সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে দলকে রাজপথে নতুনভাবে সক্রিয় করতে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এর ধারাবাহিকতায় ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দলীয় সূত্রমতে, সবকিছু ঠিক থাকলে আসন্ন ঈদের আগেই জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হতে পারে।
২০২২ সালে এস এম জিলানীকে সভাপতি এবং রাজীব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তারা দুজনই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা তৈরি হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর মেয়াদী এই কমিটির মেয়াদ গত বছরের সেপ্টেম্বরে শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। আগামী রাজনৈতিক কর্মসূচি ও জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনে নতুন গতি আনাই এখন বিএনপির প্রধান লক্ষ্য।
শীর্ষ পদে আলোচনায় যাঁরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মূলত তরুণ, ত্যাগী এবং রাজপথের পরীক্ষিত নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। শীর্ষ পদগুলোতে যাঁদের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে:
-
বর্তমান কমিটির নেতা: বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াছিন আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক কাজী মোখতার হোসাইন, আব্দুর রহিম হাওলাদার সেতু, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সাদরেজ জামান এবং প্রচার সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম জাকির।
-
সাবেক ছাত্রনেতা: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী আব্দুল্লাহ আল মামুন, এম জি মাসুম রাসেল, নজরুল ইসলাম নোমান, শেখ ফরিদ হোসেন, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল এবং অধ্যাপক ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল।
বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, দল এখন সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হতে চায়। তাই সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, মামলা-হামলার শিকার হওয়া, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে— এমন নেতাদেরই নতুন কমিটিতে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে একটি কার্যকর ও গতিশীল কমিটি উপহার দিতে চায় হাইকমান্ড।
নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে ইতোমধ্যে দলীয় পর্যায়ে কয়েক দফা আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও সম্ভাব্য নেতৃত্বের বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে বলে জানা গেছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, স্বেচ্ছাসেবক দলের পাশাপাশি একই সময়ে ছাত্রদল ও যুবদলের নতুন নেতৃত্বও ঘোষণা হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর অঙ্গসংগঠনগুলোতে এমন পরিবর্তন ও নতুন নেতৃত্ব এলে বিএনপির সামগ্রিক সাংগঠনিক কার্যক্রমে বড় ধরনের গতিশীলতা আসবে।

অনলাইন ডেস্ক 

















