ঢাকা শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিনাজপুরের এক হাসপাতালে ৯ মাসে রেকর্ড ৪৯৭ নরমাল ডেলিভারি

blank

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ৪৯৭টি নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও নিরাপদ মাতৃত্বসেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছেন চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফরা। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রসূতিদের আস্থার কেন্দ্র হয়ে উঠছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে গাইনি বিশেষজ্ঞ, সার্জন ও অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রসূতিসেবা চালু রাখতে নরমাল ডেলিভারির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চারজন মিডওয়াইফ পালাক্রমে দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ, জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্সদের সহযোগিতা এবং মিডওয়াইফদের দক্ষতায় প্রসূতিদের নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ৫৭টি, ফেব্রুয়ারিতে ৭২টি, মার্চে ৫১টি, এপ্রিলে ৪৮টি, মে মাসে ৪৬টি, জুনে ৩৪টি, জুলাইয়ে ৪৯টি, আগস্টে ৬৩টি এবং সেপ্টেম্বরে ৭৭টি নরমাল ডেলিভারি হয়েছে। সব মিলিয়ে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে মোট ৪৯৭টি নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়। মাসভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ে সর্বোচ্চ ৭৭টি ডেলিভারি হয়েছে সেপ্টেম্বরে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শাহরিয়ার পারভেজ বলেন, এখানে গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়া হয়। নরমাল ডেলিভারির পাশাপাশি সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা চালু করা গেলে প্রসূতিসেবার পরিধি আরও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, এ জন্য গাইনি বিশেষজ্ঞ, সার্জন ও অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক পদায়ন করা জরুরি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য প্রসূতিদের অন্যত্র যেতে যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল সংকট দূর করা গেলে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাতৃস্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে স্থানীয় প্রসূতিদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ সহজ হবে এবং নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করার উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে।

জনপ্রিয় খবর
blank

বাগেরহাটে দুই মোটরসাইকেল ও নসিমনের ত্রিমুখী সংঘর্ষে,নিহত ৩

দিনাজপুরের এক হাসপাতালে ৯ মাসে রেকর্ড ৪৯৭ নরমাল ডেলিভারি

প্রকাশের সময় : ৭ ঘন্টা আগে
blank

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ৪৯৭টি নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও নিরাপদ মাতৃত্বসেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছেন চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফরা। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রসূতিদের আস্থার কেন্দ্র হয়ে উঠছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে গাইনি বিশেষজ্ঞ, সার্জন ও অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রসূতিসেবা চালু রাখতে নরমাল ডেলিভারির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চারজন মিডওয়াইফ পালাক্রমে দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ, জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্সদের সহযোগিতা এবং মিডওয়াইফদের দক্ষতায় প্রসূতিদের নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ৫৭টি, ফেব্রুয়ারিতে ৭২টি, মার্চে ৫১টি, এপ্রিলে ৪৮টি, মে মাসে ৪৬টি, জুনে ৩৪টি, জুলাইয়ে ৪৯টি, আগস্টে ৬৩টি এবং সেপ্টেম্বরে ৭৭টি নরমাল ডেলিভারি হয়েছে। সব মিলিয়ে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে মোট ৪৯৭টি নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়। মাসভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ে সর্বোচ্চ ৭৭টি ডেলিভারি হয়েছে সেপ্টেম্বরে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শাহরিয়ার পারভেজ বলেন, এখানে গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়া হয়। নরমাল ডেলিভারির পাশাপাশি সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা চালু করা গেলে প্রসূতিসেবার পরিধি আরও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, এ জন্য গাইনি বিশেষজ্ঞ, সার্জন ও অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক পদায়ন করা জরুরি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য প্রসূতিদের অন্যত্র যেতে যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল সংকট দূর করা গেলে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাতৃস্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে স্থানীয় প্রসূতিদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ সহজ হবে এবং নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করার উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে।