ঢাকা রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বঙ্গবন্ধুর ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

blank

আজ ১৫ আগস্ট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ভোরে একদল বিপথগামী সেনাসদস্য রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নির্মমভাবে হত্যা করে।

সেই হত্যাকাণ্ডে নিহত হন বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল এবং বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের।

এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুকে রক্ষায় এগিয়ে আসা তাঁর সামরিক সচিব কর্নেল জামিল উদ্দীন, এসবি কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান এবং সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হকও ওই হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারান।

একই রাতে সেনাসদস্যদের আরেকটি দল বঙ্গবন্ধুর ভাগনে ও যুবলীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মনির বাসভবনে হামলা চালায়। সেখানে শেখ মনি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনিকে হত্যা করা হয়। একই রাতে বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসভবনেও হামলা চালানো হয়। এতে আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তাঁর মেয়ে বেবি, ছেলে আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, ভাতিজা সজীব সেরনিয়াবাত এবং আত্মীয় আবদুল নঈম খান নিহত হন।

সে সময় বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থান করায় তাঁরা প্রাণে রক্ষা পান।

স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করে। মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। ১৯৭৫ সালের শুরুতে তিনি একদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠা করেন। এ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক, সমালোচনা ও অসন্তোষের জন্ম দেয়। এর মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও বিরোধিতা বাড়তে থাকে, যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে।

এই হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং এ দিন সরকারি ছুটি নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৯ সাল থেকে টানা ১৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছিল।

তবে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ১৫ আগস্টের সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ফলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালনের ধরনেও এসেছে পরিবর্তন।

জনপ্রিয় খবর
blank

বঙ্গবন্ধুর ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বঙ্গবন্ধুর ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশের সময় : এক ঘন্টা আগে
blank

আজ ১৫ আগস্ট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ভোরে একদল বিপথগামী সেনাসদস্য রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নির্মমভাবে হত্যা করে।

সেই হত্যাকাণ্ডে নিহত হন বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল এবং বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের।

এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুকে রক্ষায় এগিয়ে আসা তাঁর সামরিক সচিব কর্নেল জামিল উদ্দীন, এসবি কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান এবং সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হকও ওই হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারান।

একই রাতে সেনাসদস্যদের আরেকটি দল বঙ্গবন্ধুর ভাগনে ও যুবলীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মনির বাসভবনে হামলা চালায়। সেখানে শেখ মনি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনিকে হত্যা করা হয়। একই রাতে বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসভবনেও হামলা চালানো হয়। এতে আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তাঁর মেয়ে বেবি, ছেলে আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, ভাতিজা সজীব সেরনিয়াবাত এবং আত্মীয় আবদুল নঈম খান নিহত হন।

সে সময় বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থান করায় তাঁরা প্রাণে রক্ষা পান।

স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করে। মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। ১৯৭৫ সালের শুরুতে তিনি একদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠা করেন। এ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক, সমালোচনা ও অসন্তোষের জন্ম দেয়। এর মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও বিরোধিতা বাড়তে থাকে, যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে।

এই হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং এ দিন সরকারি ছুটি নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৯ সাল থেকে টানা ১৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছিল।

তবে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ১৫ আগস্টের সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ফলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালনের ধরনেও এসেছে পরিবর্তন।