দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম চূড়ান্ত করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। শুক্রবার (৮ মে) ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে।
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিজেপি। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই কে হচ্ছেন পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ছিল। অবশেষে দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বাংলার ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারীর ওপরেই আস্থা রাখল। নির্বাচনি প্রচারণার শুরু থেকেই বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বাংলার শাসনভার সামলাবেন কোনো স্থানীয় নেতা; শুভেন্দুর মনোনয়ন সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তবায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বাংলার ক্ষমতার পালাবদলের ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ২০০৭ সালে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান সেনাপতি হিসেবে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে রাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের মেরুকরণ তৈরি করেন তিনি। এবারের নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর তাকেই নবান্নের মসনদে বসানোর সিদ্ধান্ত নিল বিজেপি হাইকমান্ড।
অন্যদিকে, এই ফলাফল মেনে নিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ এনেছেন। যদিও ২০৭টি আসন পেয়ে বিজেপি এককভাবে সরকার গঠনের পথে সুদৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নাম ঘোষণার পর উচ্ছ্বসিত শুভেন্দু অধিকারী তার সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “২০১১ সালের যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল, আমি তার অংশ ছিলাম। আর ২০২৬-এর এই ‘আসল পরিবর্তন’-এর কাণ্ডারি হতে পারা আমার জন্য গর্বের।”
আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন শুভেন্দু অধিকারী।

অনলাইন ডেস্ক 















