ঢাকা মহানগর পর্যায়ে ২০২৬ সালের শ্রেষ্ঠ বিএনসিসি শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মোঃ আব্দুল বাতেন। দীর্ঘদিন ধরে বিএনসিসি কার্যক্রমে নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব, নেতৃত্বগুণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেম গড়ে তোলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
প্রফেসর মোঃ আব্দুল বাতেনের জন্ম ১১ আগস্ট ১৯৬৯ সালে। তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা গয়াহাটা উদয় তারা উচ্চ বিদ্যালয়ে। তিনি ১৯৮৪ সালে মাধ্যমিক (এসএসসি) এবং ১৯৮৬ সালে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে হিসাববিজ্ঞান বিভাগে ১৯৮৯ সালে অনার্স এবং ১৯৯০ সালে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
শিক্ষকতা পেশায় তিনি ১৯৯৪ সালে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে যোগদান করেন। দীর্ঘ তিন দশকের শিক্ষকতা জীবনে তিনি একজন দক্ষ, নীতিবান ও শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক হিসেবে সুপরিচিত। বর্তমানে তিনি আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিএনসিসি কার্যক্রমে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি ২০১১ সালে ভাটিয়ারী মিলিটারি একাডেমিতে বিএনসিসি প্রি-কমিশন ট্রেনিং সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালে তিনি সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদে কমিশন লাভ করেন। তাঁর দক্ষ নেতৃত্ব ও প্রশিক্ষণমূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬ সালে থানা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ বিএনসিসি শিক্ষক নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০২৬ সালে তাঁকে ঢাকা মহানগর পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ বিএনসিসি শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়, যা তাঁর কর্মজীবনের এক গৌরবোজ্জ্বল অর্জন।
প্রফেসর মোঃ আব্দুল বাতেন কলেজে বিএনসিসি ক্লাব পরিচালনা, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, প্যারেড, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করে আসছেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্ববোধ, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
ব্যক্তি জীবনে তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নের হাসনাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। নিজ এলাকার সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।
শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের আদর্শ সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একজন অনুকরণীয় শিক্ষক হিসেবে প্রফেসর মোঃ আব্দুল বাতেনের এই অর্জন শিক্ষা অঙ্গন ও বিএনসিসি মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তাঁর এই স্বীকৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশ গঠন ও নেতৃত্বে আরও অনুপ্রাণিত করবে।

স্টাফ রিপোর্টার 




















