ্ছামতো পিডাইসে। ওগোর মধ্যেই আবার কিছু লোকজন পুলিশরে বাঁচাই দিয়া ওই দিক (মিরপুর-১১ মেট্রোর দিকে) পাঠাই দিসে।’

ঘটনাস্থলের সুপারশপের এক কর্মীও পুলিশ সদস্যকে মারধরের বিষয়টি দেখেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি ওই পুলিশ সদস্যকে মাটিতে ফেলে মারধর শুরু করেন। পরে তারা দোকানের শাটার বন্ধ করে দোতলায় চলে যান। এরপর কী ঘটেছে, তা আর দেখতে পারেননি।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পিওএম (দক্ষিণ) বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) তৌহিদুল আরিফ সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা এখনো কিছু জানেন না। খোঁজ নিয়ে পরে এ বিষয়ে কথা বলতে পারবেন।

এর আগে, আজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা প্রায় সোয়া ১১টা পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে পোশাকশ্রমিকদের সংঘর্ষ চলে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পাশাপাশি সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

জনপ্রিয় খবর
blank

বড়াইগ্রামে প্রমিলা ফুটবল ম্যাচ দেখতে মাঠে হাজারো দর্শক, উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা

মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে এক পুলিশ সদস্যকে মারধর ও অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ৬ ঘন্টা আগে
blank

রাজধানীর মিরপুরের কালশীতে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় এক পুলিশ সদস্যকে ঘিরে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মারধরের একপর্যায়ে ওই পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে রাস্তায় ফেলে দেন বিক্ষোভকারীরা।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশন থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে কালশী সড়কে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সুপারশপের সামনে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, পুলিশ সদস্য মো. সাইমন পল্লবী থানা থেকে সংঘর্ষস্থলে যাচ্ছিলেন।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ওই পুলিশ সদস্য বর্তমানে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল, রাজারবাগে চিকিৎসাধীন।

এদিকে রাস্তার কাছের একটি বাসার বারান্দা থেকে পুলিশ সদস্যকে মারধরের ভিডিও ধারণ করেন এক নারী। নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করছিল। এ সময় মিরপুর-১২ নম্বরের একটি সড়কে কয়েকজন পুলিশ সদস্য বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দেন। একপর্যায়ে তারা আন্দোলনকারীদের মাঝখানে পড়ে যান।

আন্দোলনকারীরা চারদিক থেকে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ছিলেন জানিয়ে ওই নারী বলেন, এ সময় পুলিশ সদস্যরা সরে গিয়ে আশপাশে অবস্থান নেন। তবে একজন পুলিশ সদস্যকে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ঘিরে ধরে মারধর শুরু করে। তখন আশপাশে আর কোনো পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়নি।

ওই নারী বলেন, ‘হেরা পুলিশডারে মাটিত ফালাই দিসে। একজনে বন্দুক ছিনাই নিয়া রাস্তায় ফিইক্কা মাইরা ফালাই দিসে। পরে অনেকে মিইলা ইচ্ছামতো পিডাইসে। ওগোর মধ্যেই আবার কিছু লোকজন পুলিশরে বাঁচাই দিয়া ওই দিক (মিরপুর-১১ মেট্রোর দিকে) পাঠাই দিসে।’

ঘটনাস্থলের সুপারশপের এক কর্মীও পুলিশ সদস্যকে মারধরের বিষয়টি দেখেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি ওই পুলিশ সদস্যকে মাটিতে ফেলে মারধর শুরু করেন। পরে তারা দোকানের শাটার বন্ধ করে দোতলায় চলে যান। এরপর কী ঘটেছে, তা আর দেখতে পারেননি।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পিওএম (দক্ষিণ) বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) তৌহিদুল আরিফ সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা এখনো কিছু জানেন না। খোঁজ নিয়ে পরে এ বিষয়ে কথা বলতে পারবেন।

এর আগে, আজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা প্রায় সোয়া ১১টা পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে পোশাকশ্রমিকদের সংঘর্ষ চলে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পাশাপাশি সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।