বিশ্বে প্রতি ৩০ সেকেন্ডে একজন মানুষ হেপাটাইটিসজনিত জটিলতায় মারা যাচ্ছেন। প্রতি বছর এ রোগে প্রাণ হারান প্রায় ১৩ লাখ মানুষ। বাংলাদেশেও হেপাটাইটিসের কারণে প্রতিবছর প্রায় ২২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আক্রান্তদের প্রায় ৯০ শতাংশই জানেন না যে তারা ভাইরাসটিতে আক্রান্ত। তবে সময়মতো পরীক্ষা, টিকাদান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করলে এ রোগে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মঙ্গলবার বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস ও লিভার কেয়ার সোসাইটির পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রামের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ২৯ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি বা সি ভাইরাস বহন করছেন। কিন্তু অধিকাংশ আক্রান্ত ব্যক্তি জানেন না যে তাদের শরীরে ভাইরাসটি রয়েছে। দীর্ঘদিন উপসর্গহীন অবস্থায় থাকার পর এই ভাইরাস লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের মতো প্রাণঘাতী রোগের কারণ হতে পারে। বিশ্বব্যাপী লিভার ক্যানসারে প্রতি তিনজন মৃত্যুর মধ্যে দুজনের জন্য হেপাটাইটিস বি বা সি ভাইরাস দায়ী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লিভার কেয়ার সোসাইটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হেপাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ একরাম হোসেন এবং চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক ওমর ফারুক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, হেপাটাইটিস নির্মূলে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তিনি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে লিভার কেয়ার সোসাইটির ভূমিকার প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন লিভার কেয়ার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক তারেক শামস।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, যাদের হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তাদের উপসর্গ না থাকলেও পরীক্ষা করানো জরুরি। তিনি বলেন, সময়মতো টিকা গ্রহণ, নিয়মিত স্ক্রিনিং, বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে হেপাটাইটিসজনিত মৃত্যুর হার অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানে লিভার কেয়ার সোসাইটির পাঁচ বছরের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। এছাড়া অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিনামূল্যে হেপাটাইটিস বি স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। পরে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

অনলাইন ডেস্ক 


















